English Version

জেনে নিন- ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কে বিস্তারিত (পর্ব ১)

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

ক্লাউড কম্পিউটিং

বিডিটুডেস ডেস্ক:

“ক্লাউড” শব্দটি আমরা অনেকেই কম বেশি শুনেছি। আজ আমরা ক্লাউড এর বেসিক কিছু জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করব একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য। এমনিতেই শেষ পর্যন্ত পড়তে পড়তে চারপাশ মেঘে(Cloud) ঢাকা মনে হতে পারে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

প্রথমেই বিষয় বস্তু সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক: 

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?
ক্লাউড স্টোরেজ কি?
এটি আমরা কেন ব্যবহার করি?
এটি কিভাবে আমাদের নানান ডিভাইস পরিবর্তন করছে?
ক্লাউড এর অসুবিধা।
ক্লাউড এর ভবিষ্যৎ।

প্রথমে জেনে নেয়া যাক ক্লাউড কম্পিউটিং কি? খুব সহজ করে বলতে গেলে ক্লাউড কম্পিউটিং হল নিজের দরকারে আরেকজন এর জিনিসপত্র শেয়ার করা। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। যেমন, এক সময় সিডি প্লেয়ার এর খুব প্রচলন ছিল। তখন ক্যাবল টিভি হরেক রকমের চ্যানেল ছিলনা।

বিনোদন ছিল সীমাবদ্ধ। তখন অনেকেই সিডি প্লেয়ার কিনে সবাই মিলে মুভি দেখতো। তো একটা মুভি সাধারণত একবার দেখার পর সেটা আর বারবার দেখা হয়না। আবার ২/৩ দিন পরপর মুভি দেখতে গেলে সিডি কিনে দেখাও পোষাতো না। তো এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান ছিল ভাড়ায় সিডি এনে দেখা। সিডি ভাড়া দেয়ার ও অনেক দোকান ছিল তখন।

এতে যে কয়দিন রাখবেন সিডি সে হিসেবে দোকানে ভাড়া দিতে হবে। আবার দোকানদার এর ও লাভ। কারণ একজন গ্রাহক সিডি ফেরত দিলে সেটা দোকানে পড়ে থাকেনা ,কেউ না কেউ আবার নিয়ে যায়। সেও একই সিডির জন্য বারবার ভাড়া পায়।

বিভিন্ন লাইব্রেরী থেকে একইভাবে বই ও ভাড়া পাওয়া যেতো। কারণ যারা অনেক বই পড়ে তাদের সব বই কিনে পড়ার সামর্থ্য থাকেনা কিংবা অনেক বই একবার পড়লেই হয়। তো কয়েকদিনের জন্য ভাড়া পাওয়া গেলে পাঠক এর ও সুবিধা আবার যারা ভাড়া দিতো সেসব বই তাদের ও লাভ। লাইব্রেরীতে অলস পড়ে থাকার চেয়ে একই বই তারা পুনঃপুন পাঠক কে ভাড়ায় পড়তে দিয়ে লাভ করতে পারত।

যাই হোক, ক্লাউড এর ধারণার সাথে এটা কিভাবে মিলে সেইদিকে যাওয়া যাক।

ক্লাউড কম্পিউটিং হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা দেয়ার একটি মাধ্যম। ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান অন্যের রিসোর্স যেমন ভার্চুয়াল মেশিন, স্টোরেজ, কিংবা অন্য কোনো সেবা নিতে পারে। এর জন্য উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আলাদা ভাবে পুরো অবকাঠামো তৈরির কোনো দরকার পড়ে না। যেমন, আপনার কয়েকদিনের জন্য একটা হাই পারফরম্যন্স এর কম্পিউটার এর দরকার পড়ল। সবসময় যেটার কোনো কাজ নেই। এখন কয়েকদিনের জন্য এমন কনফিগারেশান এর কম্পিউটার কিনেও পোষায় না। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়ে যাবে।

