English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

ভিনগ্রহে কি আদৌ প্রাণ রয়েছে?


আদৌ কি এলিয়েনের অস্তিত্ব রয়েছে? থোড়াই কেয়ার! হলিউড কিংবা বলিউড, ভিনগ্রহীদের নিয়ে সিনেমা রীতিমতো জনপ্রিয়। খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এলিয়েনদের নিয়ে সিনেমার মোটামুটিভাবে দু’টি জঁর। এক, বন্ধু এলিয়েন। যারা পৃথিবীতে এসে মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেয়। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকে। দুই, যাদের আক্রমণে বিপন্ন মানবসভ্যতা। বক্স অফিস কালেকশনের নিরিখে, ই টি কিংবা ভিনগ্রহীদের নিয়ে তৈরি ছবির বাজার বেশ ভালই। তা সে হলিউডের ‘প্রিডেটর’, ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ বা ‘অবতার’ হোক কিংবা বলিউডের ‘কোই মিল গয়া’। পুরোটাই চেনা ছক!

কথা নেই, বার্তা নেই, হঠাৎ ঝাপসা একটি ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেল। চারদিকে হইচই! ভাবটা এমন, যেন ভিনগ্রহীদের আক্রমণে বিশ্ব বিপন্ন! প্রশ্ন ওঠে, এখনও অবধি ইউএফও’র (আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট) যে সব ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তার বেশিরভাগই ঝাপসা কেন? আর ভিডিও হলে, তার রেকর্ডিং টাইম পুরো ঘটনার শেষের কিছু মুহূর্তেরই কেন হয়? বিশ্বের তাবড় ইউএফও বিশেষজ্ঞও এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। কোনও উড়ন্ত বস্তুকে চিহ্নিত করা না গেলেই কি সেটা উড়ন্ত চাকি? সেটাও বিবেচনার বিষয়।

ক্রপ সার্কলের ঘটনার সূত্রপাত সত্তরের দশকের শুরু থেকে। উত্তর ইংল্যান্ডের এক গ্রামে ফসল ক্ষেতের উপর রাতারাতি করা নকশা দেখে চমকে গিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কে বা কারা এই নকশা তৈরি করেছে, বার করা যায়নি। তাই শেষমেশ গ্রামবাসীদের মনে বিশ্বাস জন্মায়, ঘটনাটার সঙ্গে ভিনগ্রহের যোগ রয়েছে। এরপর থেকে প্রায়ই ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রপ সার্কলের দেখা মিলতে থাকে। ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যত্রও ক্রপ সার্কল ব্যাপারটা ছড়িয়ে পড়ে। ভিনগ্রহের প্রাণীদের আকাশযান নামার কারণেই কি ক্রপ সার্কলের সৃষ্টি? অনেক চেষ্টার পরেও প্রামাণ্য কোনও তথ্য পাননি বিশেষজ্ঞেরা। ১৯৯১ সালে দুই ব্রিটিশ প্র্যাঙ্কস্টার বাওয়ার এবং কর্লে ঘোষণা করেন, তাঁরাই নাকি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রপ সার্কল তৈরি করেছেন। ঘড়ির কাঁটা ধরে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তাঁরা ক্রপ সার্কল বানিয়েও দেখিয়েছিলেন।

মহাকাশ থেকে আসা ক্ষীণ রেডিও সংকেত নাকি তাঁরা ধরতে পেরেছেন। এমন ঘটনার কথা বিশ্বের তাবড় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে প্রায়ই দাবি করা হয়। অন্য কোনও গ্রহে কি প্রাণ রয়েছে? মুহূর্তে এই আলোচনা শিরোনামে! কিন্তু কিছুদিনই। তারপর সব ধামাচাপা! যদি আদতে সংকেত পাওয়াই যায়, তাহলে পরবর্তী কোনও ঘোষণা বা পদক্ষেপ কেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে করা হয় না? নিন্দকেরা অবশ্য অন্য কথা বলেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো যে বিপুল পরিমাণ অর্থসাহায্য সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে পায়, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এহেন জল্পনা ইচ্ছাকৃতভাবে রটানো হয়। কে জানে!

দূরত্ব: সৌরমণ্ডলে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। যদি ভিনগ্রহে প্রাণের উপস্থিতির কথা মেনে নেওয়া হয়, তাহলে এটাও মেনে নিতে হয় যে, তাদের গ্রহ অন্য কোনও সৌরমণ্ডলে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব অন্তত কয়েক আলোকবর্ষ। প্রশ্ন ওঠে, এলিয়েনদের গড় আয়ু কত, যাতে তারা এতটা পথ পার হয়ে আসতে পারে?

নেভিগেশন: কোনও উড়ন্ত চাকি যদি কয়েক আলোকবর্ষ পথ পার হয়ে পৃথিবীতে আসে, তাহলে সেই যানের নেভিগেশন সিস্টেম যথেষ্ট উন্নত ধরে নিতে হবে। যাতে নিজের গ্রহ থেকে বসে, তারা উড়ন্ত চাকিকে চালনা করতে পারে। কয়েক আলোকবর্ষ দূরের কোনও বস্তুকে নেভিগেট করার মতো যন্ত্র নির্মাণ কি আদৌ সম্ভব?

কেন সফর: ধরে নেওয়া যাক, ব্রহ্মাণ্ডের অন্যত্র উন্নত সভ্যতা রয়েছে। সেখানকার অধীবাসীরাই উড়ন্ত চাকিতে চড়ে পৃথিবীতে বেড়াতে আসে। তাহলে এটাও স্বীকার করে নিতে হয়, তাদের তুলনায় মনুষ্য সভ্যতা অনেকটাই পিছিয়ে। প্রশ্ন আসে, তারা কোন আকর্ষণে একটি পিছিয়ে পড়া সভ্যতাকে প্রত্যক্ষ করতে পৃথিবীতে আসবে?

উড়ুক্কু চাকি: কোনও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু নজরে এলেই, সেটাকে উড়ন্ত চাকি বলে ধরে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। পড়শি দেশের হাঁড়ির খবর আনার কাজে একাধিক ক্লাসিফায়েড প্রজেক্ট চালায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। তাই উড়ন্ত চাকি আদতে পড়শি দেশের গোয়েন্দা বিমান কি না, সেটাও প্রশ্ন।

দর্শন শাস্ত্র: মহাকাশ গবেষণার কাজেই তৈরি করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন। গবেষণার কাজে সৌরমণ্ডলের দূরতম প্রান্তে মহাকাশযানও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাদের র‌্যাডারে কোনও উড়ুক্কু চাকির সন্ধান মেলে না। যাবতীয় ইউএফও দর্শন পৃথিবীর বুকেই হয় কেন?


  • 31
    Shares