English Version

১২ মাসী শসা চাষের পদ্ধতি

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: শসা শুধু সালাত হিসেবে নয় সবজি হিসেবেও খাওয়া যায়। শসার মধ্যে অধিকাংশ থাকে পানি। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়,শসার প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অংশে ৯৬% জলীয় অংশ, ০.৬ গ্রাম আমিষ, ২.৬ গ্রাম শ্বেতসার, ১৮ মিঃ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.২ মিঃ গ্রাম লৌহ, ক্যারোটিন ৪০ মাইক্রোগ্রাম, খাদ্যপ্রাণ সি ১০ মিঃ গ্রাম রয়েছে। আমাদের দেশে শসা সালাদ তালিকার প্রথম রাখা হয়। এছাড়াও শসা রূপ চর্চার জন্যও ব্যবহার করা হয়। শসা ও খিরা খেতে প্রায় একই রকম হলেও দুটি একটু আলাদা। আসুন জেনে নেই শসার চাষ পদ্ধতি। মাটি:দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়৷ বীজ-বোনার সময়: ১২ মাসী বিধায় এই বীজ বছরের যে কোন সময় বপন করা হয় তবে অতীব শীতে এই বীজ বপন না করাই উত্তম। বীজের হার:এক শতকে-২-৩ গ্রাম, একর-প্রতি-২০০-৩২৫ গ্রাম, হেক্টর-প্রতি-৫০০-৮০০গ্রাম জমি তৈরি:বার চারেক চাষ ও মই দিয়ে জমির মাটি ঝুরঝুরে করে নেওয়া হয়৷ আগাছা সম্পূর্ণ পরিষ্কার কেও ক্ষেত সমতল করে নিতে হবে৷ মাদা-তৈরি:৫০-৮০ সে. মি. চওড়া ও গভীর-গর্ত তৈরি করতে হয়৷ মাদার দূরত্ব:২-২.৫ মি: দূরে মাদা তৈরি করতে হয়৷ বহুয়ে শসার দূরত্ব আরও কম। বীজ বপন : প্রতি মাদায় ৪-৫টি বীজ লাগাতে হয়৷ বীজ একদিন ও একরাত ভিজিয়ে-লাগানো ভালো৷ সার-ব্যবস্থাপনাঃ সার একশতকে একর-প্রতি হেক্টর-প্রতিঃ । গোবর ২০কেজি ২.০ টন ৫টন । খৈল ১কেজি ১৩০ গ্রাম ১১৩ কেজি ২৮০ কেজি । টিএসপি ৬০০ গ্রাম ৬০কেজি ১৫০ গ্রাম । এমপি ৪০০ গ্রাম ৪০কেজি ১০০ কেজি । ইউরিয়া ৪০০ গ্রাম ৪০কেজি ১০০ কেজি

সার দেয়ার নিয়ম: বীজ বোনার ৭-৮ দিন আগে সব সার গর্তের মাটির সাথে মিশাতে হবে৷ বীজ বোনার ২০-২৫ দিন পর ইউরিয়া সারের প্রথম অর্ধেক এবং প্রায় দেড় মাস পর ইউরিয়া সারের পরের অর্ধেক প্রয়োগ করতে হবে৷ অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যাঃ শীত ও গরমকালে ৭-১০ দিন অন্তর সেচ দেওয়া দরকার হয়৷বর্ষাকালে পানি নিকাশের জন্য নালার বন্দোবস্ত রাখতে হবে৷নিড়ানিদিয়ে জমি পরিষ্কার রাখতে হবে৷এছাড়া৩-৪ সপ্তাহ পর, সব বীজ অঙ্কুরিত হলে, মাদা পিছু ৩টি গাছ রেখে, অন্য গাছগুলি তুলে-ফেলা হয়৷ পোকা ও রোগ দমনঃ গান্ধীপোকা ও বিটল পোক (এপিল্যাকনা বিটল ও রেড পামকিন বিটল): গান্ধী পোকা ও বিটল পোকা-গাছের পাতা খায় এবং ফুলের রস চুষে খেয়ে গাছ দুর্বল করে দেয়৷ এপিল্যাকনা বিটলের গায়ে কাটা যুক্ত হলদে রং এর গ্রাব খুব দ্রুত গাছের পাতা খায়৷ এই সব পোকা দমনের জন্য সাড়ে১২ লিটার পানিতে চা চামচের দেড় চামচ পরিমাণ ম্যালাথিয়ন ঔষধ মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকা-দূর হবে৷ খেয়াল রাখতে হবে যে, ঔষধ ছিটানোর কমপক্ষে ৭ দিন পর্যন্ত ফল বাজারে বিক্রি বা খাওয়া যাবে না৷ ফলের মাছি পোকা: এই পোকা ফল ছিদ্র করে ডিম পাড়ে এবং পরবর্তীতে ঐ ফলের মধ্যে জন্মায় এবং ফল পঁচে যায়৷ এই পোকা দমনের জন্য কচি ফল কাগজ, কাপড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে৷ ফল বড় হওয়ার পর যখন খোসা শক্ত হয় তখন আর এই পোকা ফল ছিদ্র করতেপারেনা৷ ক্ষেতে পোকার আক্রমন খুব বেড়ে হেলে সাড়ে ১২ লিটার পানিতে চা চামচের ২ চামচ-পরিমাণ ডিপটেরেক্স ঔষধ মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকা দূর হবে৷ খেয়াল রাখতে হবে যে, ঔষধ-ছিটানোর কমপক্ষে ৭ দিন পর্যন্ত কোনো ফল বাজারে বিক্রি বা খাওয়া যাবে না৷

