ঢাকা, বাংলাদেশ, ৩৪°সে | আজ |
English Version

নারী-পুরুষ সমধিকারের নামে অগ্রাধিকার কেন?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কুমিল্লা: সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের একটি স্কুলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করি। ঐ অনুষ্ঠানে স্কুলের নবম শ্রেণির ছেলেমেয়ে তথা নারী-পুরুষ সমধিকারের জন্য গণসচেতনতামূলক একটি অভিনয় প্রদর্শন করে। সেই অভিনয়ে ফুটে ওঠে স্বাধীনতা পূর্ব বাংলাদেশে নারীর অবহেলা ও বঞ্চনার চিত্র। যখন নারীরা ছিলো সম্পূর্ণরূপে অবহেলিত। নারীদের কাজ করতে হতো দাসীর মতো।

অন্যদিকে খাওয়া-দাওয়া, চাওয়া-পাওয়াসহ সর্বক্ষেত্রেই পুরুষদের অগ্রাধিকার বজায় ছিল। নারী-পুরুষের সেই আকাশ-পাতাল ব্যবধান এখন আর দেখা যায় না। নারীর প্রতি সেই অবহেলাও আজ আর নেই। উপরন্ত আজকের এই সমাজে পুরুষরাই তাদের প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার নারী-পুরুষের জন্য সমধিকারের কথা বললেও সেটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সময়ে সমাজের সর্বক্ষেত্রেই নারীরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একটু বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

ফেসবুক পেইজে দেখুন”

শিক্ষা ক্ষেত্রে: দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সব সময়ই পুরুষদের চেয়ে নারীদেরকে বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সর্বাত্মক পর্যায়ে বিতরণকৃত বৃত্তির ৭০ শতাংশই ছাত্রীদের প্রদান করা হয়। আর ছেলেরা প্রায় মাত্র ৩০ শতাংশ। এতে করে অনেক ধনীর দুলালীরা শিক্ষা বৃত্তি পেলেও নারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে অনেক অসহায়-দরিদ্র মেধাবী ছেলেই সেই শিক্ষা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়। যারা একদিন পড়ালেখার খরচ বহন করতে না পেরে বিপথগামী হয়। তাহলে এটা কোন ধরনের সমধিকার?

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে : শিক্ষা ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে একজন মেয়েকে এইচএসসি পাস হলেই চলে। অথচ ছেলেদের পাস করতে হয় ডিগ্রি, অনার্স বা সমমান। এতে দেখা যায়, একই চাকরির জন্য মেয়েদের চেয়ে একজন ছেলেকে ৪-৬ বছর বেশি পড়ালেখা করতে হয়।

এখানেই শেষ নয়! প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কম যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও ৬৫ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। আর বেশি যোগ্যতা থাকলেও পুরুষ শিক্ষক নেয়া হয় মাত্র ৩৫ শতাংশ। এতে করে সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীদের অগ্রাধিকার নামক অভিশাপের কবলে পড়ে অনেক পুরুষ চাকরি বঞ্চিত হয়ে বিপথগামী হয়। গত ৩০ জুলাই প্রকাশিত শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: খাবার সময় পানি পান করলে কী হয়?

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে : ফায়ার সার্ভিস ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রাখা হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও এই ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি আমরা সমধিকারে বিশ্বাসী হই তবে এই কোটা কেন? তাই নারী-পুরুষ সমধিকারের লক্ষ্যে নারীদের সংরক্ষিত কোটা বাতিল করা হোক।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে : স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের হার ছিল অনেক বেশি। সেই কারণে নির্যাতন প্রতিরোধে ও নির্যাতনকারীকে শাস্তি প্রদানে মহিলাদের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নামে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বর্তমান সমাজে নারী নির্যাতনের চেয়ে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। তবে, এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে বা নির্যাতনকারীকে শাস্তির আওতায় আনতে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। যদি আমরা সমধিকারে বিশ্বাসী হই, তবে পুরুষদের জন্যও পুুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হোক।

আরও পড়ুন: ছেলেদের ডিমের কুসুম খাবার উপকারিতা

এ রকম আরো অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। যা কখনোই সমধিকারের আওতায় পড়ে না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন এ সমাজে পুরুষরা কোনো কথাই বলতে পারবে না। তাই, সমধিকারের নামে আর কাউকে অগ্রাধিকার নয়! শুধু উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে নয়, সর্বক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ সমধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

লেখক: মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক।

বিডিটুডেস এএনবি/ ৩১.০৭.১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

19 + five =