English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

স্মার্ট ফোনে আসক্তি যুব সমাজ কোন পথে ? নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কি ?


 

এম আরমান খান জয়: ছোট বেলায় বাংলা ২য় পত্রের ভাব-সম্প্রসারন অধ্যায়ে “বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ” শিরোনামে একটি ভাব-সম্প্রসারন এর ব্যাখ্যা আমাদের কাছে খানিকটা কঠিনই ছিল। সে সময় উক্তিটির সার্থকতা যে কতটা গভীর ও বাস্তব সম্মত ছিল তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে না পারলেও এখন এর মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি আমরা।

 

আলফ্রেড নোবেল ১৮৬৭ সালে যখন বড় বড় পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির উদ্দেশ্যে ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন তখন কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে এই প্রযুক্তির কল্যাণেই কালের আবর্তে যুদ্ধবাজদের মারণাস্ত্র হিসেবে মানবতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। শুধুমাত্র ক্ষমতার খামখেয়ালিপনায় প্রযুক্তির আধুনিকতম বিস্ময় স্মার্ট ফোনের ক্ষেত্রেও ঘটছে একই চিত্র। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমগ্র বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে, সীমান্ত ছাড়িয়ে একটি মিথস্ক্রিয়াশীল পৃথিবী গড়ে তুলতে এবং কাজের গতি সঞ্চার ও সময় বাঁচিয়ে দিয়ে মানুষকে সত্যিকার অর্থেই স্মার্ট করে তুলতেই স্মার্ট ফোনের যাত্রা শুরু হলেও সাম্প্রতিক সময়ের কিছু দৃশ্যপট সচেতনমহল ও অভিভাবকদের মারাত্মক ভাবে ভাবিয়ে তুলেছেন।

 

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে নিজেকে ধর্নাঢ্য ব্যবসায়ী ও তরুণ আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ৫৫ বয়সী এক প্রতারক রাউজানের ১৭ বয়সী এক তরুণীকে দেড় মাস আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এছাড়া প্রতি নিয়ত এমন হাজারো ঘটনা নিভৃতে ঘটে চলছে যার সিংহ ভাগই হয়তো মিডিয়ার অন্তরালে রয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণকে ইতিবাচক রুপে গ্রহণের চেয়ে নেতিবাচক দিকটাতেই বেশি ঝুঁকে পড়ছে তরুণ সমাজের বিশাল একটা অংশ। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রয়োজনীয় কাজেই এই যন্ত্রের পেছনে ঝুঁকে পড়ছে অনেক বেশি। সময় নেই অসময় নেই, পরিবেশ-পরিস্থিতির দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ক্লাস রুমে, যানবাহনে, হাঁটতে-চলতে, রেল লাইনে, খাবার সময়ে কিংবা রাতে ঘুমাতে গিয়েও যখন তখন মাথা গুঁজে দিচ্ছে স্মার্ট ফোনের দিকে। ফেসবুক, টুইটার, মেসেঞ্জার, ভিডিও গেইমস, স্কাইপ, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইভার, ইমো, ফ্রিং, ট্যাংগো নামে ফ্রি ভয়েসকল, ভিডিওকল এবং চ্যাটিংয়ের বিভিন্ন এ্যাপসের পাশাপাশি এতে রয়েছে বিষয় ভিত্তিক হাজারো স্মার্ট এ্যাপ্লিকেশন।

 

