English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

পাহাড়ের লাশ! নির্লজ্জ ,সত্যি নির্লজ্জ…


মীর আব্দুল আলীম: চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে সেনাবাহিনীর ছয়জন সদস্যসহ অন্তত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও লাশ উদ্ধারের কাজ চলছে। গত ১২ ও ১৩ জুন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঘটনায় এ প্রাণহানি হয়। গত নয় বছরের মধ্যে পাহাড়ধসে প্রাণহানির এটি সবচেয়ে বড় ঘটনা। এর আগের ঘটনাটিও জুন মাসে ঘটেছিল। ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রাম
নগরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হয়েছিল।

 

এক হিসাবে দেখা গেছে গত ১০ বছরে ৪০১ জনেরও বেশি মানুষ পাহাড় চাপায় মারা গেছে। আহত হয়েছে সহস্রাধিক। পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রতিবছরই এভাবে লাশের ভারে পাহাড় কাঁদে। এবারও তাই হলো। থরে থরে সাজানো লাশ। তা দেখে স্বজনের কান্না আর অবিরাম বৃষ্টি যেন মিলেমিশে একাকার হয়েছে পাহাড়ি এলাকায়। এবারের দুর্ঘটনায়, অনেকে হারিয়েছেন স্ত্রী-সন্তান, কেউ হারিয়েছেন মা ও ভাইবোন। কোন কোন পরিবারের এখন আর কেউ বেঁচে নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে রাঙামাটিতে। সেখানে পাহাড়ধসে মারা গেছেন ৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও দুই সৈনিক। পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করতে গিয়ে প্রাণ হারান তাঁরা।

 

এভাবে পাহাড় ধসে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। পাহাড় ধসের আশংকা করে দু’মাস আগে চট্রগ্রামের প্রথম শ্রেনীর দৈনিকে লিখেছিলাম “আর পাহাড় চাপা লাশ চাই না”। এ লেখাটি ঢাকার দৈনিকেও ছেপেছে। লিখেছিলাম- ‘ঝড়-বৃষ্টি আগত। এবারও
হয়তো পাহাড় ধসবে। এবারও হয়তো মানুষ মরবে! পাহাড় ধসুক, আর তাতে জানমালেরর ক্ষতি হউক এমন প্রত্যাশা করি না। তবে ধারাবাহিক নিয়মে হয়তো তা ঘটতে পারে এমন আশংকা করা অমুলক হবে না। এজন্য আগেভাগেই আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে সজাগ আছেন কি না সে বিষয়ে সংশয় আছে? বিগত দিনের মত এবারও তারা উদাসিনতার হলে আবারও হয়তো অপ্রত্যাশিত লাশ আমরা দেখবো পাহাড়ের পাদদেশে।’ প্রশাসন আমার সে লেখায় নজর দিলে হয়তো পাহাড়েরর মৃত্যু
রোধ করা যেত। আসলে পাহাড়ি মানুষের কান্না কি প্রশাসন শোনতে পায় না? সেই কান্নার আওয়াজ দায়িত্বশীলদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করলে হয়তো ফিবছর পাহাড় চাপা পড়ে এতো মানুষ মরতো না। ফি বছর পাগাড় চাপায় এভাবে মানুষ মরছে, কি করছি আমরা? প্রশাশনের কি দায়িত্ব বলে কিছু নেই? বোধ করি লজ্জাবোধও নেই। আমরা সবই কতই না নির্লজ্জ!

 

