ঢাকা, বাংলাদেশ, ২৯°সে | আজ |
ইংরেজী ভার্সন English Version

দিরাইয়ে ৬৯ বস্তা চাল জব্দ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া , সুনামগঞ্জ || সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরেই টানা অকাল বন্যা ও মানব সৃষ্টি করনে জেলার ১১টি উপজেলায় হাওর ডুবির গঠনা গঠেছে। বার বার একমাত্র সম্পদ বোরো ধান হারিয়ে সর্বশান্ত হাওর পাড়ের অসহায় কৃষক পরিবার। এতে করে তারা শেষ সম্ভল হালের গুরু বিক্রি করে কোন রখমে জীবন পাড় করছে। ঐ পরিস্থিতে সরকার ক্ষতি গ্রস্থ কৃষক পরিবার ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারী ভাবে স্বল্প মূল্যে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেই চাল পেয়ে কিছুটা রক্ষা পেলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। শুরু থেকেই এই চাল নিয়ে চলে কেলেংকারী। কোনটি প্রকাশিত হয় আবার কোনটি প্রকাশ হয় নি থেকে যায় সবার আড়ালে। চাল চুরির ঘটনা প্রকাশ না হওয়ায় গোপনে চলছে জেলার প্রতিটি উপজেলায় নিয়োগ প্রাপ্ত্য ডিলারদের সাথে নিয়ে খাদ্য গোদাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ সাজোসে স্থানীয় রাগব বোয়ালদের চাল চুরি। এই সব চুরির গঠনার প্রকাশ হলেও এর সাথে জরিতদের বিষয়ে নেয় নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোন আইননানুগ ব্যবস্থা। সম্প্রতি জেলার শাল্লা উপজেলায় গত শুক্রবার(১২,০১,১৮ইং)সকালে শাল্লা উপজেলার সহদেবপাশা গ্রামের পাশে চালের বোঝাই নৌকাটি ভিড়ায়। এসময় কৌতুহলী কয়েকজন স্থানীয় বাসীন্দা দেখতে পান ট্রলারের ভিতরে চালের বস্তা। বস্তার গায়ে সরকারী চাল লিখা। তা দেখে ঐ লোকজন সবাইকে ডাতকে শুরু করে। আর নৌকার মাঝি ও শ্রমিকরা দ্রুত সরকারী চালের ৬৯বস্তা ওএমএস গুলো নদীর পাড়েই নামিয়ে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে শাল্লা থানা পুলিশ চাল গুলো জব্দ করে। এই বিষয়ে জানাযায়,শাল্লা উপজেলা সদরের ২জন ও যেখানে চাল পাওয়া গেছে সেখানকার মনুয়া বাজারের ডিলারগন সরকার দলীয় লোক।

জানাযায়,জেলায় গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে ১১১০টি কেন্দ্রে ডিলারের মাধ্যমে প্রথমে ১৫টাকা কেজি দরে ও এখন ৩০টাকা দরে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে। জন প্রতি ৫কেজি চাল কিনতে পারবে। আরো জানাযায়,এছাড়াও গত বছরের নভেম্বরে জামালগঞ্জ উপজেলায় চাল পাচারের সময় ২০বস্তা ওএমএস চাল আটক করা হয়। ঐ চালের মালিক সরকারী দলীয় স্থানীয় নেতা সুব্রত পুরকাস্থ ডিলার। একেই বছরের জুন মাসে জেলার দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা রনি দাসের ডিলারশীপে ১৭বস্তা ওএমএস চাল পাচারের সময় আটক করা হয়। এঘটনায় ডিলারশীপ বাতিল হয়। এই মাসেই ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নে সরকার দলীয় কর্মী জাহাঙ্গীর আলমের ডিলারশীপে ওএমএস চাল পাচারের সময় ২০বস্তা চাল আটক করা হয়। এ কারনে ডিলারশীপ বাতিল হয়। জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ওএমএস চাল পাচারের কারনে যুবলীগ সদস্য আব্দুল বারীর ডিলারশীপ বাতিল করা হয়। ডিলারশীপ বাতিল ছাড়া আর কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক ঘটছে চাল চুরির ঘটনা। এতে করে জেলার সচেতন এলাকাবাসী,ক্ষতিগস্থ হাওরবাসী ও হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে ক্ষোবের সঞ্চার হচ্ছে। তারা বলেন,সরকারের সহযোগীতা যেমন সুনাম অর্জন করেছিল তার চেয়ে দূনার্ম অর্জন করেছে বেশি। ঐ সব চাল চুরদের বিষয়ে আইনের মাধ্যমে আরো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।

ঐসব ডিলার সরকার দলীয় বিধায় সবাই চুপ রয়েছে আর চুরি হচ্ছে। তাদের না পুষে শাস্তি দেওয়াটা ছিল সফলতা আর শাস্তি না দেওয়াটা সরকারের ব্যর্থতা। আমরা সাধারন কৃষকরা যা দেয় তা নিয়ে কোন রকমে দিন পার করি। আর তারা চাল চুরি করে বাড়ি-গাড়ি করে। অনেক ডিলার রয়েছে তারা নির্ধারীত চাল না দিয়েই চাল শেষ বলে দোকান বন্ধ করে দেয়। শাল্লা থানার ওসি দোলোয়ার চাল আটকের ঘটনার সত্যাতা নিশ্চিত করে জানান,উপজেলার সহদেবপাশা গ্রামের পাশে ৬৯বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। চাল বহনকারী কাউকেই পাওয়া যায় নি। এই চাল কার কারাইবা এই পাচারের সাথে জরিত তা গুরুত্ব সহকারে বের করার চেষ্টা চলছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা জানান,আমি জানতে পেরেছি। জব্দকৃত চালের নমুনা সংগ্রহ করেছি। কার চাল কিভাবে ওখানে গেল তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এপর্যন্ত এসব অনিয়মের কারনে কয়েক জনের ডিলারশীপ বাতি করা হয়েছে। দু-জনের নামে মামলা হয়েছে।