English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

বর্ষা মৌসুমেও খোঁড়াখুঁড়ি!


সম্পাদকীয় ডেস্ক : প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এবার বর্ষায় এটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। মূলত সময়জ্ঞান ভুলে বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি এ অবস্থার জন্য দায়ী। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না! ফলে নিত্যদিন যানজট-জলাবদ্ধতায় নাকাল হচ্ছে নগরবাসী। রাজধানীজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে ২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪০০ কিলোমিটার সড়কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ছাড়াও মেট্রোরেল, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে। সাধারণত বর্ষাকে মানুষ স্বস্তির ঋতু মনে করে। তবে ঢাকাবাসীর জন্য তা প্রযোজ্য নয়। বর্ষা মৌসুমে উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ির এ মহাযজ্ঞ নগরবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখার কথা। নীতিমালা কেন মানা হচ্ছে না, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কোনো নীতিমালা বা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে তা প্রণয়নের যৌক্তিকতা কী?

প্রতিবছর জলাবদ্ধতায় রাজধানীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়লেও এ থেকে উত্তরণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাই শুধু ভেঙে পড়ে না, পাশাপাশি রাস্তায় আটকে পড়ে শ্রমজীবী-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সমন্বয়হীনতা, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এবং অদূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই যে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জলাবদ্ধতা সমস্যা আমাদের সামনে যে সত্যটি তুলে ধরেছে তা হল- উন্নয়নের নামে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। রাজধানীর ২৬টি খাল, তিন হাজার কিলোমিটার ড্রেন ও জলাশয়গুলো পৌনঃপুনিকভাবে আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে এবং তা অবধারিতভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা কোনো দৈব-দুর্বিপাক নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূলে রয়েছে অসময়ে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন। দুই সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সেবাপ্রদানকারী সংস্থার উন্নয়ন কাজে কেবল সমন্বয়হীনতা নয়, পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাবও প্রকট। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) দু’ভাগ করার সময় বলা হয়েছিল, উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানই এ বিভাজনের মূল্য উদ্দেশ্য। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, নাগরিকদের ভোগান্তির মাত্রা যেন ততই বাড়ছে। দুই সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে দু’জন নির্বাচিত মেয়র রয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন কাউন্সিলররা। তাদের উচিত সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তা সার্বক্ষণিকভাবে পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেয়া। একইসঙ্গে আরও একটি কাজ করা জরুরি : রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীগুলো সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার পাশাপাশি দখলকৃত খালগুলো পুনরুদ্ধার করা। নয়তো সাংবাৎরিক জলাবদ্ধতার আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়বে রাজধানীর প্রায় দু’কোটি মানুষ। জলাবদ্ধতা যাতে রাজধানীবাসীর চলার গতি শ্লথ না করে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।-যুগান্তর

বিডিটুডেস /জেডএইচ /১১জুলাই’১৭