English Version

লক্ষ্মীপুর ইজতেমার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আজ থেকে বয়ান শুরু

মু.ওয়াছীঊদ্দিন,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:  শুরুর একদিন আগে বৃহস্পতিবার ( ২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে লক্ষ্মীপুরের ইজতেমা মাঠে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। কানায় কানায় পূর্ন হয়ে গেছে মাঠে প্রায় সাড়ে নয় লাখ বর্গফুট এলাকায়। এরই মধ্যে লক্ষাধিক মুসল্লি এসে জমায়েত হয়েছেন। যদিও ইজতেমা মাঠে জেলার প্রায় ৩ লাখ মুসল্লি সমাগত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জামাত বন্ধী মুসল্লিরা এ ইজতেমায় আসছেন।

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) ফজরের নামাজের পর থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে প্রথম বারেরমত তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার মূল অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ২৫ডিসেম্বর রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামের শুতার গোপটা এলাকার মাঠে তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে এ বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো লক্ষ্মীপুরে বিশ্ব ইজতেমায় এবার ভারত, পাকিস্তান, জর্ডান এবং বাংলাদেশের প্রায় ২০জন মেহমান মুসল্লিদের উদ্যেশ্যে হেদায়েতী বয়ান করবেন বলে জানিয়েছেন তাবলীগ-জামাতের মুরুব্বি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আলী মোরশেদ।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শরীফুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্যা আল মামুনসহ তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বিরা।
এ সময় পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, লক্ষ্মীপুরে বিশ্ব ইজতেমা কে সফল করতে পুলিশ, র্যাব, ডিবি পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের এলাকায় ৫ শতাধিক পুলিশ, ২শত কমিনিউটি পুলিশ, সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়াও ইজতেমার পুরো মাঠ সিসি টিভির আওতাভুক্ত থাকবে। এছাড়া আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো ইজতেমা মাঠ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, ইজতেমাকে ঘিরে ইজতেমা মাঠে মুসল্লিদের জন্য সর্বক্ষণিক মেডিকেল টিম ও এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বেসরকারি মোবাইল অপরেটর রবি এবং এয়ারটেল মুসল্লিদের স্বার্থে চলমান টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
গত ২৪ নভেম্বর থেকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামে শুতার গোপটা এলাকায় লক্ষ্মীপুরে বিশ্ব ইজতেমার জন্য মাঠ নির্ধারণের পর থেকে শুরু হয় ইজতেমার জন্য মাঠ তৈরীর কাজ। লক্ষ্মীপুর পৌসভার মেয়র আলহাজ্ব মো. আবু তাহের ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাহ্উদ্দিন টিপুর তত্বাবধায়নে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ বর্গ ফুটের ফসলী মাঠকে ইতিমধ্যে তাবলীগ জামাতের সাথীরা স্বেচ্ছাশ্রমে আগত মুসল্লিদের জন্য তৈরী করেছেন। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বাঁশের উপর সামিয়ানা দিয়ে মুসল্লিদের থাকার উপযোগী করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ৩ দিনের জন্য মাঠে অস্থায়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। সেচ্ছাসেবি এবং সংশ্লিষ্টরা মেহমানদের জন্য তাককিল কামরা, তাঁবু, টয়লেট, পানির লাইন, ভিতরের রাস্তা এবং শব্দ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করেছেন।
লক্ষ্মীপুরের তাবলীগ জামাতের সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ৪ মাস সময় দেয়া তাবলীগ জামাতের সাথি রয়েছেন ৩৩শ ৩২ জন এবং ৪০ দিনে সময় দেয়া সাথি ৫ হাজার। এর বাহিরে ৩ দিন, ৭ দিন সময় দেয়া মুসল্লির সংখ্যা লাখের ওপরে।
তাবলীগ জামাতের মুরব্বীর সূত্রের জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চার ভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। মুসল্লিদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরুর পর ২০১৬ সালে এ পরিবর্তন আনা হলো। সে নিয়মানুযায়ি প্রতি বছর দেশের ৩২টি জেলার মুসল্লিদের নিয়ে টঙ্গী তুরাগ তীরে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।
বাকি ৩২টি তাদের নিজ নিজ জেলায় ইজতেমা করবে। চলতি বছরে তুরাগ তীরে ইজতেমায় অংশ গ্রহনকারীরা পরের বছর নিজ নিজ জেলায় ইজতেমা করবে । তবে বিদেশী মুসল্লিরা প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই ধাপে করা হয়েছে। ২০১১ সালের আগে প্রতি বছর এক ধাপে অনুষ্ঠিত হতো বিশ্ব ইজতেমা।
এদিকে, আল্লাহর সন্তুষ্টি, পরকালের মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি কামনা করে ২৫ ডিসেম্বর রবিবার শেষ হবে মুসল্লিদের এ মহা মিলন মেলা।
Shares