মানুষ মরে পাহার চাপা পরে।প্রতিবছরই আমরা চাপা লাশ দেখে আহ! উহ! করছি তো; করছিই। যা হবার তাই হয়। কেউ তাতে গাঁ ঘামায় না। প্রশ্ন হলো, পাহাড় ধসের ঘটনা বার বার কেন ঘটছে? এ পর্যন্ড পাহাড় ধস এবং প্রবল বর্ষণে পার্বত্যাঞ্চলে যে মৃত্যুর মিছিল আমরা দেখেছি তার পেছনে প্রশাসনিক গাফিলতিই মুখ্য বলে মনে হয়। সেখানে সতর্কবার্তা হিসেবে মাইকিং করলেও ভুক্তভোগীদের বিকল্প কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় এ দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অবশ্য গত বছর পাহাড়ে বসবাসরতদের জন্য স্বল্প হলেও বিকল্প বসবাসের অস্থায়ী ব্যবস‌থা নিয়েছে প্রশাসন। এজন্য সাধুবাদ জানাতেই হয়। তবে গুটি কয়েকের থাকার ব্যবস্থা করলেই হবে না, সেখানে থাকানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। তদের এ পদক্ষেপে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের ৫ ভাগও এখনো নিরাপদে
সরে আসেনি। এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হম্বিতম্বি করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

 

 

 

পাহাড়ের পাদদেশে এখনো অসংখ্য মানুষের বসবাস আছে। পাহাড়কে ন্যূনতমও নিরাপদ করা যায়নি এখনো। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কেবল চট্রগ্রাম নগরীর ১১ পাহাড়ের নিচে এখনো ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৬৬৬ পরিবার বসবাস করছে।
আবহাওয়াবীদরা বলছেন, আবহাওয়ার বৈরিতার কারণে প্রচন্ড বৃষ্টিপাতে পাবত্য জেলার খাড়া পাহাড়গুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। একদিকে মাটি কেটে পাহাড়খেকোদের আবাসন তৈরির ব্যবসা, অন্যদিকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নিয়মনীতি না থাকার কারণে বন্দর নগরীতে প্রতিবছরই ঘটছে পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা। জেলা প্রশাসনের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, চট্টগ্রামে প্রতিবছরই ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রচুর লোকের প্রাণহানি হচ্ছে। কেবল ২০০৭ সালে পাহাড় ধসে ১২৭ জন, ২০০৮ সালে ১৪ জন, ২০০৯ সালে ৩ জন, ২০১০ সালে ৩ জন, ২০১১ সালে ১৭ জন, ২০১২ সালে ৯৪ জন, ২০১৩ সালে ২ জন, ২০১৪ সালে ৩ জন, ২০১৫ সালে ১৯ জন প্রাণহানি হয়। ২০১৭ সালে ১২৬ জন মারা গেছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

 

এভবে প্রতি বছর পাহাড় ধসে প্রচুর লোক মারা যায়। এর পরও এখনো সেই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। রাজনৈতিক নেতারা জোরপূর্বক এসব পাহাড় দখল করে সেখানে টিনশেড ঘর তুলে তা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় ভাড়া দিচ্ছে। চট্টগ্রামের খুলশী ও রেলওয়ে সংলগ্ন একাধিক এলাকার পাহাড়ে এখন রমরমা পাহাড় বাণিজ্য চলছে। চট্রগ্রামকে বলা হয় বন্দর নগরী, এই শহরের প্রাদদেশে প্রশাসনের চোখের সামনে এখনো নগরীতে ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও টিলায় শত শত মানুষ বাস করছে। লালখান বাজার এলাকায় একে খান মালিকানাধীন পাহাড়, ইস্পাহানী পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে, লেকসিটি এলাকায়, কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনি, আকবর শাহ আবাসিক এলাকার পাহাড়ে, সিটি করপোরেশনের পাহাড়ে, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট একাডেমির উত্তরে মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়ে, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়ে, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে রয়েছে লোকজনের মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস। যেভাবে বসতি গড়া হচ্ছে তাতে আর পাহাড় থাকবে না। সব কেটে সাফ করে ফেলা হবে। পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দেয়া উচিত।

 

