English Version

কোথায় আমার ঠিকানা?

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব আনুমানিক ১৪.৯৬ কোটি কিলোমিটার যাকে ১ নভো-একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে পৃথিবীর কক্ষপথ যেহেতু উপবৃত্তাকার সেহেতু সূর্য থেকে তার দূরত্ব পরিবর্তিত হয়, জানুয়ারি মাসে সে সূর্যের সবচেয়ে কাছে (অনুসূর) আসে এবং জুলাইয়ে সবচেয়ে দূরে (অপসূর) সরে যায়। যাই হোক, গড় দূরত্বে সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড সময় নেয়। এই সূর্যালোকের শক্তি পৃথিবীর প্রায় সকল জীবকে বাঁচিয়ে রাখে (এই নরাদমকেও)। পৃথিবীর উপর সূর্যের বিশাল প্রভাব সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ অনুধাবন করে আসছে। অনেক সংস্কৃতিতে সূর্যকে তাই দেবতা মনে করা হতো।
যে মানুষটার গর্ভে আমার জন্ম, তাঁকে অনেকটা সূর্যের মতই মনে হয় ; তবে দুইটি ক্ষেত্রে মাকে সূর্য থেকেও এগিয়ে রাখবো।
প্রথমত,
মায়ের ক্ষমতাটা সূর্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
সূর্যের সাথে সম্পর্ক এই পৃথিবীতে আসার পর,
কিন্তু মায়ের সাথে?
স্রষ্টার সৃষ্টি চিন্তা থেকেই।

সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে যথেষ্ট নেয়।

কিন্তু মায়ের আশীর্বাদ ন্যানো সেকেন্ডের পূর্বেই সন্তানের বিপদে আপদে পৌঁছে যায়।
মা কখনো সন্তানকে অভিশাপ দেয়,
তা আমি বিশ্বাস করিনা ;
এই ছোট্ট জিবনে মাকে যে কষ্ট দিয়েছি, সেজন্য মা যদি সিকি পরিমাণ অভিশাপ দিতো (?)
আমাকে মায়ের কোলেই ফিরে যেতে হতো।
দ্বিতীয়ত,যে গুণটির জন্য মা সর্বোত্তম,
মন থেকে তা কখনোই উপলদ্ধি করার চেষ্টাই করিনি;
সূর্যের গতি মূলত ২ প্রকার ৷
১.সূর্য তার নিজ অক্ষের উপর সমস্ত সৌরজগত নিয়ে ঘুরছে।
২. সূর্য মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রকে প্রতি ২০ কোটি বছরে প্রায় ২৪০কিমি/সে. বেগে একবার আবর্তন করছে ৷

কিন্তু মায়ের চিন্তা চেতনায় সর্বদাই আমার মঙ্গল, আমার ভালো থাকাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে ।
একবারও মা নিজের সুখের কথা ভাবেনি,
ভেবেছে আমার সুখ নিয়ে, আমার ভালোমন্দ নিয়ে, আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে।
মাকে তো অনেকটা সূর্যের মতই মনে হয় ;
সেই চিন্তা থেকেই ভাবনা এলো ‘দেখি আমাকে সৌরজগতের কোথাও ঠাঁই দেয়া যায় কিনা ?’
দেখলাম কোথাও আমার ঠাঁই হলো না।
এই পৃথিবীকে আমি অনেক ভালোবাসি,
এই পৃথিবীর রূপ-রস, স্বাদ-আল্লাদ সব সব,,,,
অনেক মানব-মানবীকেও ভালোবাসি।
এমনকি কোন এক মানবীকে আমার মনের পৃথিবীও করে নিয়েছে।
তো ভাবলাম,
এই পৃথিবীর সাথেই আমার কোন মিল পাই কিনা খুঁজে দেখি ?
নেই, মিল নেই ;
সর্বপ্রধান শর্তেই মিল নেই!
পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তন করে কিন্তু যার জন্য পৃথিবী এতো সুন্দর, সকলের কাছে এতো প্রিয়, তাঁকে কেন্দ্র করেই পৃথিবীর পথচলা।

আমি কি করলাম?
শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত রইলাম, মরীচিকার পেছনেই ঘুরলাম।তারপর মসজিদে শুধালাম, গির্জায় শুধালাম
কোথায় আমার ঠাঁই দিবো?
কার সাথে আমার মিল খুঁজবো?
প্যাগোডা মন্দিরে ঘুরে ঘুরে জানলাম,
সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য এই পৃথিবীতে সুখের কোন স্থায়ী বন্দোবস্ত করেন নি।
পরপারে খুব যত্ন করে দুটি আবাসস্থল গড়ে রেখেছেন।
আমার চিন্তা চেতনা, সুখ শান্তি,মায়া মহব্বত কাকে কেন্দ্র করে? তাই নির্ধারন করবে আমার ঠিকানা।
তাই
” মসজিদ বলো মন্দির বলো
প্যাগোডা আর গির্জা
কোথায় খুঁজো স্বর্গ নরক
মায়ের চরণতলে তা। ”

লেখা:
ফারহান রাজিব
শিক্ষার্থী,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়