English Version

নার্সারী কৃষিতে জুলফিকারের স্বপ্ন জয়

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ: নার্সারী ব্যবসার মাধ্যমেই নিজেনর স্বপ্নকে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন জুলফিকার আলী বিশ্বাস। সাফল্য অর্জন করেছেন নার্সারী কৃষিতে। সেই সাথে পেয়ারা চাষে কৃষি বিল্পব ঘটিয়েছেন, নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। এখন প্রতিদিন তার নার্সারী এবং পেয়ারা থেকে ত্রিশ হাজার (৩০,০০০/-) টাকা থেকে একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার (১,৫০,০০০০/-) টাকার বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রয় হয়। তার শুরুটা অনেক কষ্টে গেলেও এখন সে স্বালম্বী। বর্তমানে তার নার্সারী এবং পেয়ারা বাগান থেকে বছরে সবখরচ খরচা বাদদিয়ে পঞ্চাশ লক্ষ (৫০,০০০০/-) টাকা লাভ থাকে।

আরো পড়ুন: উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের কুসুমপুর মাঠপাড়া এলাকায় ৬২ বিঘা জমি উপর গড়ে উঠেছে নার্সারী ও পেয়ারা বাগান। এই নার্সারী এবং পেয়ারা বাগানের মালিক মোঃ জুলফিকার আলী বিশ্বাস। মৃত আলী আহম্মেদর ৮ ছেলে মেয়ের মধ্যে তিনি অষ্টম পুত্র। ১৯৯৩ সালে ডিগ্রী পাস করার পর পরে তিন বন্ধু মিলে ঠিক করে কিছু একটা করতে হবে। তিন বন্ধু মিলে ১৭ টাকা করে ৪৫ টাকা পুজি করে, পিতার কাছ থেকে দুই বিঘা জমি নিয়ে তারা প্রথমে নার্সারী ব্যবস্যা শুরু করে। কখনো খেয়ে কখনো না খেয়ে কখনো আবার খাবারের টাকা বাচিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাটতে থাকে তাদের দিন। অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে প্রথমেই সাফল্যের মুখ দেখতে পায়। প্রথমেই ২৫ হাজার টাকার চারা বিক্রয় করেন। ১২ বছরের পরিশ্রমের ফলে ৫৬ বিঘা জমিতে নার্সারী করতে স্বক্ষম হয় তারা। পরবর্তীতে তিন বন্ধু তাদের অর্জিত অর্থ এবং জমি ভাগ করে আলাদা আলাদা ভাবে নার্সারী করে। এখন তিন বন্ধুই আলাদা আলাদা নার্সারী এবং বিভিন্ন ফল বাগানের মালিক। বর্তমানে জুলফিকারের ২০ বিঘা জমিতে নার্সারী রয়েছে। তার নার্সারী তে রয়েছে আম, পেয়ারা, মাল্টা, লিচু, আমড়া, ডালিমসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও ঔষধী গাছসহ বিভিন্ন ফুলের চারা।

ফেসবুক পেইজে দেখুন

জুলফিকার ২০১৫ সালে নিজ উদ্যোগেই পেয়ারা চাষ শুরু করে। ভালো জাতের চারা এবং সঠিক পরিচর্জার ফলে প্রথম বছরেই বিঘা প্রতি প্রায় তিন লক্ষ টাকা লাভ হয়। পরবর্তীতে তিনি একসাথে ২০ বিঘা পেয়েরা বাগান করে। তবে এবছর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল করিম পল্লবের পরামর্শে ১২ বিঘা জমিতে মিশ্র বাগান করেন। এই নতুন বাগানে উন্নত জাতের পেয়ারা (থায় ৫)এবং থায় এস্পেশাল আম লাগানো হয়েছে। ইতিমধ্যে পয়ারা গাছ পর্যাপ্ত পেয়ারা এসেছে। তার নার্সারী এবং পেয়ারা বাগানে তিন জন সুপার ভাইজার এবং ৩০ জন লোক কাজ করে। তবে মৌসুমে দুইশত লোকের কর্মসংস্থান হয় তার এই নার্সারী এবং ফল বাগানে।

এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক এবং যারা লেখাপড়া জানেনা তাদেরকে কৃষি কাজে আগ্রহ এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও বিভিন্ন জাতের গাছের চারা নিয়ে বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে শতশত পাইকারী ও খুচরা চারা ব্যবসায়ীরা। তার উৎপাদিত ফল এবং গাছের চারা বিক্রয় হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। নার্সারী ব্যবস্যাকে কেন্দ্র করেই তার ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
শোভন নার্সারীর মালিক জুলফিকার আলী বিশ^াস বলেন, ১৯৯৩ সালে ডিগ্রী পাশ করার পর তিন বন্ধু মিলে একটি নার্সারী করার সিদ্ধান্ত নিয়। পরে কোন চাকুরি না করে ২বিঘা জমিতে একটি নার্সারী করা হয়। প্রথম বছরেই ২৫০০০/- হাজার টাকার বেচাকেনা করা হয়। পরবর্তীতে পর্যায় ক্রমে ৫৬ বিঘা জমিতে নার্সারী করা হয়। পিতার জায়গা জমি থাকা সত্তেও আমরা নিজেদের প্রচেষ্টাই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। নার্সারী ব্যবস্যা করে অনেক লাভবান হয়েছি। আমরা তিন বন্ধুই এখন আলাদা আলাদা নার্সারী এবং বাগান করেছি। বর্তমানে ৩০ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান, ১২ বিঘা জমিতে মিশ্র বাগান এবং ২০ বিঘা জমিতে নার্সারী করা হয়েছে। এখন পেয়ারা বিক্রয় করে প্রতি বছরে ১বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে ৩লক্ষ টাকা লাভহয়। এবং নার্সারী থেকে মৌসুমে প্রতিদিন ৩০হাজার থেকে ৪০হাজার টাকা আসে। তিনি আরো বলেন লেখাপড়া করে যে চাকুরিই করতে হবে তার কোন মানে নেই। আমরা প্রমান করে দিয়েছি এলাকাসহ বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র কৃষি বিল্পবের মাধ্যমেই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব।

নার্সারী শ্রমীক সুমন এবং শরিফুল ইসলাম জানান, এখানে বারমাসিই কাজ করা হয় এখানে, অনান্য সময় কাজ কম হলেও মৌসুমে কাজ অনেক বেশি হয়। এখানে অনেক রকমের চারা আছে এই নার্সারীতে। চারা রোপন করা, পলি ব্যাগে মাটি ভরা, বীজ তৈরী করা, চারা ওঠানো, কলম বাধা, চারা গাছের পরিচর্জা করাসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়।

স্বরুপপুর ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল করিম পল্লব জানান, এখানে নার্সারী ও পেয়ার বাগান, সবজীসহ বিভিন্ন রকমের চাষ হয়। আমরা কৃষি বিভাগ কৃষদেরকে প্রযুক্তিগত ভাবে সবধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে। যাতে করে এই নার্সারী, পেয়ারা এবং সবজি চাষের উপরেই উন্নতি করতে পারে তার জন্য সমস্ত সহযোগীতা আমরা করছি। এবং এই এলাকার কৃষকেরা কর্মদিবসেই হোক বা বন্ধের দিনই হোক যখন ফোনদিলে আমরা ছুটে আসি সব ধরনের পরামর্শ দিয়। নতুন করে ফুলফিকার আলী বিশ^াসকে পরমর্শ দেওয়া হয় যে আপনি শুধু পেয়ার চাষেল মধ্যেই থেমে থেকেন না এর সাথে একটি মিশ্র বাগান করেন। এখন তিনি ১২বিঘা জমিতে একটি মিশ্র বাগান করা হয়েছে। পেয়ারা চাষেল পশাপাশি নতুন জাতের আম (থায় ৫) নামে একটা জাত লাগানো হয়েছে যেটা বছরে ৫বার আম ধরে। যাতে করে পেয়ারা শেষ হয়ে গেলে আম গাছটা স্থায়ী হবে। এবং এই আমটা ব্যপক ভাবে জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশাবাদি।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ: জি এম আব্দুর রউফ জানান, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর দানাদার খাদ্য শস্যের স্বয়ংসম্পন অর্জনের পর খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এরি আলোকে ফল বাগান করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অনেক কৃষক পরমর্শ শুনে ফল বাগান করেছেন। মহেশপুর উপজেলায় জুলফিকার আলী বিশ^াস তিনি ৪২বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেছেন। তার ২০ বিঘা জমিতে একটা নার্সারী আছে। তিনি নার্সারী ব্যবস্যা এবং ফল বাগান করেই অনেক লাভবান হয়েছেন। বিশেষ করে ফল উৎপাদনে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন। জুলফিকার ছাড়াও এলাকার অনেক কৃষক এই ফল বাগান এবং নার্সারী করে স্বলম্বী হচ্ছেন। বিডিটুডেস/আরএ/০৭ জুলাই, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve + 6 =