প্রযুক্তি যেন সমগ্র পৃথিবীটাকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। চারিদিকে সবার মাঝেই চলছে স্মার্ট হওয়ার নিদারুণ প্রতিযোগিতা। কিন্তু আসলেই কি তরুণ প্রজন্ম স্মার্ট হচ্ছে নাকি তথাকথিত স্মার্টনেসের আড়ালে দিন দিন অন্ধকাওে দিকে নিমজ্জিত হতে চলছে তা নিয়ে রয়েছে বিস্মর বিতর্ক। স্মার্ট ফোনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের এই আসক্তির ফলে বাড়ছে পড়াশোনা বিমুখতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, মানসিক অবসাদ, হীনমন্যতা, বিকৃতরুচির চর্চা, মনবিকার, অপরাধপ্রবণতা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যে কারণে সমাজে যৌন নিপীড়ন, অনৈতিক সম্পর্ক, ফেসবুক-ইউটিউবে ছবি ও ভিডিও ফাঁস, সেক্সটিং (যৌনতা নিভ্রর চ্যাটিং), ব্ল্যাকমেইল, ধর্ষণ, আত্মহত্যা, খুনসহ নানা অসামাজিক কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে স্মার্ট ফোনের সহজলভ্যতা, ব্যবহারে সুষ্ঠু নীতিমালার অভাব এবং নিয়ন্ত্রণহীন পশ্চিমা ও ভারতীয় সংস্কৃতিকেই দায়ী করছেন। সাম্প্রতিক কালে স্মার্ট ফোনের কারণে তরুণ প্রজন্ম নষ্ট হতে চলছে এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা চলছে স্মার্ট ফোন তরুণ সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে ঢালাও ভাবে।
আজকের বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার সময়ে মোবাইল ফোন একটি অনন্য সংযোজন। বর্তমানে ছোট বড় সকলেরই যেন মোবাইল ছাড়া এক মুহুর্তও চলেনা। বর্তমান যান্ত্রিক বিশ্বে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনে একটি মৌল মানবিক চাহিদা হয়ে দাড়িয়েছে। এর কারন আমাদের প্রত্যেকেরই জানা। বর্তমানে স্কুলগামী ও কলেজগামী কিশোর-কিশোরীদের হাতে নিত্য নতুন বাহারি মোবাইল। মোবাইল প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের বিপদগামী করে তুলছে। যার জন্য প্রয়োজন কঠোর আইনী পদক্ষেপ ও অভিভাবক মহলের সচেতনতা।

 

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে পদ-দলিত করে যে ভাবে পশ্চিমা অপ-সংস্কৃতিকে স্বীয় মোবাইলে ধারন করছে তা নিঃসন্দেহে তাদের বিপদগামী করে তুলছে। শুধু তাই নয়, এতে কিশোর-কিশোরীদের অনৈতিক কাজে প্ররোচিত করছে এবং মেতে উঠছে মারাতœক সব অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে। ফলে সামাজিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে মারাতœক আকার ধারন করছে। অনেক সময় অনৈতিক নীল ভিডিও কাটিং অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটে যা দেখে এখন কিশোর-কিশোরী বিপথে ধাবিত হচ্ছে। যে সময়ে তাদের চরিত্র গঠনের দিকে মনোযোগী হওয়ার কথা সে সময় তারা চরিত্র ধ্বংষের পথে হাটতে উৎসাহিত হচ্ছে। সম্প্রতি কালের পত্র-পত্রিকার অসংখ্য ঘটনা প্রবাহ এ সবের সাক্ষ্য বহন করে।

 

মোবাইলের কারণে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ফেসবুক নেশা এখন সর্বাধিক। স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে মেয়েদের মোবাইল আসক্তি হাজার হাজার পরিবারকে ফেলেছে দুর্ভাবনায়। হঠাৎ চালু হওয়া ‘মোবাইল সংস্কৃতি’ বুঝতে শেখার আগেই ফেসবুক, গুগলে উলঙ্গ ছবির ছড়াছড়ি তরুণ-তরুণীদের কচি মন বিগড়ে দিচ্ছে। চরিত্র গড়ার আগেই নষ্ট হচ্ছে কিশোর-কিশোরীর চরিত্র। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেখাপড়ায় এবং পরিবার-সমাজে। জীবন গঠনের আগেই নতুন প্রজন্ম হারাচ্ছে পথের দিশা। বাবা-মায়ের ভাষায় অপরিণত বয়সে ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সহজাত প্রবৃত্তির কারণে ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের বদলে মোবাইলের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

 

দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু-কিশোরীদের হয়রানি। যুক্ত হয়েছে শিশু-কিশোরীদের উত্ত্যক্ততায় নতুন মাত্রা। সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে উঠতি বয়সের মেয়েরা। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা, নগ্নছবি এমএমএস করা, ব্লুটুথের মাধ্যমে ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া, এ ধরনের কিছু বিব্রতকর ঘটনার অহরহ মুখোমুখি হচ্ছে কিশোরীরা। যৌন নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ যৌন অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। এসব ঘটনার জের ধরে সমাজে কিশোরীদের আত্মহত্যার ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে কিশোর অপরাধীর সংখ্যাও। এ নিয়ে পরিবারের অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি মানুষ আজ উদ্বিগ প্রকাশ করছে। যৌনকর্মে ঠিক কত কিশোরী জড়িত এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এ বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে লাখ লাখ শিশু-কিশোরী বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং এদের একটি বড় অংশ যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। গবেষণায় জানা যায়, স্কুলগামী শিশুরা মোবাইল ফোনকে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ মাধ্যম বলে মনে করে। পর্নোগ্রাফির সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড নির্ধারণ করে ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২’ অনুমোদন হয়েছে। আইনে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ প্রভৃতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পর্নোগ্রাফি ব্যবহার ও এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-কিশোরীরা।

 

শিশুদের পর্নোগ্রাফির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়টি ভয়াবহভাবে বাড়লেও সচেতনতার অভাবে এখনো তা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে তাতে অত্যাধুনিক এসব প্রযুক্তির ব্যবহারে নীতিমালা বা আইনের প্রয়োগ না থাকলে সমাজে এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ জন্য আইনের পাশাপাশি সমাজের সচেতনতা দরকার। সহজলভ্য হওয়ায় এই মোবাইলের ব্যবহার এমনভাবে বেড়েছে যে রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে ৭-৮ বছর বয়সী শিশুদের হাতেও মোবাইল শোভাবর্ধন করে। মোবাইল ও ফেসবুক যুগের আগে ছেলেমেয়েরা রাতে বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ত। এখন মোবাইল টিপতে টিপতে ঘুমিয়ে পড়ে। ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে পড়েছে মোবাইল। দ্রুত যোগাযোগে মোবাইল আশীর্বাদ হলেও অনেকের জন্য হয়েছে সর্বনাশ। এখন বই পড়ে জ্ঞানার্জন যেন ভুলতে বসেছে কিশোর-কিশোরীরা। অথচ কয়েক বছর আগেও বই পড়ার হিড়িক দেখা গেছে শহুরে ছেলেমেয়েদের মধ্যে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। মোবাইলে আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় মেধা বিকাশে যে বই পড়া অপরিহার্য সেটা ক্রমশ কমে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়া ছাত্রছাত্রীদের দেখা যায় বাসে, রিকশায় বা পায়ে হেঁটে চলার সময় কেউ ফোনে কথা বলছে, কেউ গান শুনছে। এটা নিত্যদিনের চিত্র। অপরিণত বয়সে মোবাইল আসক্তি কত হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে সে খবর কে রাখে?

 

দেশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নেই। অথচ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই উৎসাহী কিছু শিশু-কিশোর ব্যবহার করছে আধুনিক প্রযুক্তির সব মোবাইল হ্যান্ডসেট। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিশুদের হাতে হাতে এখন মোবাইল সেট। তবে এসব মোবাইলের মাধ্যমে শিশুরা যে শুধু তার পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে তা নয়, একই সঙ্গে এর মাধ্যমে তারা পর্নো ছবির প্রতিও আসক্ত হয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা নিজেদের তোলা আপত্তিজনক ছবি ইন্টারনেটে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিস্ময়কর সত্য যে, শিশু শিক্ষার্থীদের মোবাইল হ্যান্ডসেট কিনে দেওয়ার আবদার পূরণ করছেন খোদ অভিভাবকরাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি প্রযুক্তি নিয়ে শিশু-কিশোরদের অতি আগ্রহ, মোবাইলফোনের সহজলভ্যতা ও স্বল্প দামের কারণে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে কৃত্রিম চাহিদাও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতেই পারে। কিন্তু শিশুদের দ্বারা মোবাইলফোনের অপব্যবহার হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। হঠাৎ মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে কৌতূহলবশত অবুঝ মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্বল্প সময়ের কথোপকথনে অপরিচিতদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে প্রেমের সম্পর্কে। এদের অনেকে পরবর্তীতে ফোনে কথা বলা যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আর প্রতারিত হয়ে আবেগবশত এই কিশোরীরা কখনো বা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এহেন করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য এখনও সময় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের যতটুকু পরিধি রয়েছে, তার মধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। পাশাপাশি আমরা যারা অভিভাবক রয়েছি তাদেরও সজাগ থাকতে হবে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারে চরম কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে।

