English Version

রাণীনগরে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে বেধম মারপিট, থানায় উল্টো অভিযোগ প্রতিপক্ষের


 

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তি আক্তার (১৪) কে তাদের বাড়ির জায়গার দ্বন্দ্বের জ্বের ধরে প্রতিবেশীরা লাঠি দিয়ে বেদরক মারপিট করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। মারপিটের ঘটনায় স্বর্ণের কানের দুল হারিয়েছে মর্মে উল্টো প্রতিপক্ষ প্রতিবেশীরাই রাণীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

জানা গেছে, উপজেলার একডালা ইউপি’র বিষঘরিয়া গ্রামের মোতাহার হোসেনের (মুক্তি’র বাবা) বাড়ির জায়গা নিয়ে তার পরিবারের লোকজনদের সাথে পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। এনিয়ে প্রায়ই মুক্তির মা ও দাদীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ই জুন বৃহস্পতিবার সকালে ঝগড়া-বিবাদ লাগলে প্রতিবেশী আজাহার হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম মুক্তি’র দাদীর পক্ষ নিয়ে উসকানিমূলক কিছু কথা বললে মুক্তির মা বউ-শ্বাশুড়ীর মাঝখানে কথা বলার কারণে তাকে গালিগালাজ করে।

 

সুফিয়াকে গালিগালাজের জ্বের ধরে ওই দিন সকাল অনুমান সাড়ে ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী আজাহার হোসেন, স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও ছেলের বউ চাম্পা বানু বাঁশের লাঠি দিয়ে মুক্তিকে বেদরক মারপিট করতে থাকলে এক পর্যায় মুক্তি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। মারপিট করার পর চতুর ও কৌশলী আজাহার হোসেন তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমের স্বর্ণের কানের দুল হারিয়েছে মর্মে উল্টো আহত মুক্তিদের বিরুদ্ধে রাণীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে মুক্তির বাবা মোতাহার হোসেন জানান।

 

এব্যাপারে প্রতিবেশী আজাহার জানান, মুক্তির মা ও দাদীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লাগলে আমার স্ত্রী সুফিয়া তাদের ঝগড়া থামাতে গেলে মুক্তির মা আমার স্ত্রীকে মারপিট করে। এঘটনায় আমার নাতনী ও মুক্তি মারামারি লাগলে তাদেরকে থামতে গিয়ে আমার স্ত্রীর কানের দুল হারিয়ে যায়। আমার স্ত্রীকে মারপিট করায় আমি রাণীনগর থানায় একটি অভিযোগ করেছি।

 

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী মুক্তিকে মারপিট করার ঘটনা আমি শুনেছি। এক পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।