তখন আপনি ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে যে কোনো ক্লাউড কোম্পানি থেকে আপনার যে কয়দিন দরকার ঠিক সেই কয়দিনের জন্য ভার্চুয়ালি আপনার দরকার মত মেশিন ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনার বাড়তি অনেক খরচ যেমন বেঁচে যাবে তেমনি কোম্পানির ও কোনো লস নাই আপনাকে কয়দিনের জন্য একটা রিসোর্স ভাড়া দিয়ে। কারণ তাদের রিসোর্স অলস বসে থাকেনা। অনবরত কেউ না কেউ ভাড়া নিচ্ছে আবার ফেরত দিচ্ছে।

এক লাইনে বলতে গেলে, ক্লাউড কম্পিউটিং একটা ব্যবসায়িক মিথস্ক্রিয়ার মত। যাতে সেবাদাতা এবং গ্রহীতা দুই পক্ষই লাভবান হয়।

আর “ক্লাউড” শব্দটা মূলত এসেছে, বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের ডায়াগ্রামে ইন্টারনেট এর অংশটুকু বোঝানোর জন্য পুঞ্জীভূত এক গুচ্ছ মেঘ ব্যবহার করা হত। সেখান থেকেই ক্লাউড নামকরণ।

এটি আমরা কেন ব্যবহার করি? ক্লাউড কম্পিউটিং এর কিছু আকর্ষণীয় সুবিধা আছে বিশেষ করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে। এসব জানার পরে সহজেই বোঝা যাবে আমরা কেন এটি ব্যবহার করি কিংবা করব?

। নিজের চরকায় নিজেই তেল লাগানোর ব্যবস্থাঃ এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার চাহিদামত রিসোর্স ব্যবহার করতে পারেন এবং কাজ শেষে তা ফেরত দিয়ে দিতে পারেন । এতে তার বাড়তি মেইনট্যানেন্সের জন্য লোক রাখতে হয়না। যেমন ধরুন, আপনার একটা সুপারশপ আছে। এবং ২ জন সেলসম্যান আছেন।সারাদিন সেখানে কাস্টমারের ভিড় সমান থাকেনা। বিকেলের দিকে ঘন্টা তিনেক ভিড় সরবোচ্চ থাকে, তখন ২ জনের সেলসম্যানের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব হয়না। ওই ৩ ঘন্টার চাপ সামলাতে বাড়তি আরো ৩/৪ জন সেলস্ম্যান দরকার পড়ে। কিন্তু ৩ ঘন্টার জন্য বাড়তি সেলস্যম্যানদের সারাদিন তেমন কাজ নেই। সুতরাং এদের সারাদিনের জন্য বেতন দিয়ে রাখাও পোষায় না। এক্ষেত্রে ক্লাউড কোম্পানি আপনাকে শুধু ৩ ঘন্টার জন্যই আপনার দরকারী সেবা আপনাকে দিতে পারে। যা আপনার অনেক খরচ বাচিয়ে দিতে সক্ষম।

। যত লাগে তত নিনঃ এটা বলতে বোঝায় আপনার ঠিক যতটুকু লাগবে আপনি ততটুকুই নিতে পারবেন। আপনাকে বেশি বা কম নিতে হবেনা। যেমন, আজ মেন্যু বেশি ৫ টা পাতিল লাগবে রান্না করতে সুতরাং ৫ টাই নিলেন। কাল হয়ত ২ পাতিলেই হয়ে যাবে বাকি ৩ টা ফেরত দিলেন। আবার হয়ত মেন্যু বাড়ল ৭ টা পাতিল লাগবে বাড়িয়ে নিলেন। আপনার সুবিধামতই ক্লাউড কোম্পানিগুলো আপনাকে আপনার দরকারী সেবা দিবে।

। সেবা যত, টাকা ততঃ আপনি যতক্ষণ রিসোর্স ধরে রাখবেন ঠিক ততক্ষণের জন্যই আপনাকে টাকা দিতে হবে। রিসোর্স ছেড়ে দিলেন তো আর পে করতে হবেনা, আবার নিলেন যতক্ষণ কাজ করাবেন ততক্ষণ এর জন্য পে করার সুবিধা আছে আপনার। হোটেল এর মত নয়, যে চেক ইন করলেন তো ২০ মিনিট থাকলেও ২৪ ঘন্টার ভাড়া গুণতে হবে, আবার ২৪ ঘণ্টা থেকে ২৪ মিনিট বেশি হয়ে গেলে বাড়তি আরো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া গুণতে হবে।

