English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

ঘুরে আসুন লাল শাপলার স্বর্গরাজ্যে


মোহাম্মদ ইউসুফ : গ্রামের নাম সাতলা। আর সাতলা গ্রামের আকর্ষণ ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে লাল শাপলার। কেউ কেউ এটিকে আবার লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন। তবে সাতলা নামের সাথে শাপলার কোন সম্পর্ক আছে কিনা এমন প্রশ্নের কোন উত্তর নেই স্থানীয়দের। বিলে ঠিক কত আগে থেকে এভাবে শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তার কোন সঠিক তথ্যও দিতে পারেনি স্থানীয়রা। এই বিলে শুধু শাপলাই ফোটে না, শীতের মৌসুমে যখন পানি কমে যায়, তখন সব শাপলা মরে যায়, কৃষকরা এখানে ধান চাষ করে। সাধারণত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই বিলে লাল শাপলা ফুল ফোটে।

সাতলার পরিচিতি:

সাতলা বর্তমানে একটি পর্যটকমুখী এলাকা হলেও এটি একটি বিলের নাম। এক সময়ে বর্ষাকালে এটা সম্পুর্ণ ডুবে যেতো। স্বাধীনতার পরে তৎকালীন মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রথম সাতলায় বাধ দেয়ার কাজ শুরু করেন। তারপর বিল থেকে বিশাল এলাকা উত্থিত হয়ে বর্তমানে মনোরম এলাকায় পরিণত হয়েছে সাতলা গ্রাম। এই বিলে প্রাকৃতিক ভাবে শাপলা ফোটে। ছোট নদী , হাওড় ও বিল বেষ্টিত ছোট গ্রাম সাতলা। বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সবুজের মধ্যেই চোখে পড়ে লাল শাপলার আভা। কিছুটা সামনে গেলেই নিজ অস্তিত্বের জানান দেয় ফুটন্ত লাল শাপলা আর আস্তে আস্তে পরিস্কার হতে থাকে সবুজের মাঝে লাল শাপলার অবস্থান। গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বাস চলাচলের রাস্তাটি গ্রামটিকে এনে দিয়েছে গতিময়তা। আর বিলের মাঝে ফুটন্ত লাল শাপলা গ্রামটিকে করেছে পরিপাটি। গ্রামের সাদাসিদে লোকজনের অতিথিপরায়ণতা আপনাকে মানসিকভাবে করে তুলবে প্রাণবন্ত। এ ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগদা ও খাজুরিয়া গ্রামের কয়েক’শ হেক্টর জমি নিয়ে এ বিলের মূল অবস্থান। সবচেয়ে বেশি শাপলার উপস্থিতি দেখা যায় সাতলার নয়াকান্দি ও মুড়িবাড়ীতে। সাতলা শুধু লাল শাপলার উৎস নয়, বলা চলে এটি লাল শাপলার গ্রাম। প্রশ্ন থাকতে পারে শুধুই কি লাল শাপলা এখানে জন্মে? উত্তরটা না। কারন লাল শাপলার পাশাপাশি সাদা ও বেগুনি রঙের শাপলার দেখা মিলবে। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাদা ও বেগুনি রঙের শাপলা মূলত লাল শাপলার তুলনায় অপ্রতুল। স্থানীয়দের রান্নাবান্নার তরকারি হিসেবে ও বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংগ্রহের কারনে সাদা শাপলার সংখ্যা দিন সংকীর্ণ হচ্ছে। তাই সাতলাকে লাল শাপলার দেশ হিসেবে প্রাধাণ্য দেয়াটাই যুক্তিযুক্ত।

কিভাবে ঘুরবেন :
লাল শাপলার বিলে ঘোরার জন্য অবশ্যই নৌকার প্রয়োজন হবে। এজন্য সাতলার নয়াকান্দির মতি মিয়ার স্মরণাপন্ন হতে পারেন। সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঘোরার জন্য আপনাকে নৌকার ব্যবস্থা করে দেবে। নৌকা ও লোকজনের পরিমান ভেদে নৌকায় ভ্রমনের জন্য এ খরচের পরিমান ৫০০-৮০০ হতে পারে। আর ঘুরতে বেরোনোর সময় অবশ্যই সাথে ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। কারন এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশকে দ্বিতীয়বার স্মরণ করতে চাইলে ক্যামেরায় তোলা ছবির বিকল্প নেই। ঘুরতে ঘুরতে শাপলার পাতার উপর দেখা মিলতে পারে ছোট বড় সাপের, ভয়ের কারন নেই এগুলো আপনার কোন ক্ষতি করবেনা। তবে সাবধানে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।

