English Version

একগুচ্ছ কবিতা

অন্য কোথাও—
১. তোমাকে চিরায়ত— প্রতিবিম্বের মত আমি আগলে রাখি।
নিজেকে গুছিয়ে নিই তোমাকে দেখে।
আর দ্যাখো, আমাদের পাথরখচিত স্মৃতি জমে জমে পাহাড়প্রমাণ হলো।যে পাহাড়—
দূর থেকে দেখে মনে হয়— মাথা গুঁজে আছে
এক মেঘের বালিশে
২. আমাদের স্মৃতির পাহাড়,মেঘের বালিশ থেকে
বৃষ্টি নামালো
আর, অদূরেই একেকটি দিন—
এরকম মনে হয় যেন :
—অবিরাম বৃষ্টির মত শুধু ঝরেই চলেছি খুব
শহরের যে কোনো রাস্তা বা গলিতে আর…
প্রতিটি জানালার ওপাশ থেকে তুমি—
আনমনে চেয়ে দেখছো
৩. এখানে কেউ নেই— আপাতত আমরা দুজন
—একই নৌকায়; দিগন্ত ছুঁয়ে থাকা মাঠ, তাতে সন্ধ্যা বেড়ে চলে ঘাসের মত
— আর কেউ নেই নদীটিও ফিরে যাচ্ছে :মাগরিবে, মায়ের ডাকে
আমাদের খেলনা নদী…
আর দ্যাখো, অবিকল যীশুখ্রিস্টের মত
— আমাদের ছোট নৌকা, তার জলের উপর দিয়ে আনমনে হেঁটে চলেছে
ধর্ষিতা
সেই মেয়েটির কথা ভাবি— ধর্ষণের পর যাকে হত্যা করা হয়েছিল নির্মমভাবে।
“ধর্ষিতা”; আদৌ কি নাম ছিল তার?
আমি লাশের ছবি দেখেছিলাম।
তাকে ঘিরে ছিল পুলিশ ও উৎসুক জনতার ভিড়।
উপস্থিত জনতার মাথার ভেতর তখন বেজে উঠছিল, “ধর্ষণ” এর মত একটি উজ্জ্বল শব্দ এবং আনুষঙ্গিক সব দৃশ্যকল্প।
আর তারা প্রত্যেকেই লাশটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল একেকটি উত্থিত শিশ্নের মত।
পাঠ
—যে কোনো কাগজই একেকটি মৃত গাছ।
সোফার টেবিলে আধখোলা ডায়রি তোমার—
সামান্য বাতাসেই পৃষ্ঠাগুলি পাখির ডানার মত জীবন্ত ঝাপটে ওঠে।
সে ডানায় তোমার দিনলিপি গোটা অক্ষরে এবং ওপাশেই
— বিস্তৃত দীর্ঘ তুমি।
একই ভঙ্গিতে, আধখোলা এবং জীবন্ত, শরীরে কাগুজে ঘ্রাণ,
অক্ষরের পর অক্ষর

— অচেনা ভাষায়

 

লেখক :
রনক জামান
জন্ম- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯১, মানিকগঞ্জ।
কবি ও অনুবাদক।
রসায়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিডিটুডেস /জেডএইচ/২৭ডিসেম্বর’১৬

Shares