 

স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপব্যবহার ও তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়রোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে তরুন লেখক এম আরমান খান জয় জানান, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে আমরা প্রতিযোগিতাশীল বিশ্ব থেকে ছিটকে পড়বো অন্যদিকে নীতিমালা ও লক্ষ্যবিহীন প্রযুক্তি গ্রহণ আমাদের দাসত্বে পরিণত করবে। এক্ষেত্রে মোবাইল কোম্পানি ও তাদের বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহলকে নীতিমালা প্রণয়নে এগিয়ে আসতে হবে। কোন বয়সসীমা পর্যন্ত কোন কোন কন্টেন্ট ব্যবহার করা যাবে কিংবা যাবে না, কোম্পানিগুলোর ফ্রি অফারের সময়সীমা যেনো পড়াশোনার ক্ষতি না করে সেজন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করে দিতে হবে। এছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রেও তরুণ প্রজন্মকে বিপদগামী করতে পারে এমন বিজ্ঞাপনে সেন্সর আরোপ করা যেতে পারে।

 

লেখকের মতে পরিত্রানের কিছু উপায় তুলে ধরা হলো: প্রজন্ম যেভাবে অগ্নিগর্ভে পতিত হচ্ছে এর থেকে বাঁচার উপায় আমাদের বুদ্ধি বিচারের মাধ্যমে নির্ণয় করা উচিত।

১। প্রযুক্তির ব্যববহারে মানুষদের সচেতন হতে হবে। মানুষের বিবেকবোধ জাগরনের মাধ্যমে নৈতিকতা মাথায় রেখে প্রযুক্তির স্বদ্ব্যব্যবহার করতে হবে।
২। মানবজাতি সম্পর্কে মানুষের মানবিক বিচারে ইতিবাচক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে।
৩। প্রজন্মের ব্যাপারে অভিবাবকদের সচেতন হতে হবে যেন প্রজন্ম মোবাইল ও ল্যাপটপের অপব্যবহার করতে না পারে আর স্ট্যাডিতে কনসেনট্রেট করে।
৪। প্রজন্মকে নৈতিক ও ইসলামী জ্ঞান আহরন করতে হবে।
৫। সিম কোঃ গুলোর রাতের প্যাকেজ বন্ধ করতে হবে।
৬। ইন্টারনেটের পর্ণো সাইট সমুহ বন্ধ করতে হবে।
৭। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত সফটওয়ার সমুহের মাধ্যমে সেক্সচুয়াল চ্যাটিং রোধ করতে হবে।
৮। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির অপব্যবহারের কুফল সম্পর্কে পাঠ দিতে হবে।

 

কবি বলেন, মাটি থেকে করব উৎপাটন এক সঙ্গে সবচেয়ে লম্বা দেবদারু, যেখানে তার শিকড় ছিল আগে সেই সেই গর্তে ফেলব ছুড়ে মোদের সব অস্ত্র। মোরা চিরতরে দেব কবর তাকে সেই গভীওে আর পুঁতব আবার সেই জায়গায় দেবদারু, হ্যাঁ,আসবে সময় মহা শান্তির।

 

আসুন আমরা সচেতনতার সাথে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে প্রজন্মকে রক্ষা করি নিশ্চিত বিপদ থেকে। আমাদের মানসিকতার নৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজে এবং প্রজন্মকে বাঁচাই।