। আপনার চেয়ে আপনার ডাটার সিকিউরিটি বেশিঃ আপনি গুম হয়ে যাইতে পারেন যেকোনো মুহূর্তে কিন্তু আপনার ডাটা গুম হওয়ার ভয় নেই। আপনার যদি অনেক বেশি ডাটা থাকে আপনি হয়ত আলাদা হার্ডডিস্ক ব্যবহার করে ব্যাক আপ রাখলেন। কিন্তু সেই হার্ডডিস্ক যে ক্র্যাশ করবেনা সেই গ্যারান্টি নাই। আবার অন্য কোনোভাবেও আপনি ডাটা হারিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু ক্লাউডে আপনার এই ভয় নেই। আপনার ডাটা রক্ষার গ্যারান্টি ক্লাউড আপনাকে দিবে। সুতরাং এই সুযোগে আপনি নিজের দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখার সময় ও পাবেন।

। যেখানে মধু, সেখানেই যদুঃ আপনি মাইগ্রেট ও করতে পারেন। আপনি যে কোম্পানি থেকে বর্তমানে সেবা নিচ্ছেন কোনো কারণে অন্য কোম্পানি থেকে আরো ভালো সেবা পেলে আপনি মুহূর্তের মাঝেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে সেই কোম্পানির সেবা নিতে পারেন। কোনো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল বা থ্রেট নাই।

। চৌধুরী সাহেবের মত লম্বা হাতঃ আপনি যে কোনো জায়গা থেকে ফোন বা পিসির মাধ্যমে আপনার ক্লাউড কম্পিউটিং এর কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ইন্টারনেটের সাহায্যে। আপনাকে এটার জন্য সারাদিন অফিসে বসে থাকা কিংবা আলাদাভাবে মেইনট্যানেন্সের কথা চিন্তা করতে হবেনা।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদঃ ব্যবহারকারীর ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ক্লাউড কম্পিউটিং ৪ ধরণের হয়ে থাকেঃ

। পাবলিকঃ পাবলিক ক্লাউড বলতে বোঝায় যেখানে একই রিসোর্স কয়েকজন থেকে শুরু করে, কয়েক হাজার কিংবা কয়েক লাখ গ্রাহক শেয়ার করতে পারে।। পাবলিক ক্লাউডে সাধারণত সফটওয়্যার সেবা দেয়া হয় (Software-as-a-Service)। যেমন, একটা উদাহরণ দেয়া যাক। গুগল এর জিমেইল তো আমরা প্রায় অনেকেই ব্যবহার করে থাকি। এটি একটি পাবলিক ক্লাউড এর উদাহরণ। গুগল এর সমীক্ষা মতে, ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাসিক জিমেইল সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন। যেখানে প্রতিটি জিমেইল একাউন্ট আলাদা পাসওয়ার্ড এর সাহায্যে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু যেখানে এই সফটওয়্যারটি স্টোর করা আছে সেটি ১ বিলিয়ন মানুষ শেয়ার করছে। এটাই মূলত পাবলিক ক্লাউড সেবার মূল ধারণা।

। প্রাইভেটঃ এটা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে। এর বাইরে কারো সাথে শেয়ার করার সুযোগ নেই।

। হাইব্রিডঃ এটাতে পাবলিক এবং প্রাইভেট দুইটাই আছে। একটা অংশ হয়ত পাবলিক যেখানে অন্য একটা অংশ প্রাইভেট। যেমন, একটা কোম্পানি তাদের কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য পাবলিক ক্লাউড অংশ ব্যবহার করছে, আবার কাস্টমারদের ডাটা রাখার জন্য প্রাইভেট ক্লাউড অংশ ব্যবহার করছে।

। কমিউনিটিঃ এটা একাধিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার করতে পারে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে কারো এর একসেস নেই। (চলবে….) বিডিটুডেস/আরএ/০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 + one =