English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


মোবাইল ব্যাংকিং হল মুহূর্তেই টাকা পাঠানো ও তোলার একটি সেবা। দিন দিন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। বিকাশ বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী মাধ্যম। এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই জনপ্রিয়তার সুযোগ নেয় প্রতারক চক্র। এই প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে তারা হরহামেশাই ঘটাচ্ছে নানা প্রতারণার ঘটনা।

মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহক ও বিকাশ এজেন্ট তাদের নিজ নিজ অ্যাকাউন্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট পিন নম্বর ব্যবহার করেন। এই পিন বা অ্যাকাউন্ট নম্বর হ্যাক করে সাইবার অপরাধীরা নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। এভাবে মোবাইল ব্যাংকিং এ লেনদেনের সময় গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ হতে পারে। কয়েকটি প্রতারক চক্র কিছু গোপন কোড ব্যবহার করে ভুয়া এসএমএস দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। চক্রটি অনেক ক্ষেত্রে হ্যাক করে কিংবা মেসেজ পাঠিয়েও সাধারণ রিচার্জ ব্যবসায়ী ও এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বিকাশে অন্যের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য বড় ধরনের সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় রয়েছে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দক্ষ কায়দায় তারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের টাকা লুফে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে অপরাধী চক্র মোবাইলে ভুয়া কল বা ম্যাসেজের মাধ্যমে সরল গ্রাহকের কাছ থেকে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে থাকে। তারপর ঐ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। এছাড়া অনেকসময় গ্রাহককে লোভনীয় অফার দিয়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্টের নম্বর চাওয়া হয়। এসব ধূর্ত প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিকাশে টাকা আদান-প্রদানে প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে নিচের পরামর্শগুলো মনে রাখুনঃ

ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলে মোবাইলে টাকা আদান-প্রদান তুলনামূলক নিরাপদ, তাই ব্যাংকে একটি হিসাব খুলে রাখুন।
আপনার অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর ভালভাবে সংরক্ষণ করুন যাতে অন্য কেউ জানতে না পারে।
টাকা পাঠানোর সময় যাচাই করে নিন এজেন্ট অনুমোদিত কিনা।
ব্যাংকিং সংক্রান্ত ম্যাসেজগুলো অন্যের কাছে গোপন রাখুন।

বিকাশে অর্থ আদান-প্রদানে হ্যাকিং-এর শিকার হলে কি করবেন

বিকাশে প্রতারণার ফলে ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হতে পারেন। তবে, সরকার এ ধরণের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে দেশের নাগরিকদের রক্ষা করা জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করছে। মোবাইল ব্যাংকিং এ প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন তা হল-

কেউ মেসেজ করলে সেটি সংগ্রহে রাখুন, যে নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়েছে সে নম্বরটি আলাদা করে লিখে রাখুন। যদি সম্ভব হয়, কল রেকর্ড করে রাখতে পারেন, না পারলেও সমস্যা নেই।
এরপর নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।
বিষয়টি যদি তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর আওতায় পড়ে তাহলে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করুন বা প্রয়োজনে সাধারন ডায়েরি করে রাখতে পারেন।
যদি থানায় কোনো কারণে অভিযোগ গ্রহণ না করে তাহলে নিকটস্থ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে কমপ্লেইন্ট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।
যদি কোনো কারনে তাও সম্ভব না হয় তাহলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর আওতায় নিয়ন্ত্রক, সিসিএ বরাবর অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
নিয়ন্ত্রক, সিসিএ বরাবর অভিযোগ দায়ের এর ক্ষেত্রে সরাসরি ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করা যাবে। ইমেইল: [email protected]
বিস্তারিত জানতে ফোন করুন- ০২-৫৫০০৬৮১৯ বা ভিজিট করুন www.cca.gov.bd