English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

প্রেমিক হত্যা মামলায় সেই প্রতারক প্রেমিকার মা আটক


লালপুর(নাটোর) প্রতিনিধি: দুই বছর লিভ টুগেদার অতপর প্রেমিকার বাড়ি এসে গ্রাম্য শালিসে বিয়ের কাবিন নামা দেখাতে না পারাই খুন হওয়া সেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য সেই প্রেমিকার মা কেওয়া বেগম(৩৫)কে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১ টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং একই সময় ঘরের ভিতর থেকে প্রেমিক কাউসারের আসবাবপত্রের মধ্যে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, মোবাইল সেট, গ্যাসের চুলা সিলিন্ডারসহ সকল জিনিস জব্দ করে কাউসারের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ওবায়েত জানান, নিহত প্রেমিক কাইসারের ভাই বাদী হয়ে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সে অনুসারে আসামী কেওয়া বেগমকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

মালামাল জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতারক প্রেমিকা সাগরী খাতুন ও তার পরিবার কাউসারের কাছ থেকে প্রায় এগারো লক্ষ টাকা ও এবং মালামাল আত্মসাৎ করেছে। সে কারনে কয়েকটি মালামাল নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সাগরী খাতুন স্বশরীরে থানায় এসে হাজিরা দিলে মালামাল তার বলে প্রমানিত হলে ফেরত দেয়া হবে। তবে পলাতক থাকার কারনে বাকী আসামীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের আটকের জন্য পুলিশ ব্যপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য যে ৮ সেপ্টেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার কদমচিলান ইউনিয়নের দাঁইড়পাড়া গ্রামে প্রেমিকা সাগরি খাতুনের বাড়ি এসে খুন হয়েছে প্রেমিক কাউসার। জানা গেছে গ্রাম্য শালিসে বিয়ের কাবিন দেখাতে না পারাতেই বেধড়ক পিটিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মুখে বিষ তুলে দিয়ে আত্মহত্যার প্রচারণা চালাই হত্যাকারীরা। এবিষয়ে ঘটনার রহস্য উৎঘাটনে মিডিয়া কর্মীরা উঠেপড়ে লাগলে প্রশাসনের টনক নড়ে। ঘটনার পর থেকেই পাড়া মহল্লা চায়ের স্টল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচোনা। প্রকাশ্যে যুবককে খুন করে মুখে বিষ দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়াকে কিছুতেই মানতে পারছিলেন না এলাকাসী।

 

স্থানীয়রা বলেন, প্রতারক সুন্দরী প্রেমিকা সাগরী খাতুন (২৫) এর বাড়িতে এসে খুন হয়েছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জের কাউছার হোসেন (৩৫) নামের এক প্রেমিক।

তারা আরো বলেন, প্রতারক সাগরী খাতুনের ৮ বছর আগে বিয়ে হয় বড়াইগ্রামের মাঝগাঁও ইউনিয়নের লাথুরিয়া গ্রামের দর্জি ফারুক হোসেনের সাথে। সেখানে তাদের একটি মেয়ে হয়। বিয়ের পর সাগরী বিভিন্ন পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে স্বামীর সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে স্থানীয় বিচারে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ও মেয়েকে স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটায়। তারপর সাগরী বাবার বাড়িতে এসে বিভিন্ন পুরুষের সাথে প্রেমের অভিনয় প্রতারণার ফাঁদ ফেলে টাকা আয় করতে থাকে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাপে সাগরী ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টস এ চাকরী নেয়। সেখানে চাকরী করার সময় পরিচয় হয় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের রিয়াজুল মির্জার পুত্র ও আশুলিয়ার ঝনরন গার্মেন্টস্ এর কাভার্ড ভ্যান চালক কাউছার হোসেনের। তারপর দুই বছর লিভ টুগেদার এবং আশুলিয়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে প্রায় দুই বছর একসাথে বসবাস করেন তারা। এর মাঝে দাঁইড়পাড়া গ্রামেও আসেন কয়েকবার। এতে কাউসারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে সাগরি খাতুনের পিতা-মাতা সহ আত্মীয় স্বজনদের । সেই সূত্র ধরেই পূর্বের ন্যায় ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে দাঁইড়পাড়াতে সাগরি খাতুনের গ্রামের বাড়িতে এসে ক্লান্তি অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন কাউসার । ওই সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাগরি খাতুন ট্রাকযোগে আশুলিয়া থেকে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আসেন এবং সেগুলো দ্রুত ট্রাক থেকে খালাসও করে নেন।

রাত ৮টার দিকে কাউসার হোসেন ঘুম থেকে জেগে উঠে আশুলিয়া থেকে নিয়ে আসা আসবাবপত্র এলইডি টিভি, ওয়ারড্রপ, খাট, সিলিন্ডার সহ গ্যাস চুলা, মিপসেট, বিভিন্ন কাপড়-চোপড় সহ অন্যান্য দ্রব্য-সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল দেখে তার নিজের বলে দাবী করেন। কিন্তুু সাগরি খাতুন তাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল কাউসার হোসেনের না বললে উভয়ের মধ্যে প্রচন্ড বাক যুদ্ধ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাগরি খাতুনের পিতা সাহানুজ্জামান এলাকার মাতবরদের কাছে বিষয়টি সমাধানের জন্য বিচার প্রার্থী হন। শালিসে কাউসার সাগরিকে স্ত্রী বলে দাবী করে ঢাকা থেকে আনা যাবতীয় আসবাবপত্র নিজের বলে দাবী করেন। কিন্তু শালিসে কাউসারের কাছে কাবিন নামা দেখাতে চাওয়া হয়। কাবিন নামা দেখাতে না পারলে সাগরি খাতুনের ভাই নাহিদ, পিতা সাহানুজ্জামান মেকার মিলে বেধড়ক মারপিট করেন।।

পরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত্যু হয়েছে ভেবে পরিবারের লোকজন মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করতে থাকে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে প্রতিবেশীরা তাকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাউছারের পরিবারের কাছে খবর পাঠালে পরিবারের লোকজন কাউছারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে ভর্তি করার পর বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

বিডিটুডেস/জেডএইচ/১৩সেপ্টেম্বর’১৭


  • 1.5K
    Shares