English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

প্রগতির নামে আধুনিকতা নাকি অশ্লীলতা


এম আরমান খান জয়: প্রগতির নামে আধুনিকতা না-কি অশ্লীলতা। সংস্কৃতি একটি জাতির বাহ্যিক পরিচয় বহন করে । পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি, গোষ্ঠী,সমাজের মাঝে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে । একটি জাতি ভাল কি মন্দ তা আমরা বুঝতে পারি তার সংস্কৃতি দেখে । প্রতিটি ব্যাক্তির মাঝে ও সংস্কৃতি রয়েছে, একটি মানুষ তার দেশের সংস্কৃতি তার মাঝে বপন করে আর এটা স্বাভাবিক। ধর্মগত দিক দিয়ে ও মানুষের সংস্কূতিতে পার্থক্য আছে । যেমন – একটি হিন্দু প্রত্যেহ প্রভাতে স্নান করে জল খাবার খেয়ে ঘর থেকে বাহির হয়,আবার অনেকে পূজা অর্চনা ও করে থাকে, আর কর্ম স্থলে গিয়ে ধূপ জালিয়ে নতুন দিন আরম্ভ করে এটা তাদের সংস্কৃতি । আর একটি মুসলিম সুবহে সাদিকে ঘুম হতে ওঠে ওযূ করে নামাজ পড়ে, ঘরে এসে গোসল করে নাশতা খেয়ে কর্মক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলে কাজ আরম্ভ করে । সুতরাং এখানে পার্থক্য বিদ্যমান ।

 

আমরা বাংলাদেশী,পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলীম দেশ হিসাবে বেশ পরিচিত,দেশটি একটি স্বাধীন ও মুসলীম দেশ হিসাবে ঐতিহ্য অনেক । আমাদের সংস্কৃতি হবে অবশ্যই নান্দনিক ও সুন্দর । সংস্কৃতি মনা হওয়া ও আমাদের উচিৎ । সংস্কৃতি জাতির প্রাণ। সংস্কৃতি বলতে শুধু বাদ্যযন্ত্র, গান-বাজনা,টেলি ছবি নয় । সংস্কৃতি বলতে রক গান নাচানাচি নয় কিংবা বিপরীত লিঙ্গের সাথে খোলামেলা চলাফেরা নয়। আমার সোনার বাংলাদেশ আমি আমার অস্তিত্ব দিয়ে দেশকে অবশ্যই ভালবাসব । দেশপ্রেম যার নাই সে মানুষ হিসাবে গন্য হয় না । আমার দেশের সংস্কৃতিই আমার পরিচয় বহন করবে ।

 

ভিনদেশী কোন কালচার আমি মোটেও অনুস্বরন করতে পারিনা,এটা লজ্জাকর ও বটে । বর্তমানে আমাদের দেশে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভয়াল নীল থাবায় আচ্ছাদিত । তাদের টেলিভিশন চ্যানেল আমাদের দেশে পারমিট দেয়া হয়েছে যা নিতান্ত ঘৃনার বিষয়, তাদের কালচার আমাদের জন্য ক্যানসারের মত । ভারতীয় নগ্ন ফিল্ম আমাদের দেশের উঠতি বয়সী ছলে-মেয়েদের জন্য অত্যান্ত ভয়ানক বিষয় ,এই ফিল্ম থেকে শেখার চাইতে নষ্টামী শেখাই সহজ । আজকের কচি প্রজন্ম আগামী দিনের সোনালী ভবিষ্যত । এই ছেলে মেয়ে হতেই সৃষ্টি হতে পারে ; শাহ্ মাখদুম , শহীদ তীতুমীর , হাজী শরিয়ত উল্লাহ্ বা ফজলুল হকের মত জাঁদরেল মহান নেতা । তাদের চরিত্র হবে পাপ ও কুলষ মুক্ত, কিন্তু ভারতীয় এই ফিল্ম যদি হারমেশাই এ দেশে চলতে থাকে তবে দেশের ভবিষ্যত শূন্যের কোঠায় উঠবে । পত্র পত্রিকায় শত শত প্রতিবাদ ও মন্তব্য অহরহ লেখালেখি হচ্ছে, কিন্তু তাতে কোন ফল হচ্ছে না । সরকার এ দিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না । আমাদের দেশের টেলিভিশন চ্যানেল তারা মোটেই দেখে না আর আমরা লজ্জাহীনদের মত দেখি কোন বোধগম্য উদদোয় হয় না । বিদেশীর চ্যানেল চাইতে আমাদের দেশের চ্যানেল অনেক মানসম্পন্ন যা আই এস ও-৯০০০ সনদ পেয়েছে। বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলেই বুঝা যাবে সভ্যতা কোথায় যাচ্ছে ।

 

কী দিচ্ছি আমরা আমাদের প্রজন্মকে ? কী শেখাচ্ছি আমরা আমাদের সন্তানদের ? একটি জরিপে দেখা যায় একটি স্কুল পড়ুয়া মেয়ে সপ্তাহে গড়ে ৫০ ঘন্টা ভারতীয় চ্যানেল দেখে । যা তার মনে ভাল কিছু দিতে পারছেনা । আর পাশ্চাত্য ইউরোপীয় দেশের অবস্থা আরো কঠিন । আমি ছবি দেখার বিরুদ্ধে বলব না বললে অনেক পাঠক ই আমাকে মৌলবাদী ভাবতে পারে , যদি ও আনন্দ ও বিনোদনের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে । এর জন্য আমরা দেশীয় বিনোদন দেখতে পারি যেমন; বাংলা নাটক । আমাদের সন্তানদের দিতে পারি বিনোদন মূলক কার্টুন , বিভিন্ন ডুকুমেন্ট ও গল্প ও কমিকস্,ছোটদের অনুষ্ঠান। আমাদের সচেতনতা ও সঠিক খেয়াল কখনো নোংরা পথে নিতে পারেনা আমাদের সন্তানদের । একটি সুসভ্য মা আগামীতে একটি নৈতিক ও সত্য সভ্য জাতি উপহার দিতে পারবে,একটি আদর্শ মা একটি অমূল্য সম্পদ । আর একটি আদর্শবান ও সভ্য মেয়েই একটি সৎ চরিত্রের সন্তান দিতে পারে । পশ্চিমা বিশ্বে ঘন্টায় প্রায় ১০০ এর বেশী নারী ধর্ষিত হয়, স্কুল জীবন পার না হতেই ৯৬% মেয়ে তার কুমারীত্ব হারিয়ে ফেলে । সভ্যতা কি একেই বলে ? আমাদের প্রতিবেশী ভারতে শতকরায় ৪৯% বেশী নারী বিয়ের পূর্বে গর্ভপাত ঘটায়। তাদের যৌনরঙ্গ ফিল্ম তাদের ও আমাদের টিন এজ আর দের ধ্বংস করে দিচ্ছে । সরকার আবার নতুন করে ভাতীয় ফিল্ম বাংলাদেশে প্রচারে পারমিট দিয়েছে, কি হবে ? কী শিখবে আগামী প্রজন্ম ? হাজারো প্রতিবাদে কোন সফলতা আসেনি ।

 