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় ধসের মূল কারণ হলো পাহাড় থেকে মাটি কাটা, পাহাড়গুলো ৩০ ডিগ্রির বেশি ঢালু হলে সে পাহাড়ের পাদদেশে বিপজ্জনক অবস’া তৈরি হয়। পার্বত্য জেলাগুলোয় রয়েছে ৯০ ডিগ্রি পর্যন- অসংখ্য ঢালু পাহাড়। মাটির জমাট বাঁধা পাহাড় যখন কাটার মহোৎসব চলে তখন প্রবল বর্ষণ হলে মাটির ওপরের আবরণ না থাকায় যে প্রবল জলধারা নিচে ধাবিত হয় তার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি এসে পাহাড়ের পাদদেশে আছড়ে পড়ে। আর তখনই ঘটে মর্মানি-ক ঘটনা। ২০০৭ সালে যখন পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয় তখন তদন- কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে আলোকে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ২০০৭ সালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পাহাড়ের পাদদেশে গাইডওয়ালসহ শক্ত প্রটেকশন করার কথা থাকলেও নেয়া হয়নি কার্যত কোনো ব্যবস্থা। আর এসব কারণেই এ রকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। তদন- কমিটি গঠন করা হয় ভবিষ্যতে যাতে এ রকম ঘটনা আর না ঘটে।
কিন্তু তদন্ত কমিটির আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তা কিভাবে রোধ করা যাবে? পাহাড়ের মাটি কেটে যারা পাহাড়টাকে বিপজ্জনক করে তুলল তারা কিভাবে সেটা করতে পারল তার জবাব কে দেবে? কারা পাহাড় কেটে পাহাড়কে মৃত্যুকূপে পরিণত করছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই ঘটনা বার বার ঘটবে আর পাহাড়ে মানুষের লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এটা হতে পারে না। যারা সেখানে অনন্যোপায় হয়ে বসবাস করছেন তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। নইলে বিপজ্জনক পাহাড়ের পাদদেশে প্রটেকশন দেয়াল নির্মাণ করে তাদের নিরাপত্তা বলয় গড়ে দিতে হবে। দুর্ঘটনার পর ত্রাণের ঝুলি নিয়ে সরকার এগিয়ে আসবে, আমরা এ বৈষম্য দেখতে চাই না। সাধারণ বর্ষণেই যদি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে তাহলে ভয়াবহ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বড় কোনো ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটলে দেশের মধ্যে কী ধরনের অবস্থা হবে তা ভাবলেই গা শিউরে
ওঠে।

 

 

আগের ঘটনা থেকে পাহাড়ের মানুষ শিক্ষা নেয়নি বলেই তাদের এ করুণ পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে। একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে তা হলো আবার ভূমিধস ফিরে আসবে। পাহাড়ে এখন যারা বসবাস করছেন তারা অতিসত্ত্বর অন্যত্র আশ্রয় না নিলে পাহাড়ের আক্রোশ থেকে তাদের রেহাই নেই। পাহাড় থেকে যথেচ্ছভাবে মাটি কেটে নেয়ায় সবচেয়ে বেশি ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। খাড়া পাহাড় থেকে যখন তীব্র বর্ষণের ধারা প্রবাহিত হয় তখন গতি থাকে বেশি। আর মাটি কেটে ওপরের শক্ত আবরণ তুলে নেয়ায় প্রবাহিত পানির তোড়ে মাটি নরম হয়ে পাদদেশে পড়ে বিপর্যয় ডেকে আনে।

 

আসলে নিয়তির জালেই যেন পাহাড়ের মানুষের জীবন বন্দি। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মৃত্যুকূপ থেকে পাহাড়ের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। এটাই প্রত্যাশা। আসলে, প্রতিরোধযোগ্য হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এজন্য অশিক্ষিত-অসচেতন মানুষ যত না দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তাই উপহার হিসেবে লাশের পর লাশ পাচ্ছি আমরা। পার্বত্য অঞ্চলে
পাহাড় চাপা পড়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা বেশ পুরনো। যারা লেখালেখি করেন তারা তাদের লেখনীর মাধ্যমে সতর্ক করে থাকেন। হরদম হচ্ছে লেখালেখি। গুরুত্বের সঙ্গে তা ছাপছেও জাতীয় এবং আঞ্চলিক পত্রিকাগুলো। কে শোনে কার কথা? তাই যা হওয়ার তাই হয়। গত কয়েক বছরে পার্বত্য জেলাগুলোয় পাহাড়ের নিচে দখল আর বসতি এত বেড়েছে, এ নিয়ে আর শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। পাহাড়ের নিচের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তারা এখনো আছে বেশ বহাল তবিয়তে। যৎসামান্য তৎপরতা ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবারো উদাসীন। কানে তুলা দিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমে বিভোর। তাই যা হওয়ার তাই হয়তো হবে, হচ্ছেও। দেশবাসীকে পাহাড় চাপাপড়া লাশ দেখতে হলো আবারো। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না কেন? আসলে ঠেকানো যায়; ঠেকানো হয় না। কিন’ কেন?

