English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

প্রয়োজন অভিভাবকদের সচেতনতা


মোবাইল প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার কিশোর- কিশোরীরা হচ্ছে বিপদগামী, প্রয়োজন কঠোর আইনী পদক্ষেপ ও অভিভাবক মহলের সচেতনতা ।

বাংলা ২য় পত্রের ভাবসম্প্রসারন অধ্যায়ে “ বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ ” শিরোনামে একটি ভাব-সম্প্রসারন এর ব্যাখ্যা আমাদের কাছে খানিকটা কঠিনই ছিল । ওই সময় উক্তিটির সার্থকতা যে কতটা গভীর ও বাস্তবসন্মত ছিল তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে না পারলেও এখন কিন্ত এর মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি ।

আজকের বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার সময়ে মোবাইল ফোন একটি অনন্য সংযোজন । বর্তমানে ছোট বড় সকলেরই যেন মোবাইল ছাড়া এক মুহুর্তও চলেনা । বর্তমান যান্ত্রিক বিশ্বে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনে একটি মৌলিক মানবিক চাহিদা হয়ে দাড়িয়েছে । এর কারন আমাদের প্রত্যেকেরই জানা । আমি সে দিকে যাচ্ছিনা ।

কিন্ত যে বিষয়টি আলোকপাত না করলেই নয় , তা হল স্কুলগামী ও কলেজ গামী কিশোর-কিশোরীদের হাতে নিত্য নতুন বাহারী মোবাইল । বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে পদ-দলিত করে যে ভাবে তারা পশ্চিমা অপ-সংস্কৃতিকে স্বীয় মোবাইলে ধারন করছে তা নি:সন্দেহে তাদেরকে বিপদগামী করে তুলছে । ফলে এ কিশোর-কিশোরীরা মেতে উঠছে মারাত্বক সব অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে ।

শুধু তাই নয় , মোবাইল ফোনে নীল ছবির কালেকশন কিশোর-কিশোরীদের অনৈতিক কাজে প্ররোচিত করছে । ফলে সামজিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে মারাত্বক আকার ধারন করছে । অনেক সময় অনৈতিক নীল ভিডিও কাটিং অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটে যা দেখে এখন কিশোর-কিশোরীরা বিপথে ধাপিত হচ্ছে । যে সময়ে তাদের চরিত্র গঠনের দিকে মনোযোগী হওয়ার কথা, সে সময় তারা চরিত্র ধ্বংসের পথে হাটতে উৎসাহিত হচ্ছে ।

সম্প্রতি কালের পত্র-পত্রিকার অসংখ্য ঘটনা প্রবাহ – উপরোক্ত বক্তব্যের সাক্ষ্য বহন করে । আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এ করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য এখনও সময় রয়েছে । প্রশাসনকে সূচারুরূপে লক্ষ রাখতে হবে যেন ১৮ বৎসরের কম কোন কিশোর-কিশোরী যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে। বিশেষ করে স্কুলগামী ছাত্র/ছত্রীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে । এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের যতটুকু পরিধি রয়েছে , তার মধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে । পাশা-পাশি আমরা যারা অভিভাবক রয়েছি তাদেরও সজাগ থাকতে হবে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারে চরম কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে । এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রশ্রয় বা ছাড় দেয়া উচিত হবেনা । কারণ অপ-সাংস্কৃতির করাল থাবা থেকে আমাদের সন্তানকে আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে ।

 

লেখা: আবুসিদ্দিক বাদল (সাংবাদিক)