English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি উত্তর কোরিয়ার


যে কোনও সময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির প্রতি মার্কিন বৈরী নীতিই পিয়ংইয়ংকে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে বলে দাবি পিয়ংইয়ং-এর। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রবিবার সরকারের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

ওই মুখপাত্র বলেছেন, যে কোনও সময় যে কোনও জায়গা থেকে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ছোঁড়া হতে পারে। উত্তর কোরিয়া সরকারের সর্বোচ্চ সদর দফতর এটি নির্ধারণ করবে।

পিয়ংইয়ং আইসিবিএম পরীক্ষা চালানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলো।

পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বাদ দেওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। তবে এ চাপ উপেক্ষা করে বিগত বছরগুলোতে দেশটি এ দুই ক্ষেত্রে উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। আইসিবিএম-এ ওয়ারহেড হিসেবে পরিচিত পরমাণু বোমা স্থাপনের বিষয়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে পিয়ংইয়ং। এছাড়া, ৯ গত সেপ্টেম্বর পরমাণু ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর মতো কোনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ শেষ করতে পারবে না বলে মনে করেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে চীন সামলাতে পারছে না উল্লেখ করে বেইজিং কর্তৃপক্ষকেও উপহাস করেন তিনি। উত্তর কোরিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন-এর দাবির একদিন পর টুইটারে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, রবিবার (১ জানুয়ারি) ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন দাবি করেন তার দেশ একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বরাবরের মতোই তার এ ভাষণ ছিল আত্মপ্রচার, আড়ম্বরপূর্ণ প্রচারণা এবং পশ্চিমা বিরোধিতায় পূর্ণ।

কিম জং-উন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির কারণে ভয়ঙ্কর শত্রুরা এখানে হস্তক্ষেপের দুঃসাহস করবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাহিনী যদি আমাদের নাকের ডগায় পরমাণু হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল এবং যুদ্ধের মহড়া বন্ধ না করে তাহলে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা অব্যাহত রাখবে। পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে আত্মরক্ষার সক্ষমতা অর্জন করা হবে।’

আর এর একদিন পরই সোমবার (২ জানুয়ারি) এক টুইটে ট্রাম্প দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার মতো কোনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ শেষ করতে পারবে না বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সক্ষমতা সম্পন্ন একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেটা ঘটবে না।’

ট্রাম্প তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কি আইসিবিএম তৈরিতে উত্তর কোরিয়ার অক্ষমতার কথা বলেছেন নাকি সে অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেবে বলে বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যুতে বলতে গিয়ে চীনকেও ছাড়েননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘চীন এক পাক্ষিক বাণিজ্য করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে, অথচ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছে না। চমৎকার!’

উত্তর কোরিয়া ২০১৬ সালে বেশকটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। আগের পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় গতবছর দেশটির এমন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদেরও ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার মতো পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পর্যায় থেকে এখনও কয়েক বছর পিছিয়ে আছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন গতবছর ক্ষুদে পরমাণু বোমার আরও পরীক্ষা চালানোর জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল যৌথ সামরিক মহড়া এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মার্চে একটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনকালে কিম জং-উন ক্ষুদে পরমাণু বোমা তৈরির দাবি করেন। এ জাতীয় বোমা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বসানো যায়। তখন কিমের বক্তব্যের সমর্থনে বেশকিছু ছবিও প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এসব ছবি থেকে এ দাবির সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।