 

পাহাড়ি ভূমিধসের পর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, বিশেষজ্ঞদের নানা বক্তব্য ও উদ্যোগ অবশ্যই লক্ষণীয়। বিশেষ করে সরকারের নানা উদ্যোগের পর সংশ্লিষ্ট অনেকেই আশ্বস- হয় এই ভেবে ভবিষ্যতে এমন করুণ পরিণতি আর হবে না। এসব উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ছিল একটি টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে পাহাড় ধসের কারণ ও প্রতিকারের বিষয়ে মতামত গ্রহণ এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করা। সেই সঙ্গে অনিরাপদ বসতি সরিয়ে ফেলা। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ওই বিষয়টি নিয়ে আমারও কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।

 

আমরা লেখনীতে সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছিলাম। অন্যদিকে সরকার গঠিত এক কমিটি ৫ বছর আগে পাহাড়ি ভূমিধসের সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখসহ সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পেশও করেছিল। কিন’ দুর্ভাগ্য এর অধিকাংশই মাঠপর্যায়ে বাস-বায়িত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করার সুপারিশ ছিল, যা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তেমনিভাবে বাস্তবায়িত হয়নি পাহাড়ের পাদদেশে বিপদসঙ্কুল অবস্থায় বসবাসকারী বস্তিবাসীকে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের কর্মসূচি। বাস্তবায়িত হয়নি পাহাড় কাটার আশঙ্কা কিংবা বন উজাড়ের ঘটনা। পাহাড় হন্থারকদের পাহাড় কাটা থেকে বিরত করা যায়নি।

 

অন্যদিকে প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর লোভাতুর হস্ত গুটিয়ে না নেয়ায় অশিক্ষিত এ জনগোষ্ঠী টুপাইস দিয়ে পাহাড়ের পাদদেশেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস অব্যাহত রাখে।

 

একের পর এক পাহাড় চাপা পড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় পাহাড় ব্যবস্থাপনায় আমাদের অক্ষমতাকেই প্রকাশ করছে। প্রতি বছর ধরে ভয়াবহ নিশ্চিত দুর্ঘটনায় এমন করুণ মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া যায় না। এর আগে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়েছিল। এ টিম মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাহাড়ি ভূমিধসের আশঙ্কার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। কিন্তু সে টিমের হদিস আছে কি? তবে এসব সুপারিশের অধিকাংশ বাস-বায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যর্থ হলেও পাহাড়ি ভূমিধসে চাপাপড়া লাশ উদ্ধার কিংবা লাশের মিছিলে ছুটে গিয়ে সরকারি দায়িত্বশীলদের অতিমাত্রায় লম্ফঝম্ফ ও প্রতিশ্রুতির কোনো অন্ত থাকে না। বিষয়টি এখন অনেকটা হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই এখন সময় এসেছে প্রতিশ্রুতি ও লম্ফঝম্ফ বন্ধ করে কিছু কাজ করে দেখানোর। দয়া করে নিরাপদে পাহাড়ি বসিন্দাদের জীবন রক্ষা করুন। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করুন।

 

এ ধরনের দায়িত্বহীনতার কারণে মৃত্যুর দায়দায়িত্ব আপনাদের ওপরেই বর্তায়। আপনারা এসব জানমাল রক্ষায় আর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেবেন না। পাহাড়ে বসবাসকারী অসচেতন অশিক্ষিত মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে আপনারাই রক্ষা করতে পারেন। আর তা করবেন এটাই প্রত্যাশা।

 

লেখক- মীর আব্দুল আলীম( সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট)

 

বিডিটুডেস/জেডআর/১৪জুন’১৭