English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

নওগাঁয় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের খুটির জোর কোথায় ?


জি,এম মিঠন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. কুস্তরী আমিনা কুইন এর নানান অনিয়ম, ব্যাপক দূর্নীতির অনেক তথ্য জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এবং কয়েকটি সুনাম ধন্য টেলিভিশন চ্যানেলে অনিয়ম ও দূর্নীতির প্যাকেজ প্রচার হলেও অদ্যাবদি পর্যন্ত ওই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে আছেন।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তৎকালীন মহাপরিচালক ওয়াহিদ হোসেন এবং রাজশাহী বিভাগের পরিচালক নওগাঁয় পরিদর্শনে এসে অনিয়ম ও দূর্নীতির চিত্র পেলেও এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও এখনও পর্যন্ত তা কিছুই করা হয় নি। পূর্বের ন্যায় নানান অনিয়ম ও দূর্নীতিতে আরও বেপরোয়া ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সরকারী সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার পথে। নওগাঁ সুধীজনের প্রশ্ন ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. কুস্তরী আমিনা কুইন এর খূটির জোর কোথায় ?
সুত্রে জানা গেছে, ৪ বছর পূর্বে চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থেকে গত ২০১২ সালে ২৩ জুলাই তারিখে নওগাঁ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক হিসাবে ড. কস্তুরী আমিনা কুইন যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে রাজশাহী থেকে নওগাঁয় অফিস করেন। প্রতিমাসে এক সপ্তাহের বেশী অফিস করেন না। খেয়াল খুশীমত চলেন। যে দিন আসেন সকাল ১১টায়, আর চলে যান ২টার গাড়ী ধরে রাজশাহীতে। মাসের ছুটি ছাড়া বাকী দিনগুলি অফিস সহকারী সোহবার হোসেন নিজেই ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের দায়িত্ব চালান। আর ওই অফিস সহকারী সোহবার হোসেন দেড় যুগ ধরে ওই অফিসে পেষনে আছেন নওগাঁ অফিসে।

মাসে অফিসের বাকী দিনগুলি বিভিন্ন উপজেলায় পরিদর্শন দেখান। কেহ খোজ করলে অফিস সহকারী বলেন উপজেলায় পরিদর্শনে গেছেন। বাস্তবে তিনি পরিদর্শনে না গিয়ে রাজশাহীতে তার নিজ বাসাতেই থাকেন। তিনি জেলায় ৯০টির অধিক পরিবার কল্যান কেন্দ্র ও জেলার ১১টি উপজেলার সবকটি পরিদর্শন খাতায় অন্য হস্তের লেখা। তবে স্বাক্ষর তার নিজের। সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়স্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ তাঁর অধিনস্থ অফিস পরিদর্শন করলে পরিদর্শন খাতায় প্রাপ্ত তথ্য নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করতে হয়। যাহা সরকারি শৃংঙ্খলা আপিল বিধি ১৯৮৫ সালের পরিপন্থী এবং গুরুতর ও দন্ডনীয় অপরাধ। কারন পরিদর্শন কর্মকর্তাদের স্বহস্থে লিখতে হয়। এই সব পরিদর্শন খাতায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য এহেন কাজ করেন। মাস শেষে ভুয়া ভ্রমন ভাতা বিল দাখিল করে হাজার হাজার টাকার বিল উত্তোলন করেন। তিনি যোগদানের পর হতে ৩,৭২,০০০/- (তিন লক্ষ বাহাত্তর হাজার) টাকার ভ্রমন বিল উত্তোলন করেন।

দূর্নীতিবাজ সুচতুর ওই উপ-পরিচালকের পুরাতন জীপ গাড়ীটি দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট। তারপরেও ২০১৪-২০১৫, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে অযোগ্য গাড়ীর অনুকুলে জ্বালানী খরচ বাবদ ৭৫,৭৩০/- (পঁচাত্তর হাজার সাত শত ত্রিশ) টাকা ভূয়া বিলের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। যাহার বিল নং-৭২, তারিখ ২৮/০৮/১৬। তার সময়ে ২৮/৩০ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন উপজেলা হতে বিনা প্রয়োজনে পেষণে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নওগাঁ সদরে এনেছেন। এছাড়াও তিনি একজন ননটেকনিক্যাল কর্মকর্তা। মেডিক্যাল নিয়ম অনুয়ায়ী কোন অবস্থাতেই টেকনিক্যাল কর্মকর্তার দায়িত্ব ননটেকনিক্যাল কর্মকর্তা পেতে পারেন না।

