English Version

ব্যবসা করার জন্য যে পাঁচটি বিষয় আপনার অবশ্যই জানা দরকার 

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: নতুন নতুন আইডিয়া ছাড়া কোন ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করা অসম্ভব। কিন্তু অনেক উদ্যোক্তারাই নতুন কি নিয়ে ব্যবসা ব্যবসা শুরু করবে তার আইডিয়া সংকটে থাকে। কথায় আছে, ‘পরিকল্পনা করতে যে ভুল করলো, সে যেন অকৃতকার্য হওয়ার পরিকল্পনাই তৈরি করলো। তাই যে কোন কাজ করার আগে একটি ভাল পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেটি যখন ব্যবসায়ের জন্য করা হয়, তখন তা অবশ্যই হতে হবে নিখুঁত। ব্যবসায় পরিকল্পনা করার সময় যে পাঁচটি বিষয় আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে চলুন জেনে নিই সেসব।

প্রতিঘন্টার সর্বশেষ সংবাদ জানতে সাবস্ক্রাইব করুন

পরিকল্পনা করতে হবে: একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করে ব্যবসার সফলতা। একটি সম্পূর্ণ নতুন কোম্পানির জন্য বিজনেস প্লান খুব শক্ত হয়। ব্যবসায়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে মৌখিক কোন পরিকল্পনা বা চুক্তির মূল্য নেই। পরিকল্পনা অবশ্যই লিখিত হতে হবে। উদ্যোক্তাদের মাথায় প্রতিদিনই কোন না কোন পরিকল্পনা আসে। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক তা লিখে ফেলতে হবে। যেমন প্রাথমিক অবস্থায় কি রকম কোম্পানি, তার পণ্য বা সেবা কি হবে, মার্কেটিং কিভাবে হবে, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো কিভাবে সমন্বয় হবে। এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হলে একটা আদর্শ ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে  সাবস্ক্রাইব করুন

গবেষণা করতে হবে: আপনার ব্যবসায় পরিকল্পনা তখনই সফল হবে যখন আপনি এর সাথে গবেষণা যোগ করবেন। “এই ব্যবসায় পরিকল্পনাটা কি কাজ করবে? এই প্রশ্নটা যখন মাথায় আসবে তখনই উপযুক্ত সময় বাজার গবেষণা করে এর উত্তর খুঁজে নেয়ার। গবেষণা করে আরো যে সকল উত্তর খুঁজে নিতে পারেন। এই ব্যবসায়ের ইতিহাস কেমন? বাজারে এ পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান গুলোর কি অবস্থা? ভোক্তাদের চাহিদা কেমন? সারা বছরই কি এর চাহিদা থাকে? ব্যবাসার বাজেট কেমন লাগবে?

যোগাযোগ দক্ষতা: আপনি যে ব্যবসাই করতে চান না কেন, আপনাকে অবশ্যই কমিউনিকেশনে ভালো হতে হবে। ক্রেতাদের ইমপ্রেস করা, টিম মেম্বারদের ম্যানেজ করা, ইনভেস্টর ধরে আনা, টাকা ধার করা, ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক তৈরী করা, প্রচারণা চালানো, কর্মীদের দিয়ে সেরাটা বের করে আনা – অর্থা‌ৎ একটি নতুন ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষ যোগাযোগের প্রয়োজন হবে। মানুষের সাথে কথা বলতে আপনার যদি সমস্যা হয় – তাহলে উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু এর মানে এই নয়, আপনার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। আপনার ভেতরে যদি কোনও রকমের জড়তা বা লজ্জা থাকে – অনুশীলনের মাধ্যমে তাকে আপনি জয় করতে পারেন। একজন মানুষের কাছে নিজেকে বিশ্বস্ত ও পছন্দনীয় করে তোলার জন্য হাসি মুখে মিষ্টি ভাষায় কথা বলা খুব জরুরী। অনেকেই এই কাজটি করতে পারেন না। প্রয়োজন হলে এই গুণ অর্জনের জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাকটিস করুন। শুধুমাত্র মুখের হাসি আর মিষ্টি ভাষা দিয়ে একজন মানুষের মন কয়েক মূহুর্তেই জয় করে নেয়া যায়। তাহলেই আপনি ব্যবসায় দ্রুত উন্নতি করতে পারবেন।

