English Version

ইউএনও-শিক্ষা অফিসারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মাসুদ উল হাসান, বকশীগঞ্জ-জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে চারজন শিক্ষকের জেল-জরিমানা ও দায়িত্ব থেকে অব্যহতির ঘটনায় ইউএনও-শিক্ষা অফিসারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অন্যায় ভাবে চারজন শিক্ষকের কারাদন্ড,অর্থদন্ড ও দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই রিট পিটিশন দাখিল করেন চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম। হাইকোর্ট ডিভিশনের রিট নং ১৪০৭৪।

রিট আবেদনে যাদের বিবাদী করা হয়েছে তারা হলেন,শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব,মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক,বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান,জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,কেন্দ্র কমিটির সদস্য উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,ধানুয়া কামালপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী কেন্দ্র সচিব হাসিনা গাজী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া তিনি ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিব বরাবর অভিযোগ করেছেন।

রিট আবেদনকারী চন্দ্রবাজ রশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জানান,বিগত বছরের ন্যায় চলতি বছর চন্দ্রবাজ রশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজে (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট)জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক ইউএও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সভাপতি,অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামকে কেন্দ্র সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেনকে সদস্য করে ইউএনও স্বাক্ষরিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়।  ওই কেন্দ্রে ১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৬৭২ জন পরীক্ষার্থীর স্থানসংকুলান না হওয়ায় বাট্টাজোড় হাসিনা গাজী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,সোনাইতুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চন্দ্রবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভেন্যু কেন্দ্র করা হয়। কেন্দ্র সচিব হিসেবে মুল কেন্দ্রের দায়িত্বে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম থাকলেও ওই তিন ভেন্যূ কেন্দ্রে ইউএনও স্বাক্ষরিত আলাদা কেন্দ্র কমিটি করা হয়।

কমিটিতে ১ জন সহকারী কেন্দ্র সচিব,১জন হল সুপারসহ অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দেয়া শিক্ষকদের নামের তালিকা থেকে কক্ষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু গত পহেলা নভেম্বর বৃহস্পতিবার জেএসসি’র বাংলা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভেন্যু কেন্দ্র হাসিনা গাজী উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে ইঞ্জিনিয়ার অন্তর নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দেয়া তালিকার তিনজন শিক্ষককে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন ইউএনও। একই সময় দায়িত্বে অবহেলার কথা জানিয়ে তাকেও ২০ দিনের কারাদন্ড অনাদায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে তাকে কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। পরে এক লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দেয়া শিক্ষকদের নামের তালিকা থেকে কক্ষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমি মূল কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলাম। ভেন্যু ক্দ্রে পরিচালনার দায়িত্ব ওই কেন্দ্রের দয়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিবের উপর বত্যায়। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অন্যায় ভাবে এই দন্ড প্রদান করেছেন ইউএনও । পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন ও আমাকে দোষী বানানো হয়েছে। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ছানোয়ার হোসেন জানান,তাকে জরিমানা করা হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে। এখানে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কি আছে। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নই এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান,আইন সবার জন্য সমান। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ভূয়া তিন শিক্ষককে কারাদন্ড ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য কেন্দ্র সচিবকে জরিমানা ও দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন কেউ আমার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ করতেই পারে। অভিযোগ করলেই যে তা সত্য হবে তাতো নয়। অভিযোগ দিলে জবাব দেয়া হবে বলে জানান তিনি। বিডিটুডেস/আরএ/০৮ নভেম্বর, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 − 7 =