ঢাকা, বাংলাদেশ, ২৭°সে | আজ |
ইংরেজী ভার্সন English Version

উন্নয়নের মডেল হবে বাগেরহাট: ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


এম.পলাশ শরীফ,বাগেরহাটঃ এক এগারোর পর থেকে মামলা আর নির্যাতন মাথায় নিয়ে মোড়েলগঞ্জের কৃতি সন্তান বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলায় দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির।  ছাত্রজীবন থেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল ও বিএনপিতে আছেন। বর্তমানে ঢাকা, বগুড়া ও নিজ এলাকা বাগেরহাট তার নামে একাধিক মামলা, হামলা নির্যাতন হলেও বিএনপি ছাড়েননি দলের জন্য নিবেদিত এই মানুষটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নেত্রীর নির্দেশে বাগেরহাট-৪ তথা মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা উপজেলায় ২৬টি পথসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২৩টি পথসভা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ২৪ তম পথসভা চলাকালে শরণখোলার পাচ রাস্তার মোড় থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করা হয় কাজী মনিরুজ্জামানকে।

আরো পড়ুন:- পিরোজপুরে তিন দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন!!

কয়েকমাস জেলে থেকে জামিনে মুক্তি পান জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছি দলের জন্য। দল থেকে কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করি না। মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার মাটি ও মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্খা ছোট বেলা থেকেই। সেই আশাকে সামনে নিয়ে আমি মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলাকে দেশের মডেল সংসদীয় এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য অনেক দিন থেকে এলাকায় কাজ করছি। আশা করি আগামিতে দল যদি ক্ষমতায় যায় আর আমি জাতীয় সংসদে যেতে পারি তাহলে মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলায় চমক দেখাবো। মনোনয়ন না পেলেও তিনি আজীবন মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলার মানুষের জন্য উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

দল মনোনয়ন না দিলে কি করবেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে মোড়েলগঞ্জের কৃতি সন্তান জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যাকে মনোনয়ন দেবেন আমি তার জন্যই কাজ করবো। তেমনি অন্যদের কাছেও আমার অনুরোধ থাকবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে। মনোনয়নটা বড় বিষয় নয়। দলকে ক্ষমতায় নেয়াই বড় বিষয়। গেল নির্বাচনে বাগেরহাট-৪, আসনে জোট থেকে জামায়াতকে মনোয়নয়ন দেয়া হয়েছিল, তখন আমিও জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছি। আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন আশাবাদি। কারণ জামায়াত ২০দলীয় জোটের একটি দল। তাদের মনোনয়ন দিলে দেশনেত্রীই দেবেন। তাদের পক্ষে কাজ করা মানে দেশনেত্রীর নির্দেশ মেনে চলা।

আরো পড়ুন:- বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ৩ দিন ব্যাপি উন্নয়ন মেলা শুরু

এলাকার মানুষ আপনাকে কেন ভোট দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী মনির বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত আমার নিজ মাতৃভূমিতে ছিলাম। সৎপথে নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। এলাকায় যেসব কাজ করেছি তার ফিরিস্তি সংক্ষিপ্ত সময়ে দেয়া সম্ভব নয়। তবে যেটুকু মনে পড়ে, তার মধ্যে মাতৃভাষা কলেজে ভবন ও শহীদ মিনার নির্মাণ। পঞ্চকরন ইউনিয়নে জমি কিনে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, ফেরিঘাট মসজিদ-মাদ্রাসার জন্য প্রায় ১ বিঘা জমি দান, যার মুল্য ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা। ওই জমিতে সৌদি আরবের অর্থায়নে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুদান, এসএম কলেজ ও মসজিদে অনুদান, খান আবু বকর স্মৃতি মাদ্রাসায় অনুদান, কালাচাঁদ আউলিয়া মাজারে মসজিদ নির্মাণ, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের জমি কেনায় অনুদান দিয়েছি। চিংড়াখালী হাইস্কুলে অনুদান দিয়েছি। ১৯৯৩ সালে যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালে কর্নেল অলি আহমেদকে নিজ উদ্যোগে এলাকায় এনে সরকারি বরাদ্ধ করিয়ে সাইন বোর্ড থেকে শরণখোলা রাস্তা ইটের সলিং থেকে কার্পেটিং করিয়েছি।

আরো পড়ুন:- নাখালপাড়ায় অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত

১৯৯৩ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রী মাজেদুল হককে এলাকায় এনে সরকারি বরাদ্ধ করিয়ে ভোলা নদী খনন করার ব্যবস্থা করেছি। মাতৃভাষা কলেজ ও দক্ষিণ বাংলা কলেজকে এমপিওভুক্ত করার পিছনে আমার অবদান রয়েছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২০০টি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিম খানায় আর্থিক অনুদান দিয়েছি। ২০/২৫টি স্কুল কলেজে বার্ষিক ক্রিড়ায় পুরস্কার, আর্থিক সাহায্য, ফ্যান, বেঞ্চ দিয়েছি। এখনও প্রতি মাসে বাগেরহাট-৪ এলাকার রোগী, গরীব ছাত্রদের সাহায্য করে থাকি। কাজী মনিরুজ্জামান আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে আলোচিত বড় ঘুর্ণিঝড় সিডরে মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময়ে শরণখোলার সাউথখালীতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করি। ২ মাস যাবত এই ব্যবস্থা চালু ছিল। মাসব্যাপি মোড়েলগঞ্জ টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তাফালবাড়ীতে হোম তাবু দিয়ে ফ্রী চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করি। এ ছাড়াও তিনি সাধ্যমত সিডরের সময় নগদ টাকা, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসার জন্য কিচেন সেট-হাড়ি-পাতিল-গ¬াস ইত্যাদি বিতরণ করেছি। এছাড়াও আমাদের দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভার ১৮৯টি ওয়ার্ডে আমার বিচরণ সময়ই আছে। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সুখ দুঃখের খবর নিয়েছি যা এখনও অব্যাহত রেখেছি। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমি ঢাকাস্থ মোড়েলগঞ্জ কল্যাণ সমিতির শুরু থেকে শিক্ষা সম্পাদক, সমাজ কল্যাণ, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক। আজীবন সদস্য মোড়েলগঞ্জ সমিতি, মোড়েলগঞ্জ ফাউন্ডেশন, বাগেরহাট সমিতি, খুলনা সমিতি, মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি, ছাত্র ও যুব কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, সুর্যসেন এলামনাই, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার গ্রাজুয়েট, বাংলাদেশ বুক ক্লাব। এছাড়া উপদেষ্টা বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।

মনির বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে। দেশনেত্রীর মার্চ ফর ডে-মোক্রেসি আন্দোলনে ওসমান ফারুক, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সাথে সেদিন সবাই প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয়ে ধাওয়া খেয়ে হাইকোর্টের ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে ২য়তলা থেকে লাফ দিয়ে আমার পা ভেঙে যায়। তখন পুলিশের ছররা গুলিতে আমার পা ঝাজরা ভেঙ্গে যায়। সেই ভাঙা পা নিয়ে এক বছর হাসপাতালে ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, ভদ্র ও মার্জিত স্বভাবের কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেছি। এছাড়া পিএইচডিও করেছি। আমার স্ত্রীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছে। আশা করি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত আমার ত্যাগের কথা বিবেচনা করে নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন। তিনি যদি আমাকে বাগেরহাট-৪, মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা মনোনয়ন দেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দল তথা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। বিডিটুডেজ/আরএ/১২ জানুয়ারি, ২০১৮