English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

ক্যানসারের চিকিৎসায় বিশ্ব এখন নতুন দিগন্তে


লাইফস্টাইল ডস্কঃ ক্যানসারের চিকিৎসায় ঐতিহাসিকভাবে নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল বিশ্ব। আর এই নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই চিকিৎসাপদ্ধতি হচ্ছে সিএআর-টি (কাইমেরিক অ্যান্টিজেন রিসিপটর থেরাপি)। যা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীর ক্যানসার প্রতিরোধ করবে। এটি ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতি, যেমন অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির মতো নয়।

এ চিকিৎসাপদ্ধতি ‘জীবন্ত ওষুধ’ বা সিএআর-টি থেরাপি নামে পরিচিত। প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদাভাবে এই ‘জীবন্ত ওষুধ’ তৈরি করা হয়। রোগীর শ্বেত রক্তকণিকা সংগ্রহ করে এই ওষুধ তৈরি হয়। রোগী থেকে সংগ্রহ করা এই রক্তকণিকার জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে তা রোগীর শরীরে আবারো প্রবেশ করানো হয়, যাতে তা ক্যানসারকে আক্রমণ করতে পারে। একে বলা হয় ‘ক্যানসার কিলার’। এটি যখন রোগীদের শরীরে ক্যানসার কোষ খুঁজে পায়, তখন তাকে আক্রমণ করে। সেই সঙ্গে এই ক্যানসার কিলার দ্রুত তার বিস্তার ঘটাতে থাকে।

এ থেরাপির মাধ্যমে একধরনের ব্ল্যাড ক্যানসারে আক্রান্ত ৮৩ শতাংশ রোগীর সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব।

ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালে ক্যানসারে আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসায় সিএআর-টি পদ্ধতি প্রথম ব্যবহার করেন চিকিৎসক স্টেফান গ্রুপ।

ক্যানসার আক্রান্ত এই শিশু মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সিএআর-টি পদ্ধতি ব্যবহার করার পর সে সুস্থ। বর্তমানে পাঁচ বছর ধরে সে ক্যানসারমুক্ত রয়েছে।

এ পর্যন্ত এই থেরাপি দেয়া হয়েছে ৬৩ জন রোগীকে। এই রোগীদের ৮৩ শতাংশই থেরাপি দেয়ার তিন মাসের মধ্যে পুরোপুরি আরোগ্য লাভ করে।

চিকিৎসক স্টেফান গ্রুপ বলেন, ক্যানসারের এ ধরনের কার্যকর পদ্ধতি আমরা আগে কখনো দেখিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের স্কট গটলিয়েব বলেন, ভয়ংকর ক্যানসার প্রতিরোধে রোগীর নিজের কোষগুলো পুনঃসংস্কার করার সক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছি।

এদিকে এই থেরাপি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ সিএআর-টি কোষগুলো রোগীর শরীরে দ্রুত বিস্তার ঘটায়। ফলে প্রাণঘাতী ‘সাইটোকিন রিলিজ সিনড্রোম’ দেখা দিতে পারে। তবে ওষুধের মাধ্যমে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।     সূত্র: বিবিসি, ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট