English Version

সুন্দরীদের প্রতারণার ফাঁদে পুরুষেরা

অমর ডি কস্তা, নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম, সিংড়াসহ সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে দুই সুন্দরীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। আর এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ হারাচ্ছেন নগদ টাকা, দামী মোবাইল আবার কেউ কেউ হারাচ্ছেন দামী সখের মোটরসাইকেল। সম্প্রতি ওই সুন্দরীদের চক্রে পা দিয়ে ডিসকভার ব্রান্ডের মোটরসাইকেল হারানোর পর রবিবার জনৈক এক যুবক চক্রের এক সুন্দরী নারী সদস্য কবিতা দাস (৩০) কে উপজেলার বনপাড়া বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার পূবালী ব্যাংক পাড়ায়। পুলিশ আটক ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ওই দিনই নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে কবিতা ও রেশমা (২২) নামের দুই সুন্দরী ফারুক নামের এক যুবকের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদেরকে সাহায্যের আবেদন করেন। এসময় শাড়ি, শাখা ও সিদুঁর পড়া কবিতা নামে নারীটি জানায় মা’র অসুস্থতার সংবাদ শুনে সে তার ছোট বোনকে এগিয়ে দিতে এসেছে। ছোট বোনকে বড়াইগ্রামের রাজাকারের মোড় পর্যন্ত এগিয়ে দিলে সেখানে চার্জার অটো ভ্যান বাড়ি থেকে এসে বোনকে নিয়ে যাবে। এ কথা বিশ্বাস করে ও রাতে নিরাপদে মেয়েটি পৌঁছে দেয়ার জন্য ফারুক রেশমা নামের মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে রওনা দেয়। প্রায় এক কিলোমটার যাওয়ার পরই মানিকপুর এলাকায় পৌঁছালে দুই মোটর সাইকেলে চার যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে এবং পিস্তল দেখিয়ে ফারুকের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, দুইটি মোবাইল সেট ও নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনতাই করে ওই নারীসহ দ্রুত পালিয়ে যায়। ফারুক বনপাড়া বাইপাস মোড়ে ফিরে এসে সেখানে কথিত বড় বোনকে খুঁজে পায়নি।
এঘটনার ৫দিন পর রবিবার সকালে ফারুক বনপাড়া বাইপাস মোড়ে ঢাকাগামী একটি বাসের মধ্যে বসে থাকা কথিত বড়বোন কবিতাকে সনাক্ত করে তাকে আটক করে বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ওই নারীকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ সময় কবিতা জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবত গুরুদাসপুর চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। রেশমার বিষয়ে জানতে চাইলে জানায়, তার সাথে তেমন পরিচয় নাই। তবে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা শহরের কলেজ এলাকায় তারই মতো বাসাভাড়া করে বসবাস করে আসছে। রেশমার বাড়ি বরিশাল জেলায়।
পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর কাছ থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে বলতে গেলে দুই সুন্দরীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা ফাঁদ পেতে বিভিন্ন পুরুষের কাছ থেকে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের মানুষের সাথে তাদের নিয়মিত যৌন সম্পর্ক রয়েছে বলেও সে জানিয়েছেন। তবে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাবে না বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। একই সাথে তিনি আরও বলেন, আদালতের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। তা মঞ্জুর হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে।

Shares