English Version

পাগল বলায় বন্ধুকে খুন


খুনির বয়স ১৭ বছর, আর নিহতের বয়স মাত্র ১৪। অজ্ঞাত কারণে ১৪ বছরের এক কিশোরকে ভরসন্ধেয় ছুরি মেরে পালাল ১৭ বছরের বন্ধু! শনিবার যে কিশোর খুন হয়, তার নাম জয়দেব মণ্ডল। আর তাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীদাম নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। কিন্তু খুনি কিশোরকে গ্রেফতার করে খুনের কারণ শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছেন পুলিশ অফিসাররাও।

শনিবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্কের ঢালি পাড়ার বাসিন্দা কিছু মহিলা এক কিশোরকে দৌড়ে আসতে দেখেন। তার পেট থেকে তখন অঝোরে রক্ত পড়ছিল। ‘আমাকে জয়রাম ছুরি দিয়ে মেরে ফেলল’ বলে ওই কিশোর চিৎকার করছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাকে উদ্ধার করে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই কিছুক্ষণ বাদে জয়দেব নামে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে জয়রামের নাম বলে যায় জয়দেব। জানা যায়, ঢালিপাড়ার একটি বাগানে সন্ধেবেলা একসঙ্গে ঢুকেছিল দুই কিশোর। সেখানে জয়রাম নামে ওই কিশোর জয়দেবের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এর পরেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালায় অভিযুক্ত জয়রাম। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত এবং অভিযুক্ত দুই কিশোরের বাড়িই ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে। মৃত জয়দেবের বাড়ি রিজেন্ট পার্কের তেঁতুলতলায়। আর অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি স্থানীয় জোড়াপুকুর এলাকায়। অভিযুক্ত হিসেবে জয়রাম নামে যে কিশোরের কথা মৃত কিশোর জানায়, তার আসল নাম শ্রীদাম বিশ্বাস বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাদেরকে ওই এলাকায় আগে দেখা যায়নি হলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার দু’জনে কী করতে ওই বাগানে ঢুকেছিল, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা। রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ছাড়াও লালবাজারের গোয়েন্দা দফতরের অফিসাররাও ঘটনাস্থলে যান। যে ছুরি ব্যবহার করে জয়দেবকে আঘাত করে জয়রাম, ঘটনাস্থল থেকে সেটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জয়রামের বাড়িতে গিয়েও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। জয়রামের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এ দিনই তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু ১৪ বছরের জয়রামকে কেন খুন করল সে? উত্তরে শ্রীদাম জানায়, জয়রাম মাঝে মধ্যে তাকে পাগল বলে পিছনে লাগত। সেই রাগ অনেক দিন ধরে পুষে রেখেছিল সে। সুযোগ বুঝে শনিবার সন্ধ্যায় ঢালিপাড়ার ওই বাগানে জয়দেব নামে ওই কিশোরকে খুন করে সে। এমন তুচ্ছ কারণে নাবালক শ্রীদাম কেন এমন নৃশংস পথ বেছে নিল, পুলিশ অফিসারদেরও তা বোধগম্য হচ্ছে না।