English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

আরেকটি হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তানের


অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২২০ রানে হেরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হল পাকিস্তান।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২৮৭ রানের বেশি করে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের রেকর্ড নেই কোনো দলের। সবশেষ ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া টার্গেট তাড়া করে জয় পেয়েছিল ৮ উইকেটে।

সেখানে পাকিস্তানের টার্গেট ৪৬৫। জিততে হলে পাকিস্তানকে রেকর্ড গড়তে হতো । কিন্তু জয় তো দূরে থাক অস্ট্রেলিয়ার দাপটে উড়েই গেছে পাকিস্তান। ২২০ রানের বড় হারে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান। এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশ হল পাকিস্তান।

১৯৯৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে কোনো ম্যাচ জিতেনি পাকিস্তান। ১৯৯৯ সালে ওয়াসিম আকরামের দল স্টিভ ওয়াহর দলের কাছে হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে। ২০০৪ সালে মোহাম্মদ ইউসুফের পাকিস্তান হেরেছিল অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিংয়দের কাছে। ২০০৯ সালে আবারও ইউসুফের পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া।


সবশেষ ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতেছিল পাকিস্তান। সিডনিতেই ওয়াসিম আকরামের দল জিতেছিল ৭৪ রানে।

হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পাকিস্তান বছর শুরু করলেও দারুণ জয় পেয়েছে স্টিভেন স্মিথের দল। আগের দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারলেও সিডনিতে কোমড় সোজা করতে পারেনি মিসবাহ-উল-হকের দল। বোলিং, ব্যাটিং দুই বিভাগেই ফ্লপ সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়া দুই ইনিংসে ৭৭৯ রান তুলেছে মাত্র ১৩৭ ওভারে। অর্থ্যাৎ ওভার প্রতি ৫.৬৯ গড়ে রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে দুই ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ মাত্র ৫৫৯ রান।

১১ রানে আজহার আলী ও ৩ রানে ইয়াসির শাহ শনিবার পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেন। স্কোরবোর্ডে দলীয় রান ৫৫। কিন্তু ওই রানেই সাজঘরে ফিরেন আজহার (১১)। দিনের প্রথম ওভারেই উইকেট পান হ্যাজেলউড। শতরান পেরুতেই পাকিস্তান আরও ৩ উইকেট হারায়। পাক শিবিরে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দেন স্পিনার নাথান লায়ন। প্রথম ইনিংসে ১৭৫ রান করা ইউনিস খানকে সাজঘরে ফেরত পাঠান এ স্পিনার। ইউনিস খানকে আউট করার পরই জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া।


তাদের অপেক্ষায় রাখেন মিসবাহ-উল-হক, আসাদ শফিক ও সরফরাজ আহমেদ। শফিকের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান, অধিনায়ক মিসবাহ করেন ৩৮ রান। তবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন সরফরাজ আহমেদ। নতুন বলের দ্বিতীয় বলে ইমরান খান (০) আউট হলেও ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান সরফরাজ। বল হাতে ৩টি করে উইকেট নেন হ্যাজেলউড ও স্টিভ ও’কেফি। স্পিনার লায়ন ২টি ও পেসার স্টার্ক নেন ১ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ১১৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রান করা ডেভিড ওয়ার্নার ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। সিরিজ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। ৩ ম্যাচে ৫ ইনিংসে ১১০.২৫ গড়ে ৪৪১ রান করেছেন অসি অধিনায়ক। আগামী ১৩ জানুয়ারি দুই দলের পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে সিডনিতে।