English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

আমদানি কমায় হিলিতে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী


বিডিটুডেস ডেস্ক: দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়। দুর্গাপূজা ও আশুরাকে কেন্দ্র করে এ স্থলবন্দর দিয়ে সাতদিন পেঁয়াজসহ সব ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর জের ধরে চাহিদা অনুযায়ী পণ্যটির সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে (ট্রাক সেল) প্রতি কেজি পেঁয়াজ অতিরিক্ত ৮-১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে ছুটি শেষে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পণ্যটির আমদানি বেড়ে দাম কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার বন্ধের আগে এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২০-২৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে পণ্যটির আমদানির পরিমাণ দৈনিক ১৫-২০ ট্রাকে নেমে এসেছে। ৩ অক্টোবর পূজা ও আশুরার ছুটি শেষে স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৪ অক্টোবর ১৬টি ট্রাকে ৩০২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ৫ অক্টোবর ২১টি ট্রাকে ৩৯৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ৬ ও ৭ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। এর আগে গত মাসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মোট ৬৩৯টি ট্রাকে ১২ হাজার ৯৫৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। অন্যদিকে আগস্টে ৭৪১টি ট্রাকে ১৫ হাজার ৬৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আর জুলাইয়ে ১ হাজার ৯৭টি ট্রাকে মোট ২২ হাজার ৭৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। সেই হিসাবে, তিন মাস ধরে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ইন্দোর, নাসিক, রাজস্থান ও পাটনা— এ চার জায়গার পেঁয়াজ আমদানি হয়। গতকাল স্থানীয় পেঁয়াজ আমদানিকারকদের গুদাম ঘুরে ভারতের পাটনা থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি পর্যায়ে (ট্রাক সেল) মানভেদে ৩৩-৩৪ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যদিকে রাজস্থান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৩৬ টাকায়। ইন্দোর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দুর্গাপূজার ছুটির আগে ভারত থেকে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ মান ও জাতভেদে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

সেই হিসাবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৮ টাকা। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মানভেদে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দুর্গাপূজার ছুটির আগে পণ্যটি বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ২৮-৩০ টাকায়। সেই হিসাবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৭-১০ টাকা। এদিকে স্থানীয় বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে পণ্যটি প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকায়।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ ও রবিউল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা ও আশুরা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাতদিন পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। এ সময় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়নি। এর জের ধরে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যায়। ফলে বেড়ে যায় পণ্যটির দাম। একই সঙ্গে চলতি মাসের শেষ নাগাদ দেশটিতে খরিফ মৌসুমের পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হবে। ফলে চলতি মৌসুমের শেষে এসে দেশটির মোকামগুলোয় পণ্যটির সরবরাহ তুলনামূলক কম রয়েছে। এ কারণে ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। একদিকে সরবরাহ হ্রাস, অন্যদিকে ভারতের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি— এ দুইয়ের জের ধরে দেশের বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

হারুন উর রশীদ বলেন, হিলি স্থলবন্দরে ছুটির আমেজ কেটে যাওয়ায় এখন ভারতে পণ্যটির সরবরাহ বাড়লে দু-একদিনের মধ্যে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়বে। এর জের ধরে দেশের বাজারে (পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে) আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমে আসবে। তবে এক্ষেত্রে ভারতে পণ্যটির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম বর্তমানের মতোই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানান তারা।

বিডিটুডেস/ এস আই/ ০৮ অক্টোবর, ২০১৭