English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

পাল্টা কর্মসূচি দেবে আ.লীগ


বিডিটুডেস ডেস্ক: খালেদা জিয়া আবার সড়কপথে ঢাকার বাইরে গিয়ে বিপুল মানুষ নামিয়ে কর্মসূচি পালন করতে চাইলে সরকারি দল আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচি দেবে। এক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এবং প্রথম বর্ষপূতিকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াতের হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্তদেরও মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলোকে দিয়েও জ্বালাও-পোড়াওয়ের প্রতিবাদের আয়োজন করা হতে পারে।আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে এ চিন্তা-পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।

এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণের ইউনেসকোর স্বীকৃতি উদ্‌যাপনে ১৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘নাগরিক সমাবেশ’ করবে আওয়ামী লীগ। নাম নাগরিক সমাবেশ এবং তা পূর্বনির্ধারিত হলেও বড় জমায়েতেরই প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এই সমাবেশের আয়োজন করছে আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটি। গতকাল সোমবার এই কমিটির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বাসায় প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ কমিটি গতকাল সন্ধ্যায় পল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রস্তুতি বৈঠক করে। শনিবারের নাগরিক সমাবেশ সফল করার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বৈঠক ডাকা হয়েছে। দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভার চেয়ে বড় জমায়েত দেখানোর একটা চ্যালেঞ্জ সরকারি দল আওয়ামী লীগের সামনে এসে পড়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচিটি ৮ নভেম্বর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য এটি পেছানো হয়। অবশ্য গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সমাবেশ নিয়ে রাজনীতি করছি না। আমাদের সমাবেশ পাল্টাপাল্টি না।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের। বিএনপি কী করে সেটা দেখে আওয়ামী লীগ কাজ করবে না। কীভাবে ভোট ও কর্মী বাড়িয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়, সেই কাজ করছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীত সহিংসতার উদাহরণ টেনে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়নি। তবে এখন আর সহিংস আন্দোলনে যাবে না—বিএনপি এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে। এ ছাড়া বিএনপি এখন জামায়াতকে নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে না। ফলে তাদের অহিংস কর্মসূচি পালন করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। এ জন্য কিছু বাধাবিপত্তির মধ্যেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সড়কপথে কক্সবাজারে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করুক, এতে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি নেই। তবে আবার যদি সন্ত্রাস-নাশকতা করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সবার চাওয়া শান্তিপূর্ণভাবে দেশটাকে গড়া, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখা। পাল্টাপাল্টি কিছু কখনো ভালো কিছু না। এত বাধার পরও সোহরাওয়ার্দীর জনসভা এটাই প্রমাণ করেছে। এখন কেউ যদি অন্য কিছু করতে চায়, আমার বিশ্বাস তা জনগণই প্রতিহত করবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, ‘পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি কোনো সমাধান নয়, সমাধান হলো সমঝোতা এবং কতগুলো বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি করা, যাতে আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারি। তা না হলে আমরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারি।’

এর আগে খালেদা জিয়া কক্সবাজার থেকে কর্মসূচি করে ৩১ অক্টোবর ঢাকায় ফেরেন। ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর স্মরণসভা শেষ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি দল। এতে নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথে পথে সভা করেন ওবায়দুল কাদের। এসব সভায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বৃদ্ধির নির্দেশনা ছিল স্থানীয় নেতাদের ওপর।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপিকে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এই অপবাদ ঘোচানোর পরিকল্পনা থেকেই দলটিকে সাম্প্রতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও কৌশল বোঝা যাবে। আর মাঠে থাকলে এই শক্তি ভুল করবে এবং সংঘাতে জড়াবে।

এর বাইরে ভিন্নমতও আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ফেনী ও মিরসরাইয়ে খালেদার গাড়িবহরে হামলার কারণে কক্সবাজার সফর বেশি আলোচনায় এসেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ উপলক্ষে যান চলাচল কম হওয়ার পেছনেও সরকার ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করছে বিএনপি। এতে সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়েছে। এটা সরকারির দলের জন্য ভালো হয়নি।

জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ সুস্থ ধারার রাজনীতি দেখতে চায়। অতীতে যা হয়ে গেছে, সেটা আর দেখতে চায় না। সরকার ও বিরোধী দলের তরফ থেকে মানুষ সহনশীলতা আশা করে।

বিডিটুডেস/ এস আই/ ১৪ নভেম্বর, ২০১৭