English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কলাস্টিকা স্কুলের ছাত্রকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর স্কলাস্টিকা স্কুলের ছাত্রদের পিটিয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। শুধু পিটিয়েই ক্ষান্ত হননি, মোটরসাইকেলে ঘষা লাগার অপরাধে নির্বিচারে ভাঙচুর করেছেন একটি প্রাইভেটকার। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে শ্যামলী স্কয়ার মার্কেটের সামনে (শ্যামলী সিনেমা হল) এ ঘটনাটি ঘটে।  অভিযুক্ত কনস্টেবল আরিফ ঢাকা মহানগর পুলিশের চেন্সারি বিভাগে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। বাবা সাইফুল ইসলামও পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক। এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক বলেন, আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসেছিলাম। কনস্টেবলের বাবা গাড়ির ক্ষতিপূরণের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে তা তুলে নিয়েছেন। ওই কনস্টেবলকে চেন্সারি বিভাগের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।গতকাল বেলা পৌনে দুইটার দিকে সরেজমিনে শ্যামলী স্কয়ারের সামনে গেলে দেখা যায় অসংখ্য উত্সুক মানুষের ভিড়। আদাবর থানার একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যানকে ঘিরে সাধারণ মাুনষের জটলা। পুলিশের বিরুদ্ধে তারা নানা স্লোগান দিচ্ছেন। মানুষের ভিড় ঠেলে একটু এগিয়ে গেলে দেখা মেলে পিকআপ ভ্যানে একজন মানুষ হেলমেট পরিহিত অবস্থায়।

ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের হাত থেকে রক্ষার জন্য অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে রেখেছেন। পিকআপ ভ্যানটির পাশেই টয়োটা এক্সিও মডেলের একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-খ ৩৯-০৮২০)। গাড়িটি দেখে বোঝা যাচ্ছে হয়তো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। সামনের কাচ, পেছনের কাচ, সাইড গ্লাস, লুকিং গ্লাস কোনো কিছুই আস্ত নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছিলেন, এই কাজ পুলিশ কনস্টেবল আরিফের। তার মোটরসাইকেলে ঘষা লাগার অপরাধে তিনি প্রথমে হেলমেট পরে একটি লাঠি দিয়ে নির্বিচারে ভাঙচুর করেছেন গাড়িটি। এর প্রতিবাদ করায় গাড়ির আরোহী স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আহ্নাফ মাহদী, নাহিনকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র রাগীব মোহাম্মদের মা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা। ঘটনাস্থলে থাকা আহত স্কুলছাত্র মাহদী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা চার বন্ধু মিলে শ্যামলী থেকে বনানী যাচ্ছিলাম। গাড়ি চালাচ্ছিল আমার বন্ধু রাগীব। বিডিআর শপ থেকে মূল রাস্তায় ওঠার সময় হয়তো একটি মোটরসাইকেলে একটু ঘষা লেগেছিল। শ্যামলী মোড়ে আসামাত্র ওই মোটরসাইকেল আরোহী আমাদের গাড়ি নির্বিচারে ভাঙচুর করতে থাকেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে অন্য পুলিশ সদস্যদের সামনেই তিনি আমাদেরও মারধর করেন। স্কুলছাত্র নাহিন বলে, আমরা ওই পুলিশ সদস্যকে বলছিলাম আমাদের গাড়ি কেন ভাঙছেন? আপনার মোটরসাইকেল এমনকি আপনারও তো কিছুই হয়নি। তিনি আমাদের কোনো কথায় কান দেননি। উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হন।

সূত্র:বিডিপ্রতিদিন