English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

স্বাধীনতা দিবসে আমাদের প্রত্যয় কি?


আবু সিদ্দিক বাদল: স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী উদযাপনের পুর্ব মুহুর্তে আবারও জঙ্গি বাহিনী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।দেশের প্রশাসনে চাকরিরত দামাল ছেলেরা তাদের জিবনকে উৎসর্গ করে প্রানপনে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশকে জঙ্গিমুক্ত করতে।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও ধর্মনিরপেক্ষ শান্তি প্রিয় রাষ্ট্র। এ দেশের মানুষ অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করে জীবিকা নির্বাহ করে । আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তি পূর্ণ সহ-অবস্থান করে আসছি সনাতন কাল থেকেই । কিন্তু মাঝ খানে হঠাৎ কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এ দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বিনিষ্ট করতে জঙ্গিবাদের তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকার গণমাধ্যম ও আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সাহায্যে বাংলা ভাই ও শাইখ আব্দুর রহমানের মত দূদূর্ষ জঙ্গিকে ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে তৎকালীন জঙ্গি নেতাদের চিরতরে নির্মূল করা হয়েছে। যাইহোক এসব কথাআমরা সবাই কম বেশী জানি । কিন্তু আজ স্বাধীনতা দিবসে দেশের সকল সস্তরের নাগরিকদের শপথ নিতে হবে, আমরা আর কোন জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ এ দেশে চাইনা ।

ধর্মীয় ছত্রছায়ায় ধর্মের অপ-ব্যাখ্যা ও অপ-কৌশল অবলম্বন করে যারা এ দেশে নাশকতা ঘটাতে চাচ্ছে– আমরা কোন ভাবেই চাইনা তারা কোন ভাবে মাথাচড়া দিয়ে উঠুক। সাম্প্রতিক কয়েকটি জঙ্গি আস্তানা ধবংস করার মধ্যদিয়ে আইনই সংস্হা গুলো তাদের তৎপরতা ও জঙ্গি দমনে সম্ভরনার কথা বলেছেন । পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাষ্ট্রের রয়েছে ।

ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন যেহতু সরকারের মেয়াদকাল ধীরে ধীরে কমে আসছে, ধর্মভীত্তিক ও স্বাধীনতা বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল আন্দোলনের কৌশল হিসেবে জঙ্গি তৎপরতার আশ্রয় গ্রহন করতে পারে । তারা বর্তমান সরকারের আমলে কোন জঙ্গি তৎপরতা চালাতে পারেনি ।

তাই সরকারের শেষ মেয়াদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা দেশের দুর্গম এলাকা বেছে কিংবা রাজধানী থেকে কাছে এমন এলকায় বিভিন্ন ছলে সংগঠিত হতে পারে এমনটাই ধারনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একাধিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সমাপ্ত হয়েছে তাই প্রক্রিয়াশীল অপশক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত মৌলবাদি সংগঠন গুলোকে পরোক্ষ ভাবে মদদ যোগাচ্ছে দেশের একটি প্রভাবশালী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল । আগামী দিন গুলোতে হয়তো বিষয়টি জনসাধারণের কাছে আরো বেশী স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে । তাই এটি শুধু রাষ্ট্রের একার কাজ নয় বরং রাষ্ট্রে বসবাস কারী সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিহত করতে হবে ।

আমরা বিশ্বাস করি দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এমন পরিস্থিতে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা সদা প্রস্তুত যে ভাবে প্রস্তুত ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ।প্রশাসনের যে সকল সদস্যরা জঙ্গি দমনে নিহত হয়েছেন, আজকের দিনটিতে তাদেরকে স্যালুট জানাই। “জঙ্গিবাদ চির তরে নিপাত যাক” মহান স্বাধীনতা দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।এই হোক আমাদের প্রত্যয় ।

লেখা: আবু সিদ্দিক বাদল, সাংবাদিক