English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

ফেসবুক রোবট বানাচ্ছে আপনাকে

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

‘একমাত্র ঈশ্বরই জানেন ফেসবুক আমাদের সন্তানদের মস্তিষ্ক নিয়ে কিভাবে খেলছে’। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট সিন পার্কার। তার এই মন্তব্য উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান সহ বিশ্ব গণমাধ্যমে ৮ আট কোটির বেশি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির গ্রাহক উন্নয়ন বিষয়ক সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যামাথ পালিহাপিথিয়া বলেছেন—ফেসবুক মানুষের সামাজিক বন্ধন নষ্ট করে দিচ্ছে। তার নেতৃত্বেই ফেসবুক তার প্রথম ২০০ কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করেছিল। ক্যামাথ বলেছেন, মানুষের ভেতরের কিছু সহজাত দুর্বলতাকে পুজি করে ফেসবুক মূলত মানুষকে ধীরে ধীরে রোবটিক জীবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সস্তা প্রচারের লোভে মানুষ নিজের মেধা ও সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগানোর কথা ভুলে যাচ্ছে। এই মাধ্যমটিকে এক ধরনের ‘মাদক’ হিসেবে উল্লেখ করে গ্রাহকদের এতে আসক্ত করার জন্য নিজে এখন প্রচন্ড অপরাধবোধে ভুগছেন  বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, মানুষকে ফেসবুকে আসক্ত করার জন্য মানব মনের দুর্বল জায়গাগুলোকে টার্গেট করার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের সব কর্ণধার মিলেই নিয়েছিলেন এবং সফলভাবেই তাদেরকে  ‘লাইক, কমেন্ট, শেয়ার’ এর ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।

হাড় ক্ষয় রোগের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন (দেখুন ভিডিওতে)

ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ডের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসে ভাষণে ক্যামাথ আরো বলেন, সমাজব্যবস্থায় মানবীয় বন্ধন এতদিন যেভাবে কাজ করত আমরা এই যন্ত্র (ফেসবুক) তৈরী করে সেটি টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। নিজেদের স্বার্থেই সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যম থেকে ‘লম্বা ছুটি’ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এটি মূলত ডোপের (মাদক) মতো খুব স্বল্পমেয়াদে আপনার মনে আনন্দ বিলি করে ফিডব্যাক ফাঁদে ফেলে দেয়। ফিডব্যাক ফাঁদ বলতে তিনি কোনো লেখা কিংবা ছবি পোস্ট করে ‘লাইক, কমেন্ট, রিয়েকশন’ ইত্যাদির জন্য অপেক্ষাকে বুঝিয়েছেন। এটি মানুষকে ‘গুজবখেকো’ (রিউমার-গবলার) জীব হিসেবে তৈরী করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ক্যামাথ আরো বলেন, সোস্যাল মিডিয়া যেভাবে মানুষকে চালাতে চাচ্ছে মানুষ সেভাবেই চলছে। এই মাধ্যমে অনেকে নিজেকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাশ করে ভঙ্গুর জনপ্রিয়তা (ব্রিটল পপুলারিটি) পাচ্ছে, কিন্তু দিন শেষে তার ভেতরটা যেমন ফাঁপা তেমনটাই থেকে যাচ্ছে। মাঝপথে তার নিজেরই ক্ষতি হচ্ছে।

তার এই মন্তব্য নিয়ে প্রকাশ করা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন টুইটারে হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে এবং লাখো মন্তব্য পড়েছে। বেশিরভাগই তার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। টুইটারে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অবশেষে ফ্রাংকেস্টাইনরা বুঝতে পারছেন তাদের সৃষ্ট দানবটা ভালো ছিল না’! সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান।

আরো পড়ুন : মনযৌন সমস্যা কি?

বিডিটুডেস/এমএস/২০ডিসেম্বর, ২০১৭