তিনি ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক, তদুপরি সহকারি পরিচালক ক্লিনিক্যাল সার্ভিস (সিসি) এর অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। যা বিধি সম্মত নহে।
উপ-পরিচালকের অফিসের উপস্থিতি না থাকার কারনে নওগাঁ জেলার আই,ইউ,ডি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট হলেও শতকরা ৬৫ ভাগ আই,ইউ,ডি ও এম আর ভূয়া । আই,ইউ,ডি গ্রহনকারী মহিলাদের যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়, তাহা ও ভূয়া কারণ ঐ সব মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে দেখা গেছে ঐ সব মোবাইল ব্যবহারকারীর অস্থিত্ব নাই। এই সব কার্যকলাপ উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এর প্রত্যক্ষ মদদে হয়ে থাকে এবং ঐ কাজের সহায়তার জন্য তিনি নিদিষ্ট হারে একটি অর্থের অংশ পান।
ওই ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে নওগাঁ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার পথে।

গত ১৫ অক্টেবর/১৬ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে নওগাঁয় আসেন মহাপরিচালক ওয়াহিদ হোসেন।

পরিদর্শন শেষে ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের নানান অনিয়ম ও দূর্র্নীতির বিষয়ে মহাপরিচালকের নিকট নওগাঁর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানতে চাইলে তিনি নওগাঁর উপ-পরিচালকের অনিয়ম ও দূর্নীতি কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা দীর্ঘদিন যাবত একই স্টেশনে কর্মরত ও পেষণে আছেন তাদেরকে অতি স্বত্তর বদলীর আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। এছাড়াও নন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে টেকনিক্যাল কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, কোন অবস্থাতেই ননটেকনিক্যাল কর্মকর্তা ওই দায়িত্বে থাকতে পারেন না বলে জানালেও অদ্যবধি পর্যন্ত বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নাই।

স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসহ দেশের সুনাম ধন্য কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে মহাপরিচালক, পরিচালক ও উপ-পরিচালকের সাক্ষাতকারসহ প্রচারিত হয়েছিল। এছাড়াও ইতিপূর্বে ওই ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের নানান অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে ২৩/০৫/২০১৪ তারিখের দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, বিডিটুডেসসহ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় “নওগাঁর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক অফিস করেন মাসে দু‘দিন“ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ২৫/০৫/১৪ তারিখে সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন।

সচিব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় তাহার দপ্তরের স্মারক নং ৪৫.১৭০.০২৭.০০.০০.০১২.২০১৪.২৮৭ তারিখ ০১/০৬/২০১৪ইং মাধ্যমে মহাপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কাওরান বাজার ঢাকা জরুরী ভিক্তিতে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরে পরিচালক প্রশাসন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ২৩/০৬/১৪ তারিখে ১৩৩৩ স্মারকে পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা রাজশাহীকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশ প্রদান করেন।

এখনও পর্যন্ত তদন্ত হয়েছে কিনা তা কেহ বলতে পারেন না। হলেও কি হয়েছে, দোষী বা নির্দোষ তাও কেহ জানেন না বলে অফিস সুত্রে জানা গেছে। তারপরেও দূর্নীতিবাজ কুস্তরী আমিনা কুইন এখনও একই স্থানে বহাল তবিয়তে আছেন। বরং আগের চাইতে দূর্নীতিতে আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন। আগে মাসিক সভাগুলো নিয়মিত করতেন। এখন মাসিক সভা হয় কিন্তু কাগজে কলমে। তিন মাসে মাসিক সভা করেন নাই। কিন্তু কাগজে কলমে সভা দেখানো হয়েছে। সদস্যদের নিকট স্বাক্ষর করেও নিয়েছে। আবার অনেকে স্বাক্ষর করেন নি।
উপ-পরিচালকের অনিয়ম আর দূর্নীতিতে সরকারের পরিবার পরিকল্পনার জন্ম নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম এই জেলায় একে বারে ভেঙ্গে পড়েছে। এত কিছুর পরেও ওই দূর্র্নীতিবাজ কর্মকর্তা ওই পদে থাকায় নওগাঁ সচেতন জনগন হতাশ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য প্রকাশ করেছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. কুস্তরী আমিনা কুইন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অফিস ফাকির কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলি সত্য নয় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, অফিসের একটি মহল ইর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। নন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা হয়ে টেকনিক্যাল কর্মকর্তার দায়িত্বের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্ব দিয়েছেন বলে ওই দায়িত্ব পালন করছি।