ঢাকা, বাংলাদেশ, ২৭°সে | আজ |
English Version

একটি পাথর নামক বুলেটের গল্প!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মি. আতিক সাহেব সবে মাত্র বিবাহ করেছেন। বিবাহের পর তার সহধর্মীনি (বৌ) হানিমুনের জন্য সিলেটের পর্যটন এলাকা জাফলং এবং চোখ জুরানো সাত রংয়ের চায়ের দেশে যাওয়ার জন্য মি. আতিক সাহেব কে প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাব কে হ্যা সমর্থন করে মি. আতিক আগামী শুক্রবার প্লান করলেন সহধর্মীনিকে নিয়ে সিলেটে হানিমুনে যাবেন। সেই প্লান মোতাবেক তিনি সবকিছু তৈরি করার ব্যবস্থা নিলেন এবং যাত্রার জন্য বেছে নিলেন বাংলাদেশ রেলওয়েকে। শুক্রবার যেহেতু যাবেন সেহেতু ট্রেনের টিকিট কনফার্ম করতে মি. আতিক কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখেন টিকিট কাউন্টারে প্রচুর ভীর লাইনে দারিয়ে সবাই টিকিট নিচ্ছে তখন আর কি করার তিনিও লাইয়ে গিয়ে দারালেন এবং প্রায় ১/২ ঘন্টা পর্যন্ত লাইনে দারিয়ে থেকে তিনি সিলেটের উদ্দেশ্য চলাচলকারী বনের ভিতর দিয়ে চলা ৭০৯ নং আপ পারাবত ট্রেনের দুটি শোভন চেয়ার সিটের টিকিট কেটে কনফার্ম করলেন। এবং বাসায় গিয়ে যাত্রা কনফার্ম করলেন সহধর্মীনিকে। সহধর্মীনি বেজায় খুশি সিলেট যাচ্ছেন তারা আনন্দগন মুহুর্ত চলছে তাদের দুজনের মাঝে। বৃহস্পতিবার বিকালে একটু তারাতারি অফিস থেকে ঘন্টা খানিকের ছুটি নিয়ে বাসায় ফেরেন।

আরো পড়ুন:- গুণীদের মজার গল্প!!

বাসায় এসে মালামাল গুছাতে শুরু করেলেন সকাল ৬:৩৫ মিনিটে ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাবে সহধর্মীনিকে প্রতি ১ ঘন্টা পর পর মনে করিয়ে দিচ্ছেন। মালামাল সহ সকল কিছু গুছানো সম্পুর্ন করে রাতের ৯/১০ দিকে শুয়ে পরলেন সকাল সকাল উঠতে হবে। অতপর সকাল হলো মি. আতিক সাহেব সহধর্মীনিকে নিয়ে বাসা থেকে বেড় হয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে আসলেন তখন সময় ৬:২০ মিনিট এদিক ওদিক না তাকিয়ে সরাসরি ট্রেনের নিকট চলে যান এবং নিজের টিকিটের আসন গ্রহন করেন। স্ত্রীকে জানালার পাশের সিটে দেন আর নিজে পাশের সিটে বসেন সিট গুলি ছিল সিলেট মুখী। ট্রেন সঠিক সময়ে কমলাপুর ছেড়ে গেল গ্রুপে আপডেটও দিলেন দুজনের গল্প করা শুরু হয়ে গেলো এক একসময় এক একগল্প আর গল্প করতে করতে ট্রেন কখন যে নরসিংদী থ্রু অতিক্রম করে চলে গেলো মি. আতিক তা বুজতে পারলেন না। নরসিংদী অতিক্রমের পর দুজনের বেশ ঘুম পাচ্ছে বুজতে পেরে দুজনে চোখ বন্ধ কর ঘুমিয়ে পরলেন ট্রেন চলছে ননস্টপে এক ঘুমে নোয়াপারা গিয়ে সজাগ হলেন মি. আতিক সহধর্মীনির চোখ তখনো বন্ধ ছিল আতিক কোন নারাচাড়া না দিয়ে তিনি আবারো চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পরলেন।

পারাবত ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল অতিক্রম করে পঞ্চনগরের আখড়া দিয়ে যাচ্ছে তখন মি. আতিক জেগে উঠলেন। তিনি তখনো দেখলেন তার সহধর্মীনি চোখ মেলেনি তিনি ভাবলেন হয়তো আমি যখন জেগে উঠি ও তখন ঘুমায় আবার আমি যখন ঘুমাই ও তখন জেগে উঠে এই ভেবে মি. আতিক তার সহধর্মীনিকে আর জাগালেন না ট্রেনটি যখন মাইজগাও স্টেশন প্রবেশ করে তখন মি. আতিক তার সহধর্মীনিকে সজাক করার চেষ্টা করেন কিন্তু সহধর্মীনি আর সজাগ হচ্ছেন না একটু পরে খেয়াল করলেন জানালার কাচ ভাঙ্গা তখনো তিনি কিছু মনে করেন নাই তারপর জোরে জোরে ডাকা শুরু করলেন নাম ধরে কিন্তু সহধর্মীনি কোন সাড়া দিচ্ছেন না আস্তে আস্তে কোচের সকল যাত্রী ঝরো হতে শুরু করলো মি. আতিকের সিটের নিকট এবং মি. আতিক গলা ছেড়ে উচ্চ সরে জোরে জোরে চিৎকার করে কান্না করছেন কেউ সান্তনা দিচ্ছে আবার কেউ দোয়া পড়ছেন। দুস্কৃতকারী ছোড়া ঢিলে জানালার কাচ বেধ করে মি. আতিকের সহধর্মীনির মাথায় আঘাত হানে এবং এস্পটেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন মিসেস আতিক। আর জেগে উঠলেন না মিসেস আতিক। আর কোনদিনও জেগে উঠবেন না মিসেস আতিক। এই কথাটি মি. আতিক বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। এভাবেই ঝড়ে গেলো একটি তাজা প্রান। দুটি পরিবার হারালেন তাদের আদরের মেয়ে ও বৌ ভাই হারিয়েছে তার বোন কে আর মি. আতিক হারিয়েছেন তার জীবন তার সদ্য বিবাহ করা বৌ কে। বিঃদ্রঃ পাথর নিক্ষেপকারী কতটুক নির্মম হলে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিতে পারে তা আমার জানা নেই আপনাদের জানা থাকলে জানাবেন প্লিজ। বিডিটুডেজ/আরএ/১২ জানুয়ারি, ২০১৮