English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

ঈদকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে মাদক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে : পুলিশি অভিযান অব্যাহত


গোপালগঞ্জ : ঈদকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে একাধিক মাদক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইল কলের মাধ্যমে এসে যায় মাদকের বড় বড় চালান। এখন আর মাদক আনতে মোকামে যেতে হয় না। বিকাশের মাধ্যমে মাদকের টাকা লেন-দেন হয়ে থাকে। মাদক ব্যবসায়ীরা মোবাইলে কল করে বিভিন্ন স্পটে মাদক সেবীদের কাছে পৌছে দেয়। আর এ জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রয়েছে শতাধিক ভাসমান মাদক বিক্রেতা। বিভিন্ন নামের এ মরণ নেশা মাদকের মধ্যে রয়েছে, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা ও ঝাঁকুনি। মাদকের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্সের নির্ঘুম অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ বিক্রেতা ও সেবনকারীরা গ্রেফতার হলেও বরাবরই গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

 

অল্প কিছু মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা গ্রেফতার হলেও বরাবরই গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তারাও কয়েক দিনের ব্যবধানে জেল থেকে বেরিয়ে পুনরায় এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদক প্রতিরোধে আশানুরুপ সুফল পাচ্ছেন না। সূত্রমতে, প্রশাসনের কঠোর তৎপরতায় গোপালগঞ্জ জেলার চিহ্নিত মাদক স্পট গুলো বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকলেও আসন্ন ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা প্রশাসনের চোখ এড়াতে এবার বিক্রির কৌশল পরিবর্তন করেছে। গোপালগঞ্জ জেলায় অনায়াসে মাদক আমদানি করতে পারে মাদক সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা। জেলার নাম করা মাদক ব্যবসায়ীরা জেল হাজতে থাকলেও থেমে নেই তাদের ব্যবসা। নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি মাদক বহনে নারীদের ব্যবহার করায় প্রশাসন রয়েছে অন্ধকারে। ইতোমধ্যে অনেক নারী মাদক ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে মোটর সাইকেল যোগে মাদক এখন হোম ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে মাদক বিক্রিতে নানা কৌশল অবলম্বন করে প্রশাসনের খবর পৌঁছে দেয়ার জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা সব সময় স্টেশন পাহারায় রাখছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

 

সূত্রে আরও জানা গেছে, ইয়াবা ও মাদক কারবারে জড়িতরা ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় অসাধূ লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। ঈদকে সামনে রেখে ওই সব সিন্ডিকেট চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ অনুসন্ধান ও প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নতুন মাদক বিক্রেতাদের অধিকাংশরাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মরন নেশার এ ব্যবসা করে আসছে। ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া একাধিক মাদক ব্যবসায়ীদের বেলায়ও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রমতে, মিয়ানমার থেকে নদী পথে ইয়াবার সব চেয়ে বড় চালান আসে নদী বেষ্টিত সাতক্ষীরায় খুলনা ও বাগেরহাট সেখান থেকেই সড়ক পথে মাদক ঠোকে গোপালগঞ্জ জেলায়। পরে তা জেলা শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে জেলার উপজেলা গুলির ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কতিপয় অসাধু অফিসারকে মাসোয়ারা দিয়ে মাদক বিক্রেতা ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে মহাদাপটের সাথে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা করে গত কয়েক বছরে আংগুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ার অধিকাংশরা গত কয়েক বছরে ইয়াবার ব্যবসা ও বহন করে এখন লাখ লাখ টাকা গুনছে। মাদকের ডিলাররা লাখ পেরিয়ে এখন নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করে রাজনৈতিক দলের তকমা লাগিয়ে বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সূত্রমতে আরো জানা যায়, দামি মোটর সাইকেল, চেহারায় কালো চশমা লাগিয়ে ওই সব মাদক ডিলাররা সম্মানিত লোকজনদের ‘কুচ পরোয়া নেহি’ ভাব দেখিয়ে ইয়াবার বদৌলতে এখন রঙিন জীবন পার করায় সামাজিক শৃঙ্খলা, আচার ব্যবস্থায় চরম অশান্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এক সময়ের যারা অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন যাপন করতো তারা এখন ইয়াবার ব্যবসা করে কাড়িকাড়ি টাকার মালিক হওয়ায় এলাকায় সামাজিক বিচার ব্যবস্থায়ও তারা আধিপত্য বিস্তার করে রাখছে।

 

এ ব্যাপারে মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান খান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অভিযান চালাতে সকল থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।