English Version

হাঁপানি ও কাশি থেকে হতে পারে হৃদরোগ

বিডিটুডেস ডেস্ক: যারা দীর্ঘদিন থেকে হাঁপানি বা কাশিসহ শ্বাসকষ্ট কিংবা ফুসফুসের অসুস্থতাজনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা রোগের কোনো এক পর্যায়ে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

আমাদের হৃৎপিণ্ডে ২টি পার্শ্ব আছে। ডানপাশ ও বামপাশ। দুটি পাশ সম্পূর্ণ আলাদা। একই হৃৎপিণ্ডে তাদের অবস্থান। ডানপাশে অপরিশোধিত রক্ত থাকে। সুতরাং ডানপাশ পরিশোধনের জন্য হৃৎপিণ্ড রক্তকে ফুসফুসে প্রেরণ করে। বামপাশে পরিশোধিত রক্ত থাকে। বামপাশ ফুসফুস বাদে সর্ব শরীরে পরিশোধিত রক্ত সঞ্চালন করে। যখন ফুসফুসে রক্তের চাপ বাড়ে তখন ডানপাশের হৃৎপিণ্ড আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং শরীরে রক্তচাপ বাড়লে বাম পাশের হৃৎপিণ্ড আক্রান্ত হয়ে থাকে।

দীর্ঘমেয়াদি হাঁপানি, দীর্ঘমেয়দি শ্বাসকষ্টের ফলে ফুসফুসের রক্তনালীতে এক ধরনের স্থায়ী পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। ফলশ্রুতিতে ফুসফুসে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। ফুসফুসের রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে ফুসফুসের ডানপাশ কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের ডানপাশকে অনেক বেশি কর্মসম্পাদন করতে হয়।

এই অসুখে হৃৎপিণ্ডের ডান পাশের প্রকোষ্ঠদ্বয় অত্যধিক চাপের মধ্যে কাজ করতে করতে অকেজো হয়ে হার্ট ফেইলুর রোগ সৃষ্টি করে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ রোগকে Right sided heart failure বা Cor-pulmonale বলা হয়ে থাকে।

কারণ : যে কোনো কারণে ফুসফুস রক্তচাপ বাড়লে এরূপ অসুস্থতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। সুতরাং এ রোগের কারণ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি রোগ, বংশগত হাঁপানি রোগ, শ্বাসকষ্টসহ দীর্ঘমেয়াদি কাশি (যারা প্রচুর ধূমপান করেন, ধুলোবালুময় অথবা বাতাসে অত্যধিক গ্যাস সম্পূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন), যাদের প্রায়ই সর্দি কাশি, ঠাণ্ডা লেগে থাকে, এ ধরনের ব্যক্তিগণ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সিষ্টিক ফাইব্রোসিস, এক বা একাধিক বার যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে ফুসফুসের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পিঠে মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া বা কুঁজো রোগ, ফুসফুসের রক্ত জমাট বাঁধা, ঘুমের ভিতর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়াজনিত অবস্থাকে অনেকে বোবায় আক্রান্ত হওয়া অথবা বোবায় ধরা বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। ফলশ্রুতিতে মানুষের ঘুম ভেঙে যায়, অস্থিরতা ও ভীতির সঞ্চার হয়। সমস্যার কারণে ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়া, এসব সর্দি-কাশির সঙ্গে প্রায়ই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়া এবং কখনও কখনও অনির্ধারিত কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

উপসর্গ : কায়িকশ্রম সম্পাদনকালে মাথা হালকা বোধ করা, ভারসাম্যহীনতা বোধ করা, পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা অনুভব করা, মাথা ঘুরানো এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হয়ে আসা, তার সঙ্গে অত্যধিক ঘাম উৎপন্ন হওয়া। ঘামের ফলে পরিধানের কাপড় ভিজে যাওয়া, খুব তাড়াতাড়ি বিশ্রাম গ্রহণ করতে বাধ্য হওয়া-এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। তার সঙ্গে বুকের ভিতর হাতুড়ি পেটার মতো অনুভূতি হওয়ার মতো লক্ষণ থাকতে পারে। ধীরে ধীরে রোগ বাড়তে থাকলে (সময়ের আবর্তে রোগ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে এটাই স্বাভাবিক ধারা) অন্যান্য অনেক ধরনের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। যেমন- কায়িকশ্রম সম্পাদনকালে অজ্ঞান অথবা অজ্ঞানমত হয়ে যাওয়া, বুকে অস্বস্তি বোধ করা, বিশেষ করে বুকের সামনের দিকের মাঝখানে, বুকে ব্যথা, হাত, পা, মুখ ফুলে যাওয়া, পেট ফেঁপে যাওয়া, পেটে পানি জমা হওয়া, পেটে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন হওয়া, ক্ষুধা-মন্দা দেখা দেয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। এর সঙ্গে যেসব রোগের কারণে এ অসুখ উৎপন্ন হয় যেমন হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কাশি এগুলো অনেকগুণে বৃদ্ধি পাবে।

চিকিৎসা পদ্ধতি : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধপত্র ব্যবহারের পাশাপাশি বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন- অত্যধিক কায়িকশ্রম ও ভার উত্তোলন পরিহার করা, পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণ না করা, নিউমোনিয়া জাতীয় অসুস্থতার জন্য টিকা গ্রহণ করা, ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা, মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

Shares