English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

কুমড়ো বড়িতে জীবন দেখছেন তাঁরা


কাজী আনিছুর রহমান, নওগা প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকায় কেবল শীত আসবো আসবো করছে। কিন্তু উত্তরের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যে শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। সকালের রোদ গায়ে লাগবে বেশ ভালো লাগে। সকালে উঠতেও আলস্য। কিন্তু নওগার রাণীনগরের মানুষের কাছে এই শীত সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরি করার। শতের সকালে একটু জড়সড় হয়ে রোদে বসে নারীরা একসাথে বসে তৈরি করছে শীতের এই কুমড়া বড়ি।

আর এই কুমড়া বড়ি নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে, স্থানীয় চাহিদা ছাড়িয়ে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। হেমন্ত-শীতে এই উপজেলার বেশকিছু গ্রামের নারী-পুরুষ কিশোর-কিশোরীরা কুমড়া বড়ি তৈরি করে তাদের সংসারে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে। দামে কম মানে ভাল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবারহ করা হচ্ছে এই বড়ি।

বিশেষ করে জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, ঠাকুরগাঁ, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের পাইকাররা এসে রাণীনগর থেকে কুমড়া বড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা ভাল হওয়ায় কুমড়া বড়ি তৈরির সাথে জড়িতরা বেশ খুস মেজাজে রয়েছে। কার্তিক মাসে ঘন কুয়াশায় শীতের আগমন টের পেয়ে ও শ্রমজীবিদের অন্যান্য কাজ-কাম কম থাকার কারণে নারী-পুরুষ মিলে ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় কুমড়া বড়ি’র ব্যবসা প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরবে রেখে যাচ্ছে অবদান। উপজেলার খট্টেশ্বর, কুজাইল, কাশিমপুর, বেতগাড়ী, এনায়েতপুর, ত্রিমোহনী ও করজগ্রাম সহ বিভিন্ন গ্রামের স্বল্প আয়ের প্রায় শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জীবন-জীবিকার প্রধান কর্ম হিসেবে প্রায় সারা বছরই তারা কুমড়া বড়ি তৈরি ও ব্যবসা করে আসছে।

শীতকালে এই ব্যবসার পুরো মৌসুম হওয়ায় বাড়ি বাড়ি চলছে কুমড়া বড়ি তৈরির ব্যস্ত সময়। তবে বড়ি তৈরির পদ্ধতিটা বেশি জটিল নয় আবার সহজ কাজও নয়। মাসকালাই প্রথমে রোদে শুকিয়ে যাতায় ভেঙে পরিষ্কার করে তিন থেকে চার ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর ভোর রাত থেকে পরিবারের ছোট বড় সবাই মিলে শিল-পাটায় ডাল মিহি করে গুঁড়ো করতে হয়।

এরপর কুমড়া কুঁরার জন্য আলাদা পাত থাকে। এই পাতে ফেলে কুঁরতে হয় কুমড়া তারপরে কুমড়া ও ডাল মিশ্রিত করে বড়ি দিয়ে রোদে শুকাতে হয়।

কথিত আছে যে, এক সময় দেশের অভিজাত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা কুমড়া এবং ডালের মিশ্রণে এটি তৈরি করত বলে এর নাম কুমড়া বড়ি। এক কালের শখের খাবার থেকে উৎপত্তি হওয়া কুমড়া বড়ি এখন শত শত মানুষের কর্মসংস্থান ও প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। একজন নারী কিংম্বা পুরুষ প্রতিদিন তিন-চার কেজি মাসকালাই ডালের কুমড়া বড়ি তৈরি করতে পারে।

মাসকালাই থেকে তৈরি আসল কুমড়া বড়ি প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সারা বছর এই ব্যবসা চললেও শীতকালে বড়ির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বেশি পরিমাণ বড়ি তৈরি করি। তবে অল্প পুঁজির কারণে কুমড়া বড়ি তৈরির উপকরণ গুলো তাঁরা মজুম করতে পারে বিধায় একটু সমস্যা হয়।

বিডিটুডেস/ এম, এইচ/ ৩১ অক্টোবর, ২০১৭


  • 25
    Shares