English Version

শিল্পায়নে নদীর অবদান অসামান্য!


মাহবুব সৈয়দ: মানব সভ্যতা থেকে শুরু আধুনিক বিশ্বেও শিল্প বানিজ্য বিকাশে নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।পৃথিবীর ছোট বড় নগর মহানগর,গড়ে উঠেছে কোন না কোন নদীর বুকে। বর্তমান বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক-শিল্প বাণিজ্য বিকাশের পটভূমিতেও নদীর অবদান অসামান্য। কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান শিল্প বাণিজ্য বন্দর, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সূতিকাগার সেখানে। খুলনায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর শিল্প বাণিজ্য বন্দরে জুট মিল, হার্ডবোর্ড নিউজপ্রিন্ট মিল গড়ে ওঠে রূপসা ও ভৈরব নদের পাড়ে। শীতলক্ষ্যার তীরে নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম নদীবন্দর ও শিল্প নগরী। আদমজী জুট মিল।ঘোড়াশাল অংশে রয়েছে বৃহঃতম দুই টি সারকারখানা ও বিদ্যূ কেন্দ্র।তেমনি করতোয়ার তীরে বগুড়া, গোমতির তীরে কুমিল্লা, সুরমার তীরে সিলেট, বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা। বস্তুত বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা, নগর বা জনপদ নেই, যা নদীপথ ব্যবহার করে বা কেন্দ্র করে নদীতীরে গড়ে ওঠেনি। সকল শিল্পাঞ্জল শহর গুলি গড়ে উঠেছে নদী কে কেন্দ্র করে।কেননা-শিল্প কারখানার কাচামাল পরিবহন আর উৎপাদিত পন্য বিপনে সহজতর ব্যাবস্থা নদী সূএ্রেই মেলে।শিল্প কারখানার পানির চাহিদা নদী থেকেই মেটানু হয়।শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাবস্থায় নানা উপায় উপকরন হিসেবে নদী কে ব্যাবহার করা হয়। শীতলক্ষ্যা নদী আছে বলেই-সেই বৃটিশ আমল থেকে ঘোড়াশালে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। শীতলক্ষ্যা নদী ছিল বলেই ঘোড়াশাল শিল্প শহর বলে পরিচিত লাভ করেছে। আজ সেই-নদীরই মরন দশা।
আমাদের সীমাহীন লোভ লালসার শিকার হয়ে নদী এখন খালে পরিনত হয়েছে। এ নদী আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে।ভূমির উর্ভরতা বাড়াচ্ছে।পানির চাহিদা মেটাচ্ছে। যুগযুগ ধরে শীতলক্ষ্যা নদী আমাদের পরিবেশ,প্রাকৃতি রক্ষায় পরম বন্দুর মতো উপকার করছে। আর সেই বন্দুর মরন দশার সময় আমরা চোঁখ বন্দ করে বসে আছি। দৃক্কার জানাই সেই সব মানুষদের কে যারা শুধু মাএ-লোভ লালসায় আশক্ত হয়ে সভ্যতার জনক নদী কে হত্যা করছে।