English Version

ধুলায় ধূসর মাভাবিপ্রবি, বাড়ছে বায়ু-দূষণ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সাইফুল মজুমদার, মাভাবিপ্রবি: ধুলার রাজত্বে অসহায় হয়ে পড়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। স্বপ্ন চত্বর, বিজয়াঙ্গন মোড়, হাসপাতাল মোড়, ২য় একাডেমিকের সড়ক, দীঘির পাড় সড়ক, বঙ্গবন্ধু ও মান্নান হল সড়ক এবং নিউ একাডেমিক ভবন এলাকাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ এলাকাই এখন ধুলার চাদরে মোড়ানো। একাডেমিক ভবন ও হল থেকে বের হলেই পড়তে হচ্ছে ধুলার কবলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ধুলাদূষণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে অনেকেই নাকে হাত বা রুমাল দিয়ে চেপে ধরছেন। ধুলার তীব্রতায় অনেক জায়গায় মাস্কও কাজে আসছে না। ধুলার কারণে একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে বাড়ছে বায়ু দূষণ ও বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিশ্ববিদ্যালয় শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের কাজ। খোঁড়াখুঁড়ির প্রভাব পড়েছে ক্যাম্পাসের রাস্তায়। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। শীতের আগমনি বার্তার সঙ্গে রাস্তায় বেড়েছে ধুলার উপদ্রব। প্রচণ্ড ধুলায় শিক্ষার্থীদের নাস্তানাবুদ অবস্থা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা।

ফারজানা জামান নামে এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ক্যাম্পাসে এখন বের হতে ইচ্ছা করে না। ধুলায় ধূসর সর্বত্র। মাস্কও ধুলার মোকাবেলা করতে পারছে না। এ সময় তিনি হাত দিয়ে ইশারায় রাস্তার পাশের গাছ ও ভবনের দেয়ালগুলো দেখান। যেটি ধুলায় ধূসর রং ধারণ করেছে। ধুলায় স্বপ্ন চত্বর, হাসপাতাল মোড় এবং বঙ্গবন্ধু ও মান্নান হল এলাকার পরিস্থিতি একেবারে শোচনীয়।যেভাবে ধুলার সৃষ্টি: উন্নয়ন প্রকল্প কাজের খোঁড়াখুঁড়ি, ভবন নির্মাণের মাটি, বালু, সিমেন্ট, পাথর, নুড়িপাথর, কংক্রিট যত্রতত্র রেখে দেওয়া। আবার রাস্তা দখল করে ভবনের বর্জ্য মাসের পর মাস ফেলে রাখায় সেখান থেকে পদপিষ্ট হয়ে ধুলোর সৃষ্টি হয়। গাড়ির চাকায় সেগুলো পিষ্ট হয়ে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে।

ইউটিউব এ সাবস্ক্রাইব করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. তাহমিনা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ধুলার কারণে মানবদেহ ব্রংকাইটিস, এনার্জিক রাইনাইটিস, নিউমোনিয়া, টনসিলাইটিস ও অ্যাজমাসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। বাতাসে ক্ষতিকর উপাদান থাকলে ক্যান্সারের মতো রোগও হতে পারে। ধুলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নানা সংক্রামক ব্যাধি। এর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, হাঁপানি, চোখের সমস্যাসহ নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। এসবের অন্যতম কারণ ধুলার দূষণ। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের। দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিডিটুডেস/আরএ/০৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

12 − 12 =