English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

দাম্পত্যজীবনে ঝগড়ার সমাধান!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

দাম্পত্যজীবনে ঝগড়া চলতেই পারে। তবে কিছু বিবাদের বিষয় আছে যেগুলো খুবই ভয়াবহ রুপ নেয়। তাই বিবাদ থামাতে জানতে হবে । আর এই বিবাদ থামাতে জানা থাকা চাই কৌশল।

সামান্য ঝগড়া থেকে সম্পর্কে অবনতি ঠেকাতে ধৈর্য এবং শান্ত মেজাজ ধরে রাখাটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা করতে পারলে এক কথাতেই ঝগড়া মীমাংসা করে ফেলতে পারবেন। সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের বিবাহ ও পরিবারবিষয়ক পরামর্শক জিল হুইটনি বলেন, “ঝগড়ার সময় সবচাইতে ইতিবাচক কথাটি হতে পারে ‘আমি তোমার যুক্তিটা বুঝতে পেরেছি’ কিংবা ‘এই বিষয়ে তুমি ঠিক বলেছ’ কিংবা এই রকম ভাব প্রকাশ করে এমন যে কোনো বাক্য। মূল বিষয় হল সঙ্গীকে বোঝানো যে, তার কথা আপনি শুনেছেন এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”

 

আরো পড়ুন:- এই শীতে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন!

 

ঝগড়ার সময় এমন কথন সঙ্গীর চোখে আপনাকে অপরাধী হওয়া থেকে বাঁচায়। সঙ্গীর মনে হয়, যাই হোক না কেনো, আপনি সঙ্গীর পক্ষেই আছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ঝগড়া হলেও এই আলাপচারিতায় আপনার মনোযোগ আছে। কলহ ঝেড়ে ফেলে সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে পড়ে অনেকসময়। তবে একে অপরের প্রতি বিরোধিতা কমিয়ে ফেলতে পারলে ঝগড়া মিটমাট করে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। আর সঙ্গীকে দেওয়া কষ্টের পরিমাণও থাকবে অল্প মাত্রায়।

 

আরো পড়ুন:- সন্তান এবং ক্যরিয়ার আমার দুটোই চাই এবং সময়মতো চাই

 

তবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনি কী বলছেন তার চাইতে কীভাবে বলছেন সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সহানুভূতিশীল কথাগুলোই যদি রাগি সুরে বলেন, তবে কোনো লাভ হবে না। তাই নিজেকে শান্ত করে তারপরই এই হাতিয়ার ব্যবহার করতে হবে। আর একান্তই যদি নিজেকে শান্ত করতে না পারেন তবে সঙ্গীকে জানান যে আপনি অনেক ক্লান্ত। ফলে পরে পস্তাতে হয় এমন বেফাঁস কিছু বলে ফেলার আশঙ্কা কমবে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনওয়াইসি ফ্যামিলি থেরাপি’র কর্ণধার ভিজেতা সিং বলেন, “অবশ্যই এই উপদেশগুলো দেওয়া সহজ, তবে বাস্তবে কাজে লাগানো কঠিন। সঙ্গীকে আপনার অংশগ্রহণের অপারগতার কথা জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কটা বেঁচে থাকবে। সমস্যাগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার উপায় ভেবে বের করার সময় মিলবে। সুস্থ মানসিক অবস্থায় পৌঁছে তারপর মতোবিরোধ মীমাংসা করার চেষ্টা করা দুজনের জন্যই যৌক্তিক এবং ন্যায্য অধিকার।”

 

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে:- ডিপিআরসি হাসপাতাল/ BEST PAIN PARALYSIS ARTHRITIS REHAB SPORTS-MEDICINE MANAGEMENT DPRC

 

সহানুভূতিশীল কথা ও অঙ্গভঙ্গিতেও যদি কাজ না হয় তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, সঙ্গীর যে বিষয়গুলো আপনি সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন সেগুলো মনে করা এবং তা মাথায় রাখা। ঝগড়ার সময় এগুলো মাথায় না থাকাই স্বাভাবিক, তবে আপনাদের সম্পর্কের স্বার্থেই এই দুঃসাধ্য সাধন করতে হবে। সঙ্গীর প্রিয় বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারলে ঝগড়ার সময় আপনার কথাগুলো হবে প্রাসঙ্গিক, অনুপ্রেরণা মিলবে সমস্যা সমাধান করার। আর ঝগড়ার উত্তেজিত পরিস্থিতে সঙ্গীকে আপনি কেনো ভালবাসেন তা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে পারা সমস্যার একটা সুখকর সমাধান আনতে সাহায্য করবে।

 

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে:- শীতে বাত ব্যথায় হাড় জোড়া রোগে চিকিৎসা। Pain Arthritis treatments in Winter

 

পরিবারবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পপুলার ম্যান’য়ের পরামর্শক জনাথান বেনেট বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া দ্রুত তিক্ততা, অবহেলা, নেতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সঙ্গীর প্রতি সহমর্মীতা প্রকাশের পন্থা বের করতে হবে, এমনকি ঝগড়ার মধ্যেও। এর মাধ্যমে সঙ্গীর ভালো গুনগুলো আপনার নিজেকে মনে করানো যেমন হবে, তেমনি সঙ্গীকেও বোঝানো হবে যে আপনি আজও ওই বিষয়গুলোকে মূল্যায়ন করেন।”

নিজ  থেকে যখন আপন মনে সঙ্গীকে ভালবাসবেন তখন দেখবেন একজন না একজনের পক্ষে থেকে অবশ্যই সমাধান আসবে। কিন্তু ঝগড়ার সময় যদি নিজেকে বড় মনে করা হয় তাহলে ঝগড়া কখনো থামবে না বরং বিপরীত রুপ নিবে। উত্তেজিত মুহুর্তে মনে করতে হবে আমি যার প্রতি উত্তেজিত আমি তো তাকেই বড্ড ভালোবাসি।

 

বিডিটুডেস/০৭ ডিসেম্বর,২০১৭