মাছি-পোকা দমনের বিষটোপ তৈরি ও ব্যবহার : বিষটোপের জন্য ১০০ গ্রাম পাকা মিষ্টি কুমড়া কুচি কুচি করে কেটে থিতলিয়ে ০.৫ মিলি লিটার (১২ ফোটা) নগস অথবা ডিডিভিপি ১০০ তরল এবং ১০০ মিলিলিটার পানি মিশিয়ে ছোট একটি মাটির পাত্রে রেখে ৩টি খুঁটির সাহায্যে মাটি থেকে ০.৫মিটার উঁচুতে রাখতে হবে৷ খুঁটি তিনটির মাথায় অন্য একটি বড় আকারের মাটির পাত্র রাখতেহবে৷বিষটোপ গরমের দিনে ২ দিন এবং শীতের দিনে ৪ দিন পর্যন্ত রাখার পর তা ফেলে দিয়ে নতুন করে আবার তৈরি করতে হবে৷ মাছি পোকার সংখ্যা বিবেচনা করে প্রতি হেক্টরে ২০-৪০টিবিষটোপ ব্যবহার করা যেতে পারে৷ পাউডারিমিলিডিউ রোগ: এই রোগে পাতার উপর সাদা পাউডার দেখা যায় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফলন হ্রাস পায়৷ এই রোগ দূর করার জন্য ২০ গ্রাম থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউপি ১০ সেরপানির সংগে মিশিয়ে ভাল করে পাতা ভিজিয়ে দিতে হবে৷ এই পরিমাণ ৫ শতক জমিতে দেয়া যায়৷প্রতি বিঘার জন্য ১২০ গ্রাম ঔষধ দরকার৷ হইবে৷ ঔষধ প্রয়োগের ১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা বা খাওয়া যাবে না৷

আনথ্রাকনোজ রোগ: এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে পাতায় হলদে দাগ হয়, পরে দাগগুলো বাদামি বা কালো হয়ে ঐ অংশ পচে যায়৷ ফলের বহিরাবরণেও এই বাদামি দাগ দেখা যায় ও ফল পচে যায়৷ এর প্রতিকারের জন্য বীজ লাগানোর পূর্বে বীজ শোধণ করতে হবে৷ ১ সের বীজ ২.৫ গ্রাম ভিটাভেক্স২০০ নামক ঔষধ দ্বারা উত্তমরূপে মিশাতেহবে৷ তাছাড়া ক্ষেতে রোগ দেখা দিলে ডায়থেন ৪৫ গ্রাম ১০ সের পানির সংগে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে৷ ক্ষেতে রাসায়নিক ঔষধ দেবার অন্তত সাত দিন পর্যন্ত ঐ ক্ষেতের শিম বিক্রিবা খাওয়া যাবে না৷এই রোগ দমনের জন্য ঘরে তৈরি বোর্দ মিশ্রণ আক্রান্ত গাছে ছিটানো যেতে পারে৷ এক শতাংশ জমির জন্য এই বোর্দ মিশ্রণ তৈরির করতে সাড়ে সতেরো লিটার পানির সাথে ৩৫০ গ্রাম পাথুরে চুন ও অন্য সাড়ে সতেরো লিটার পানির সাথে ৩৫০ গ্রাম তুঁতে আলাদা আলাদা ভাবে মাটির পাত্রে মিশাতে হবে৷ পরবর্তীকালে এই দুই মিশ্রণ পুনরায় অপর এক মাটির পাত্রে ভালোভাবে মিশাতে হবে এবং আক্রান্ত গাছে ছিটাতে হবে৷ ১৫ দিন পর পর এভাবে নতুন মিশ্রণ তৈরি করে ছিটাতে হবে৷ ফসল তোলার পর গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে৷ ফসল সংগ্রহ ও ফলনঃ কাঁচা খাওয়ার জন্য শসা পাকানো হয় না৷ তবে রান্না করে খেতে হলে কিছু পাকিয়ে নেওয়া ভাল৷কাজেই সবুজ থাকতেই শসা তুলে ফেলা হয়৷ জমিতে লক্ষ্য রেখে মাঝে মাঝেই শসা তুলে নেওয়াহয়৷ একবার সংগ্রহ আরম্ভ হলে ৪-৫ দিন অন্তর অন্তর ফল তুলতে হয়৷ শসার ফলন এক শতকে-৪০-৮০কেজি, একর-প্রতি-৪-৮ টন, হেক্টর-প্রতি-১০-২০ টন৷ বিএনএল২৪ অবলম্বনে, বিডিটুডেস/আরএ/০৭ নভেম্বর, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nine − four =