আমার এ লেখায়  বন্ধ হবে না তা জানি, তবে আমাদের উচিৎ খেয়াল রাখা আমাদের সন্তানদেও প্রতি, ছোট ভাইদের ও বোনদের প্রতি । তাদের মোবাইল সেটে কি আছে, কোচিংয়ের নামে বোনটি কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে বন্ধুত্ব করছে ? সুতরাং বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল প্রচার অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে । পৃথিবীতে জ্ঞানের জন্য চলচিত্রের আবশ্যিকতা নেই, যদি অতি জীবনধর্মী ও শিক্ষনীয় নান্দনিক, জীবন গঠনমূলক মানুষ্যত্ববোধ উদয়ের ফিল্ম তৈরিতে কোন দ্বিমত আমার নেই । আমার লেখা পড়ে হয়তো অনেকে কঠিন মন্তব্য করতে পারেন । তবে কথাগুলো বাস্তব । এসব আজে বাজে ছবি দেখে প্রায়ই বেশ বিপথে চলে যায় ,মনে মনে রোমান্টিক ভাব নেয় । মনে জন্ম নেয় প্রেম প্রেম ভাব আর এতেই সৃষ্টি হয় নানান অসম্মানের ঘটনা । ধর্ষন , আপত্তিকর ভিডিও , ব্ল্যাকমেইলের মত নানান ঘটনা । সুতরাং ভারতীয় ভয়াবহ নীল থাবা হতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে । মানুষ যা উপভোগ করে দেখে তা বাস্তবে রুপদান করতে চায় । আর এ ভাবেই আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে হিন্দী সিরিয়াল সমূহ । মানুষের কাজকে বিশেষ করে মেয়েদের কে মেধাশূন্য করে দিচ্ছে । এতে ভাঙ্গন বাড়ছে যৌথ পরিবারে।আর হিংসা পরায়ন হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে।

 

এদিকে স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ যুবক যুবতীদের একান্তে সময় কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শহরে। শিক্ষার্থীসহ তরুণ-তরুণীদের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য রাজধানীসহ বড় বড় শহরে রয়েছে নানা ধরনের আয়োজন। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন পার্ক, ফাস্টফুড দোকানসহ অনেকে বাহারি নামের অনেক দোকান খুলেছে যা অবৈধ প্রেমকানন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব স্পটে থাকে একান্তে মেলামেলার জন্য ছোট ছোট রুম। রাজধানীর বিভিন্ন নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন উপলক্ষে এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী মিলে মাঠে, প্রকাশ্য রাজপথে নৃত্য অনুষ্ঠানের দৃশ্য দেখা যায় অনেক ভিডিওতে। সমবেত নাচের সময় ছাত্রছাত্রীরা যেসব অঙ্গভঙ্গি করছে, অনেকের মতে তা অশ্লীলতা ছাড়া আর কিছু নয় এবং রীতিমতো উদ্বেগজনক। পুরোপুুরি হিন্দি সিনেমার আদলে করা হয়েছে এসব নাচের অনুষ্ঠান।

 

লজ্জাহীনতা বর্তমানে এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার জন্য স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক তরুণী অশালীন নাচের ভিডিও করে তা ছেড়ে দিচ্ছে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রযুক্তির প্রসার ও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমের কারণে তরুণ সমাজে খুব দ্রুত বিস্তত হচ্ছে গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড এবং দোস্ত কালচার। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন বিদেশী টিভি চ্যানেল, দেশীয় টিভি-সিনেমা এবং নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যা দেখানো হচ্ছে তা অবাধ মেলামেশা ও লজ্জাহীনতার প্রসারের ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন অনেকে। পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সুযোগে পর্ণোগ্রাফির বিস্তার এবং নারী-পুরুষ সংস্পর্শে আসার কারণে লজ্জা ও নৈতিকতার বাঁধন দ্রুত শিথিল হয়ে যাচ্ছে। ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে লজ্জাহীনতার সংস্কৃতি। ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে অবাধ মেলামেশার পরিবেশ। বিয়েবহির্ভূত যৌনতা বিষয়ে ধর্মীয়, পারিবারিক এবং সামাজিক রীতিনীতি ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। তরুণ তরুণীদের ভালোবাসা ভালোলাগা আজকাল দ্রুত গড়াচ্ছে শারীরিক সম্পর্কে পর্যায়ে।

 

পরিশেষে : বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বাঙ্গালিপনার দোহায় দিয়ে যেভাবে প্রাশ্চত্যের সংস্কৃতির অনুকরণ ও অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ ভেসে যাচ্ছে সেটা কখনো হাজার বছরের যে বাঙালি সংস্কৃতির সংজ্ঞায়ন দেওয়া হয় তার সাথে মেলে না বা মেলানো যাবে না………