English Version

নৌকার মাঝি হতে চান সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মাসুদ উল হাসান, বকশীগঞ্জ-জামালপুর: জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) সংসদীয় আসনে নৌকার মাঝি হতে চান ক্লিন ইমেজ খ্যাত রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ (মেডিসিন)। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন। সেই সাথে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সালাম ও আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের ঘরে ঘরে।

সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ মেডিসিনের পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত। তাই শিশু বয়সেই জতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারন করেন তিনি। ছোট্ট সময় থেকেই আওয়ামীলীগের মিছিল বের হলেই ছুটে যেতেন মিছিলে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পর পর দুই মেয়াদে বকশীগঞ্জ সরকারী কিয়ামত উল্লাহ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সততা, নিষ্ঠার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যান স¤পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সমাজ কল্যান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের ১নং সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক স¤পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়,আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ (মেডিসিন) তৃনমুল নেতাকর্মীদের সমর্থনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ ইং সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান। জনপ্রিয়তা থাকা শর্তেও তাকে মনোনয়ন না দেয়া হলেও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন তিনি।

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে শতাব্দীর মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর থেকে জিয়াউর রহমান ও স্বৈরাচারী এরশা˜ বিরোধী আন্দোলনে হরতাল, ঘেরাও, অবরোধ, শোভাযাত্রা সহ সকল আন্দলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। যে কারনে নির্মমভাবে নির্যাতিত হন। ১৯৯৮ সালে ভোটার বিহীন নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান ক্লীন ইমেজের এই সাবেক ছাত্র নেতা। ওই সময় আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৯০ এর সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির দুঃশাসন থেকে দেশের জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে সকল আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশ গ্রহন ছিলো চোখে পড়ার মত।

জামালপুর-১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ (মেডিসিন) বলেন,আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আমার প্রাণ। আমার দেহের শিরা উপ-শিরায় বইছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। আওয়ামীলীগের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে রাজি আছি।

তিনি আরো বলেন,২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, যুব মহিলালীগ, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক, আইনজীবিসহ আওয়ামীলীগ পরিবারের লোকজনদেরকে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ী পোড়ানো, বাড়ী দখল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার, নির্যাতন চালানো হয়। হাজার হাজার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীকে বাড়ী ছাড়া ও দেশ ছাড়া করেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। এই ভয়াবহ নির্যাতন থেকে জামালপুর জেলার প্রত্যান্ত বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, সানন্দবাড়ী এলাকার লোকজনও রেহাই পায়নি। শত শত নেতা কর্মীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার, নির্যাতন ও এলাকা ছাড়া করে। আমি শত শত নেতা কর্মীর সাথে দেশের বিভিন্ন জেলখানায় দেখা করি এবং তাদের পাশে দাড়াঁই। এলাকা ছাড়া নেতাকর্মীদের আর্থিকসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করি।

জানা যায়,২০০২ সালের ভৈরবে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর রহমান ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,উপ- প্রচার স¤পাদক অসীম কুমার উকিল, অজয়কর খোকন, লে. কর্ণেল (অবঃ) নূর খান, লে. কর্ণেল (অবঃ) শাহজাহান, গৌতম পালের সাথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন। ওই সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা লংমার্চে বকশীগঞ্জ, জামালপুর, নান্দিনা, নুরুন্দি, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ এবং হালুয়াঘাট থেকে একটি টিম নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাবের হোসেন চৌধুরী, ড.আব্দুর রাজ্জাক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আহম্মদ হোসেন, শফি আহম্মেদ , রানা হামিদ, মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, গৌতম পালের সাথে মিলিত হয়ে ময়মনসিংহে মহাসমাবেশে যোগদান করেন। সেই সমাবেশ ময়মনসিংহ, ত্রিশাল, ভালুকা, জয়দেবপুর, গাজীপুর হয়ে ঢাকায় পৌঁছে। পরে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী, মুকুল বোষ, রাশেদ মোশারফ ও গৌতম পালের নেতৃত্বে জামালপুর, শেরপুর,নেত্রকোনা জেলা সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক, অসীম কুমার উকিল, মনজুর কাদের কোরেশী, রানা হামিদ, এ্যাড. আব্দুল মতিন ও গৌতম পালের নেতৃত্বে জামালপুর ও শেরপুরে সাংগঠনিক সফর করেন তিনি। ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনশন ও ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউটে আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদ। ওয়ান ইলেভেনে প্রায় প্রতিদিন তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,আহম্মেদ হোসেন, বি.এস. মোজাম্মেল , আফজাল হোসেনের সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ গ্রহন করতে দেখা যায় তাকে।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন জানান,২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় সাবেক তথ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ এমপিকে। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা হয় আমাকে। দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিপুল ভোটের ব্যাবধানে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সক্ষম হই।

তিনি আরো বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্টার লক্ষে দেশরত্ব, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন-২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্টিত হবে। যেখানে থাকবেনা দারিদ্র, বেকারত্ব, যেখানে থাকবে বিশ্বমানের ও.ঈ.ঞ. প্রকল্পসহ আরো অন্যান্য যুগোপযোগী প্রকল্পসমূহ, যাতে করে সৃষ্টি হবে অজস্র কর্মসংস্থানের সুযোগ, অদূর ভবিষ্যতের বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার মানসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে জামালপুর-১ বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ সংসদীয় আসন প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিব ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন একজন সুনামধন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তিনি ঢাকার সিটি হার্ট ব্যবসায়ী সমিতি নির্বাচনে দুই বার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি কার্য নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য। এ্যানিমেল হেলথ কো¤পানীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অঐঈঅই) এর কার্য নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, বর্তমান বকসীগঞ্জ সমিতি ঢাকা’র সহ-সভাপতি,জামালপুর সমিতি ঢাকা’র সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া নিজ গ্রামে,প্রতিবন্ধী শিক্ষালয়,মাদ্রাসা,মসজিদ,স্কুল প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, বিবাহ, চিকিৎসা, রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং হতদরিদ্রদের দান খয়রাত করাসহ ইত্যাদি সমাজসেবা মূলক কাজের সাথে স¤পৃক্ত রয়েছেন তিনি। তিনি এলাকায় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত।

বিডিটুডেস এএনবি/ ১২.০৯.১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − sixteen =