কখন ঘুরবেন :
সাধারণত আগস্ট মাসের শেষের দিকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই বিলে লাল শাপলা ফুল ফোটে। আর শাপলার আসল সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮ পর্যন্ত। শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্য ও ফুটন্ত অবস্থায় পেতে অবশ্যই এই সময়টাতে আপনাকে ঘুরতে হবে কারন সূর্যের উপস্থিতির সাথে সাথে শাপলা তার আপন সৌন্দর্যকে গুটিয়ে নেয়। তাই ফুটন্ত শাপলা পেতে হলে বিলের আসেপাশে রাত্রিযাপন করে অবশ্যই খুব ভোরে শাপলার বিলে যেতে হবে।

কোথায় থাকবেন :
থাকার জন্য খুব ভাল ব্যবস্থা নেই সাতলায়। তবে আরামদায়ক রাত্রিযাপনের জন্য স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে তাদের আশ্রয়ে থাকা যেতে পারে। এতে খুব সকালে শাপলার বিলে ভ্রমন আপনার জন্য সহজতর হবে। পাশর্^বর্তী হারতা বাজারে রাতে থাকার জন্য স্বল্পখরচের দুটি হোটেল আছে তবে সেটা শহুরে লোকজনের জন্য খুব একটা আরামদায়ক হবেনা। আরামদায়ক রাত্রিযাপনের জন্য অবশ্যই উজিরপুর বা বরিশালের স্মরণাপন্ন হতে হবে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় যদি সাতলার স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এমনকি খাওয়া দাওয়াও সারতে হবে এখানে। অবশ্যই আপনি তাদের অতিথিপরায়ণতায় মুগ্ধ হবেন।

কিভাবে যাবেন:
ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে পয়সারহাট বা বৈঠাকাটাগামী যুবরাজ বা তরীকা-২ লঞ্চে হারতা নেমে খুব সহজে সাতলায় আসতে পারেন। ডেকের ভাড়া ২৫০-৩০০ এবং সিঙ্গেল কেবিন ১০০০-১২০০। এছাড়াও ঢাকা-বরিশাল লঞ্চে বরিশাল শহরে এসে সাতলা যেতে পারেন। নথুল্লাবাদ বাস স্টেশন থেকে ৩০ মিনিট পরপর সরাসরি সাতলার উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে, যেখানে জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা।

এছাড়া বরিশাল থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও কিংবা মাহিন্দ্রা ভাড়া করেও যাওয়া যায়, এতে ৫শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মতো বাহনভেদে যাওয়া-আসায় খরচ পড়বে। কেউ চাইলে ঢাকা-হুলারহাট-ভান্ডারিয়ার এম. ভি. মহারাজ, ফারহান-১০, অগ্রদূত প্লাস, রাজদূত -৭ ইত্যাদি লঞ্চে (ডেকের ভাড়া ২৫০-৩০০ এবং সিঙ্গেল কেবিন ১০০০-১২০০) স্বরূপকাঠী নেমে স্থানীয় ট্রলারযোগে মিয়ারহাট থেকে বৈঠাকাটা- চৌমোহনা হয়ে সাতলা যেতে পারেন। ট্রলারে যাওয়ার জন্য যাতায়াত বাবদ ১৫০০ – ২৫০০ টাকা লাগবে। কেউ স্থলযোগে বাসে আসতে চাইলে হানিফ, সাকুরা, সোনারতরী বা বিআরটিসি বাসে সরাসরি বরিশাল এসে সাতলার বাসে যেতে পারেন। আর স্বরূপকাঠী পর্যন্ত বাসে আসার জন্য হানিফ, সোনার তরী বা সুগন্ধা পরিবহনে আসতে পারেন।

বিডিটুডেস/জেডএইচ/২৩সেপ্টেম্বর’১৭


  • 1.6K
    Shares