English Version

সম্ভাবনা বাড়ছে পানি ব্যবসার, বিপদ বাড়ছে সর্বজনের

মাহবুব সৈয়দ: পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া কোনো সৃষ্টজীবের বেঁচে থাকার কল্পনাই করা যায় না। সৃষ্টিলগ্ন থেকেই পানির গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, মানব সভ্যতার বড় বড় চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জড়িত ছিল পানি৷ প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে এটি অনন্য৷ পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবিকার উন্নয়ন, সর্বোপরি জীবনের প্রয়োজনেও সমাধান নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই। বিশেষ করে বাংলাদেশের পানি নিয়ে ভাবনা এবং সংকট ও সমস্যা যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; সেখানে অবশ্যই পানি বিষয়ে আগে-ভাগেই সচেতন হওয়া দরকার। নদ-নদী বিধৌত এদেশ সত্যিই মনোরম। পানির কোনো অভাব নেই। খাল-বিল,
নদী-নালাসহ এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে আজকে সুপেয় পানি বা বিশুদ্ধ পানি অনেক ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি করে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। ১৯৮০-র দশকের শুরু থেকেই উন্নয়নের নামে জগতের বাকি সবকিছু ব্যক্তিমালিকানা,
বাণিজ্য আর মুনাফার কর্তৃত্বে আনার উন্মাদনা সৃষ্টি করা হয়।
পানি ব্যক্তিমালিকানায় বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে রূপান্তরের চাপ দিন দিন বেড়েই চলছে। পানি-বাণিজ্যের উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনায় এই
খাতে বহুজাতিক কোম্পানির বিনিয়োগও তাই ক্রমবর্ধমান। হৃাস পাচ্ছে।
নদী মাতৃক দেশে পানি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও যখন ১১০টি, যাদের লাইসেন্স আছে। লাইসেন্স নেই, এমন প্রতিষ্ঠানও নাকি আছে। তাদের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। এসব প্রতিষ্ঠান বিশুদ্ধ পানির নামে বোতল ও জারজাত পানি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। দাম নিচ্ছে আকাশ- ছোঁয়া। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে উৎপাদন ও বোতলজাত করতে আধালিটার পানির জন্য সর্বোচ্চ ব্যয় হয় ৭ টাকা ১২ পয়সা। অথচ এই আধা লিটার পানির বিক্রয়মূল্য ১৫ টাকা। ট্যারিফ কমিশনের এই দামের প্রতি বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। অনুরূপভাবে ২০ লিটারের এক জার ‘নিম্নমানের ’ পানির উৎপাদন খরচ পড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা। এক জারে পানি হয় ৭৫ গ্লাস। প্রতি গ্লাসের দাম দাঁড়ায় ১৩ পয়সা। অথচ তা বিক্রী হয় ৫০ পয়সা করে। অভিযোগ রয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে জারের পানি বলে যা সরবরাহ করা হয় তা অনেক ক্ষেত্রে ‘নিম্নমানের’ও নয়। ওয়াসার পানি জারের পানি
বলে চালিয়ে দেয়া হয়। পানির ক্রেতা- ভোক্তারা কিভাবে ও কতভাবে ঠকছে, এ থেকে তা কিঞ্চিৎ অনুধাবন করা যায়। পানির ব্যবসা
এখন অতি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে পানির ব্যবসাও খুলে বসেছে। পানি উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিন কে দিন বাড়ছে। ক্রেতা-ভোক্তারা দায়ে পড়ে পানি কিনছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ফুলে ফেঁপে উঠছে। শুধু মানুষই নয় পানি সকল প্রাণ ও প্রকৃতির অধিকার। এটি প্রকৃতির অংশ, এটা কেউ তৈরি
করেনি। তাই পানি আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকেই নয় প্রাণ ও প্রকৃতির স্বার্থ- অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েই হতে হবে।

লেখক পরিচিতি(প্রধান সম্নয়ক- বাঁচাও শীতলক্ষ্যা নদী আন্দোলন)

Shares