পরীক্ষামূলক বাজারে প্রবেশ ও মার্কেটিং: ‘আপনি’ এবং ‘আপনি কি করতে চাইছেন’ এটি ব্যবসায় পরিকল্পনা সমীকরণের অর্ধেকটা মাত্র। বাজার ভিন্ন একটি জিনিস। বই পড়ে পড়ে যতই আপনি ক্রিকেট খেলার সব নিয়ম জানেন না কেন, খেলার মাঠে নেমেই আপনাকে শিখতে হবে, কোন বলে কিভাবে ব্যাট করবেন,কোন মূহুর্তে কিভাবে বল করবেন তখন-ই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি যদি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল পণ্যটি তৈরি করে বসে থাকেন, কিন্তু ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা না থাকলে এটির কোনই মূল্য নেই। তাই ব্যবসায় পুরোপুরি শুরু করার আগে আপনার পণ্যটি পরীক্ষামূলক ভাবে বাজারে ছেড়ে দেখতে পারেন। এরপর বিক্রয় কর্মীর থেকে গ্রাহকদের মতামত জেনে নিন।

মার্কেটিং মানেই হচ্ছে প্রচারেই প্রসার। আপনার ব্যবসাকে বড় করতে হলে মার্কেটিং যে ব্যাপারটা সেটা করতে হবে। উপযুক্ত পণ্য বানানোর পরই মার্কেটিং করাই আপনার কাজ হওয়া উচিত। কিভাবে এই প্রচারেই প্রসার করবেন ?আপনি কোন পত্রিকা ,টেলিভিশন বিলবোর্ড,ফেইসবুক, ইউটিউব বিভিন্ন ধরণের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বা ব্লগ মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন।

বিপণন পরিকল্পনা ও আর্থিক পরিকল্পনা নিখুঁত রাখতে হবে: এই অংশে থাকবে কীভাবে আপনি আপনার উৎপাদিত পণ্য বা সেবা গ্রাহকদের মাঝে পৌঁছে দিতে চান। ক্রেতার কাছে কীভাবে পণ্য পৌঁছাবে অর্থাৎ সরাসরি, পরিবেশক, নাকি পণ্য বিক্রেতার মাধ্যমে, তা এই অংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্রেতার চাহিদা, তা কীভাবে পূরণ করা হবে, কীভাবে পণ্য তাঁদের মধ্যে জনপ্রিয় করা যায়, পণ্যের দামের বিষয়ে ক্রেতারা কতটুকু সচেতন-এসব বিষয়ও থাকবে বিপণন পরিকল্পনায়। সব মিলিয়ে একটি ভাল কৌশল অবলম্বনই হবে একটি পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

ব্যবসায়ের একদম শুরু থেকেই যথাযথ ভাবে সব হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সবসময় তিনটি আর্থিক বিবরণী চোখের সামনে রাখতে হবে। ইনকাম স্টেটমেন্ট ,ক্যাশ ফ্লো প্রজেকশন, ব্যালান্স শিট। আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা প্রায়ই দুইটি ভুল করে থাকেন। প্রথমত, তারা খরচের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। ভাবনাটা এমন থাকে প্রথম প্রথম পণ্য বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে খরচ তো হবেই। এতে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়েও অধিক খরচ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, লাভের ক্ষেত্রে এরা অনেক বেশি পরিমাণ আশাবাদী হয়ে থাকে। এটা ঠিক যে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ভাল। তবে আপনাকে মুদ্রার অপর পিঠের চিত্রটাও মনে রাখতে হবে। মুনাফা তো হবেই-এই চিন্তাটা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মনে রাখতে হবে, অধ্যবসায় আর সংকল্প কোন কাজে সফলতার চূড়ান্ত চাবিকাঠি। আর তার সাথে যদি যোগ হয় একটি ভাল পরিকল্পনা, সফলতা তাহলে কিন্তু খুব বেশি দূরে নয়। তাই ব্যবসায়ের জন্যে একটি নির্ভুল পরিকল্পনা তৈরি করাটা জরুরী। বিডিটুডেস / ডি আই / ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − thirteen =