English Version

সুন্দরবন কে মুক্তি দাও!


Tigerমাহবুব সৈয়দ: সুন্দরবন মানে এক বুক সজিব নিশ্বাষ’একটি নয় হাজার গাছের সমাহার।
সুন্দরবন মানে অক্সিজেনের ভান্ডার”সুন্দরবন মানে বাঘ হরিন সহ অসংখ্য জীব জন্তুুর সমাহার।আর পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত চারপাশ্ব।
সুন্দরবন মানে সৃষ্টার মহান নিয়ামত-লতাপাতার সুনিবিড় মোড়ানু চাদর।
সুন্দরবন কোন বিনিময় আসা না করে-আমাদের উপকার করে যাচ্ছে।ভয়ানক আইলা ও সিডরের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় উপকূলীয় লাক্ষ লাক্ষ মানুষ কে মায়ের মতো বুকে আগলে রেখেছে।কোন বিনিময় আশা না করে সুন্দরবন শুধু উপকারিই করে যাচ্ছে।সেই সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যূ উৎপাদন বোকামি ছাড়া অন্য কিছু না।
অশিক্ষিত অবুজ গায়ের বধুও বোজতে পারে! রামপাল বিদ্যূ কেন্দ মানে সুন্দরবন ধ্বংস।আর আমাদের সূশিল-কূশিল নামের অনেক ভদ্রমহদয় বলছেন রামপাল সুন্দবনের কোন ক্ষতি করবেনা।ধিক্কার জানাই সেই সব চাটুকাদের যারা নিজের স্বার্থের জন্য প্রকৃতি ধ্বংসে মেতে উঠছেন।
মনে রাখবেন-প্রকৃতির উপর হাত দিলে প্রকৃতিও তার প্রতিশোধ নিতে ভুলে না।সেই প্রতিশোধ খুবিই ভয়ানক ও মর্মান্তিক। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে মানুষ খুবিই অসহায়।সেই চিএ বড়ই করুন এবং হৃদয়বিদারক।
আমরা দেখেছি-আইলা,সিডরের ধ্বংসযজ্ঞ রুপ।জাপানের ভয়ংকর সুনামি।যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারিকেন স্যান্ডির দাপটের সামনে সমগ্র প্রানী কূল যে কতটা অসহায় সেই চিএ বিশ্বে অদেখা নয়।রামপাল বিদ্যূ কেন্দের কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়েই পরিবহন করা হবে! এ
জন্য সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রায় সারা বছর ধরেহাজার হাজার টন কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করবে।
সরকারি পরিবেশ সমীক্ষা ইআইএ)অনুযায়ী, রামপালবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা ইন্দোনেশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সমুদ্র পথে আমদানী করতে হবে।
আমাদানীকৃত কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজের মাধ্যমে মংলা বন্দরে এনে তারপর সেখান থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে
যেতে হবে। কিন্তু সুন্দরবনের ভেতরে পশুর নদীর গভীরতা সর্বত্র বড় জাহাজের জন্য উপযুক্ত না হওয়ার কারণে প্রথমে বড় জাহাজে করে কয়লা সুন্দর বনের আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত আনতে হবে, তারপর আকরাম পয়েন্ট থেকে একাধিক ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে কয়লা মংলাবন্দরে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য সুন্দর বনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিমি নদী পথে বড় জাহাজ বছরে ৫৯ দিন এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিমি পথ ছোট লাইটারেজ
জাহাজে করে বছরে ২৩৬ দিন হাজার হাজার টন কয়লা পরিবহন করতে হবে!
সরকারের পরিবেশ সমীক্ষাতেই স্বীকার করা হয়েছে, এভাবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করার ফলে-
১) কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ থেকে কয়লার গুড়া,ভাঙা /টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানি সহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নি:সৃত হয়ে নদী-খাল-মাটি সহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করে ফেলবে;
২) সুন্দরবনের ভেতরে আকরাম পয়েন্টে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা উঠানো নামানোর সময় কয়লার গুড়া, ভাঙা কয়লা পানিতে/মাটিতে পড়ে- বাতাসে মিশে মাটিতে মিশে ব্যাপক পানি-বায়ু দূষণ ঘটাবে;
৩) চলাচলকারী জাহাজের ঢেউয়ে দুইপাশের তীরের ভূমি ক্ষয় হবে;
৪) কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ ও কয়লা লোড- আনলোড করার যন্ত্রপাতি থেকে দিনরাত ব্যাপক শব্দ দূষণ হবে;
৫) রাতে জাহাজ চলের সময় জাহাজের সার্চ লাইটের আলো নিশাচর প্রাণী সহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুন্দরবনের পশু-পাখির জীবনচক্রের উপর মারাত্বক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
ছোট বড়-উন্নত অউন্নত প্রিথীবির কোন দেশেই প্রাকৃতিক রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে সক্ষম নয়।অতএব আমরা জেনে শুনে নিজের পায়ে কোঁড়াল মারছি।

১৮/০৮/২০১৬-ZR