English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

মেঘনায় বিলীন ভৈরব মৎস্য বাজারের ৯০০ বর্গমিটার

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভাঙনের কারণে গতকাল শুক্রবার এক রাতেই নৈশ মৎস্য আড়ত এলাকার ৯০০ বর্গমিটার চলে গেছে নদীগর্ভে। এর ফলে আতঙ্কে রয়েছেন আড়তের ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার রাত আটটার দিকে ভাঙন শুরু হয়। এ সময় নদীভাঙনের শব্দ শুনে উপজেলা প্রশাসনকে জানান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে গতকাল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহমেদ। এই অবস্থায় আজ শনিবার দুপুরে ভাঙন-কবলিত এলাকায় আসে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল। তাঁরা দুপুর থেকে ভাঙন এলাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও জরিপ চালান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রুবেল মিয়া বলেন, গতকাল রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ৯০০ বর্গমিটার এলাকা ভেঙে গেছে। ভাঙন এলাকায় কোথাও ১০ মিটার, কোথাওবা ২০ মিটার পর্যন্ত গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়লাবোঝাই বড় জাহাজগুলো নোঙর করা ও ছেড়ে যাওয়ার সময় পাকার মাধ্যমে সৃষ্ট ঘূর্ণি থেকে এই খাদের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ভৈরব নৈশ মৎস্য আড়ত ঘাট এলাকায়। এটি দেশের বৃহৎ আড়তের মধ্যে একটি। কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরে ধরা পড়া মাছের একটি বড় অংশ এই আড়তে বেচা-কেনা করা হয়। ভাঙনের ফলে কয়লার মোকামটি আড়তের কাছে চলে এসেছে। ভাঙন এলাকায় বেশ কয়েকটি কয়লাবোঝাই জাহাজ নোঙর করা।

ভৈরব নৈশ মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, এই আড়তে ৩০ হাজার মানুষ কাজ করেন। বিপর্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তাঁদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

তবে আপাতত ভাঙন থেমে আছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে মাটিভর্তি ব্যাগ ও পাথর ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মেঘনা নদীর ভৈরব প্রান্তে ১৯৮৯ সালে বড় ধরনের ভাঙনে খেলার একটি বিশাল মাঠ, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয়, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, দুটি বাংলোসহ রেলওয়ের অসংখ্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কয়েক বছরের ব্যবধানে ছোটখাটো আরও কয়েকবার ভাঙন দেখা দেয়। ভৈরবকে রক্ষা করতে এক যুগ আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরব শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু বাঁধটি প্রয়োজনীয় স্থান পর্যন্ত সম্প্রসারণ হয়নি।