English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

নাঙ্গলকোটে জরাজীর্ণ স্কুল ভবনে ভয়ে আসছেনা শিক্ষার্থী


 

মো. রেজাউল করিম রাজু, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট ইউপির চারিজানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি মাত্র স্কুল ভবনের ছাদের পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। প্রতিদিন ঘটছে নানা ধরণের দূর্ঘটনা। ভয়ে বিদ্যালয়ে আসছেনা কমল-মতি ছাত্র-ছাত্রীরা।

অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে ক্ল্যাস করলেও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।  আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়, কখন জানি ধসে পড়ে বিদ্যালয়টি।
গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এক তলা বিশিষ্ট্য স্কুল ভবনটি ১৯৯৬ সালে নির্মাণ হয়। ভবনে ৩ টি শ্রেণী কক্ষ ও একটি অফিস নিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। অপর দিকে উপজেলা প্রশাসন ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী হিসাবে ঘোষণা করা হলেও কিন্তু বিদ্যালয়ে ভবন না থকায় বাধ্য হয়ে ক্লাস পরিচালনা করে আসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত ১২ আগষ্ট জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের ছাদের আস্তর খসে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র নুর ইসলাম (নাজমুল হক) গুরুতর আহত হয়। সম্প্রতি ২য় শ্রেণীর রাহাত, ৪র্থ শ্রেণীর আবু বক্কর, ৫ম শ্রেণীর জুয়েল ও ফাহাদসহ বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থীর মাথায় ছাদের আস্তর পড়লে তারা আহত হয়। এ ঘটনায় আতঙ্ক চড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্কুলে পাঠাচ্ছেনা অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহাদ বলেন, ছাদের আস্তর খসে পড়ে তার মাথা পেটে যায়। এখন স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছি। কি করব? ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কয়েকজন অভিভাবক জানান, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে ভয়ে থাকতে হয়। কখন জানি দুর্ঘটনার খবর আসে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রাধান শিক্ষীকা নাজমা আক্তার বলেন, ছাদের আস্তর খসে পড়ে নুর ইসলাম (নাজমুল হক) সহ বেশ কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী গুরতর আহত হয়। প্রতিদিন এধরণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু কি করব শ্রেণী কক্ষ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রী ও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। কর্তৃকপক্ষকে বার বার অবহিত করার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।

সাবেক স্কুল সভাপতি আবুল কাশেম গাঁফুরি জানান,নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের কাজ করেছে। যার কারণে অল্প সময়ে এটি নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত ছাদের আস্তর পড়ে শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে। যার ভয়ে বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীরা আসতেছে না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকেও অবহিতকরা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নবীর উদ্দিন জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্কুলটি পূর্ণ নির্মাণের জন্য উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠাবো।

 

 

এম এস-  বিডিটুডেস- ২৮/৮/২০১৭