English Version

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখন গবাদিপশুর চারণক্ষেত্র!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: গরু-ছাগলের অবাধ চারণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(নোবিপ্রবি) পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেখা গেলেও মেলেনি তার কোনও প্রয়োগ। প্রায়শই বিশ্ববিদ্যালয় গোলচত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্যের বাউন্ডারির ভেতর নিরবিচ্ছিন্নভাবে গরু-ছাগলের চলাচল এবং সেখানে থাকা গাছপালা খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ দৃশ্য শুধু যে গোলচত্বরেরতা নয়।

ক্যাম্পাসের চলাচলের রাস্তায়,অডিটোরিয়ামের চারপাশে,মাঠে,ধানক্ষেতে,হলের আশপাশে ওশিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডরমেটরিসহ সবখানেই দেখা যায় একই দৃশ্য। এ বিষয় নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন,ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গোবর পড়ে থাকে। ক্যাম্পাস আমাদের। সেটি সুন্দর এবং পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটা যেমন আমাদের তেমনি প্রশাসনেরও এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,প্রায় প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ভর্তি পরীক্ষার আগে অনেক টাকা খরচ করে গাছপালা লাগানো হয়। কিন্তু গবাদিপশুর অবাধ বিচরণের ফলে তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন আনসার ও মালির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ঘোরাঘুরি করা এ গরুগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান স্যারের বাংলোর।’

তবে উপাচার্যের বাংলোর গরুর সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে কেউই এর সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, উপাচার্যের অজান্তেই তার নাম ব্যবহার করে কিছু শ্রেণির কর্মচারী অনৈতিক উপায়ে টাকা উপার্জন করছে। তারা বাইরে থেকে আসা গরুগুলো উপাচার্যের গরু বলে চালিয়ে দিচ্ছে এবং গরুর মালিকদের কাছ থেকে দেখভাল বাবদ চাঁদা গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল বলেন,‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলবো।’ এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কিছু গরু আছে।তবে সেগুলো সবসময়ই বাঁধা থাকে। এগুলো কারোর কোনও ক্ষতি করে না। তবে বাইরে থেকে কিছু গরু-ছাগল ক্যাম্পাসের ভেতরে আসে। সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অ্যান্ড হাউজিং শাখায় খোঁজ নিলে সেকশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান,

‘অবাধে ঘোরাঘুরি করা এসব গরু বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন পকেট গেইট ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করছে। স্টেট শাখার পক্ষ থেকে ওই গেটে একজন আনসার নিযুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ বিডিটুডেস/আরএ/২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 1 =