English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

বৃদ্ধাশ্রম নিপাত যাক! বাবা থাকুক সবার পাশে


এম আরমান খান জয় : তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূয্রের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া তিনি বাবা। বাবার স্নেহের জন্য দিবস নয়। দিবসের জন্যও স্নেহ নয়। হৃদয়ের টানে বাবার দরদ। সন্তানের আবেদন পূরণ না হলে বাবার জন্য যন্ত্রণার। সন্তান দুরে থাকলে বাবার অস্বস্তির শেষ নেই। যতদুরে থাক মুখের কথা না শুনে ঘুমায় না বাবা। বাবা মানেই যেন কর্মব্যস্ত একজন মানুষ। বাইরে থেকে ফিরে যিনি সন্তানকে কোলে নিয়ে চুমু খেয়ে ভুলে যেতে পারেন সারা দিনের ক্লান্তি। বড় হয়ে কর্মব্যস্ত হয়ে আমরা অনেকেই বাবার এই আদরটি ভুলে যাই।

বাবার ভালবাসার আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। তবে কর্মব্যস্ততা বাবা থেকে কিছু সময় দুরে রাখে। বাবা দিবসে তা নতুন করে উজ্জবিত হয়, শাণিত হয়।

 

‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানলার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের এক অসীম নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে দেয়। অনেক সময় ভয়ে বা লজ্জায় হয়তো বাবাকে বলা হয়নি, ‘ভালোবাসি তোমাকে বাবা’।

 

বিশ শতকের গোড়ার দিকে দিবসটি পালন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বে একেকটি দেশ একেক দিন বাবা দিবস পালন করলেও বাংলাদেশসহ এশিয়া ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালন করে দিবসটি। বিশ্বের প্রায় ৫২ দেশে এ দিবসটি পালিত হয়। পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। সন্তান কাছে না থাকলে অস্বস্তির ভাঁড়ে বাবা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ক্লান্তির নি:শ্বাস ফেলেন। সন্তান বাড়ি ফিরলে বাবার আসে চোখে-মুখে হাঁসি। এ ভালোবাসা বাস্তবের। এটা বলে প্রকাশের নয়। বাবাই সন্তানের আদর্শ। সন্তান শেখে মাথা উঁচু করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে। ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে। নিজেকে একজন সেবক হিসেবে গড়তে। জীবন নামের বীজ বপণের দায়িত্ব বাবাই পালন করেন।
সন্তান নিজে বাবা হওয়ার পূর্বে বাবার প্রতি শ্রদ্ধার কমতি দেখাতে পারে। নিজে সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনের মধ্যে খুঁজে পায় সন্তান হিসেবে বাবার প্রতি তার দায়িত্ববোধ। সন্তানের কাছে বাবা পথপ্রদর্শক ও বন্ধু।

 

সন্তান যত বড়ই হোক, বাবার কাছে সন্তানই। সন্তানেরও অনুভূতি বাবার প্রতি শ্রদ্ধার। নতুন প্রজন্মের কাছে মা দিবস, বাবা দিবস ইত্যাদি দিবসগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। এতে বাবা-মা’র প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে নানা আয়োজনে পালিত হয় বাবা দিবস। বাঙালি সন্তানদের হৃদয়ে দিবসটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ভাষার পরিবর্তনে রক্তের টানের পরিবর্তন নয়। বাংলায় ‘বাবা’, জার্মানি ভাষায় ‘ফ্যাটা’, ইংরেজিতে ‘ফাদার’এবং ভারতীয়রা বলেন ‘পিতাজি’। কোন ক্ষেত্রেই ভালবাসার নেই পরিবর্তন।

 

বাবার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে জেগে উঠুক শ্রদ্ধাবোধ।বৃদ্ধাশ্রম নিপাত যাক। বাবা থাকুক সবার পাশে। ‘উহ্’ শব্দও না করুক প্রত্যেকের বাবা। আজকের দিন হোক শুধুই বাবাময়।