English Version

উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক ভূমিহীন পরিবারের কান্না

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এম.পলাশ শরীফ, মোড়েলগঞ্জ(বাগেরহাট): সারাদেশের ন্যায় বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার মহাসড়কের পাশে শত শত ভূমিহীন পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে তাদের র্দীঘদিনের বসবাসকৃত মাথাগোজার ঠাই বসতবাড়ি থেকে সড়ে যাচ্ছে অন্যত্র। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে শত শত পরিবার। কোথায় যাবে কি করবে পরিবার পরিজন নিয়ে। এ রকম প্রশ্ন ওইসব ভূমিহীন পরিবারের সকল সদস্যদের। তাদের দাবি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সহ পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করা একটু মাথা গোজার ঠাই চায় তারা পুর্নবাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

গতকাল সরেজমিনে মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পার্শে পৌরসভার ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ড ও সদর ইউনিয়নের পূর্ব সরালিয়া, পশ্চিম সরালিয়া এবং বিশারিঘাটার একটি অংশে বসবাস করা ভূমিহীন শতাধিক পরিবার। কথা হয় ভ্যানচালক জলিল হাওলাদারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম(৪২), র্দীঘ ৩০ বছর ধরে তিল তিল করে উপার্যিত সঞ্চয় থেকে গড়ে তোলা একটি কাঠের বসতঘর। পরিবারে রয়েছে ২ ছেলে ১ মেয়ে দিনমজুরের কাজ করে স্বামী ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জোগান দিয়েছে। বড় ছেলে সোহাগ আকন কোরআনে হাফেজ, মেয়ে নাজমা আক্তার(১৯) অর্নাস ২য় বর্ষের ছাত্রী ও ছোট ছেলে বায়জিদ ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্র স্বামীর পৈত্রিক কোন ভিটেমাটি পায়নি। এ ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে রাস্তার পাশে ঠাই নিয়েছিলো। “এখন আমরা কোথায় যাবো? এর চেয়ে মরে গেলেও ভাল হত” এ রকম একই গ্রামের দিনমজুর জামাল আকন স্বামী পরিত্যক্ত সুর্যবান বিবি, চম্পা বেগম, মিরাজ ঘরামি, জলিল আকন, নজরুল চাপরাশি সহ পৌর সভার ৪নং ওয়ার্ডের ইউসুফ চাপরাশী, অবসর প্র্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবুল কাশেম, চুন্নু হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, মান্নান আকন সহ একাধিক ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের একাধিক প্রশ্ন, সংবাদকর্মীদের পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা।

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় ৯০ রশি বাসষ্ট্রন্ড চত্তরে পৌর সভার মেয়র এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদার এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বলেন, সরকারের উচ্ছেদ অভিযান সফল করার লক্ষে সকল প্রকার সহযোগিতার পাশাপশি সরকারিভাবে অসহায় ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্তো দিয়ে তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা ও ক্ষতিপূরনের জোর দাবি জানান সরকারের প্রতি। এ উচ্ছেদ অভিযানের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হলেও পূর্ব থেকেই সড়ক ও জনপদ কর্তৃক নোটিশ পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে সড়িয়ে নিচ্ছে তাদের চায়ের দোকন, বসতবাড়ি সহ অবৈধ স্থাপনা। সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী সোমবার তার ইউনিয়নের মহাসড়কের পাশে সরিয়ে নেওয়া ভূমিহীণ পরিবারের কাছে এসে শান্তনা দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের এ অভিযানকে স্বাগত জানান পাশাপাশি ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য সরকারিভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব পরিবারদেরকে পুর্নবাসনের জন্য জোর দাবি জানান। বিডিটুডেস /ডি আই/ ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × 1 =