English Version

মিশরীয় পুরান – প্রথম মমির অজানা গল্প

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: মিশর বললেই আমাদের চোখে চারটি জিনিস ভেসে ওঠে। “মরুভূমি”, “পিরামিড”, “স্ফিংস” এবং “মমি”। আমরা জানি যে, প্রাচীন মিশরীয়রা মৃতের লাশকে পচনশীলতার হাত থেকে বাচাতে বিশেষ উপায়ে মমি করে রাখতো। এই মমি যে সকলকেই করা হতো, তা কিন্তু নয়। মমি করা ছিলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই শুধুমাত্র রাজা ও অভিজাতদেরকেই মমি করা হতো। প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী মৃতব্যাক্তিকে পুনরায় জীবিত করা হয়। এজন্য তার নতুন জীবনে আত্নার সাথে সাথে নিজের দেহটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মিশরীয়রা মমি করানোর মাধ্যমে তাদের রাজা ও অভিজাত ব্যাক্তিদের লাশ সংরক্ষন করতো। মমি সম্পর্কে মিশরীয়দের একটা পৌরানিক গল্প রয়েছে। বিশ্বদেব গেব এবং তার বোন আকাশ ও স্বর্গদেবী নুট এর মধ্য বিয়ে হয় কোনো এককালে।

তারফলে তারা একে একে জন্মদেন চার দেব-দেবী আইসিস, ওসিরিস, সেথ ও নেপথিস এর। এরমধ্য আইসিস বিয়ে করে ওসিরিসকে , এবং নেপথিস বিয়ে করে সেথকে। ওসিরিসের সময়, মিশরের ফারাও ছিলেন সূর্যদেবতা রা। ওসিরিস যৌবনে পৌছুতেই রা বৃদ্ধ হয়ে যান। তিনি ওসিরিস কে রাজ্যর ভার দিয়ে তার সূর্যরথে করে চলে যান স্বর্গে। ওসিরিস ছিলেন একজন দক্ষ ফারাও। তার রাজত্বকালে মিশর ছিলো শান্তিভূম। রাজা হয়েও ওসিরিস ছিলেন খুব ভ্রমনপিসাসু। প্রায়ই তিনি ভ্রমনে বের হতেন তার স্ত্রী রানী আইসিসকে রাজ্য বুঝিয়ে দিয়ে। স্ত্রী আইসিস ও স্বামীর মতো দক্ষ হাতেই রাজ্য চালাতেন। তবে এই পূন্যবান ওসিরিস একসময় তার ভাই সেথ এর স্ত্রী নেপথিস এর সাথে মিলিত হন। ওসিরিস এর ঔরসে নেপথিস এর গর্ভে আসেন আনুবিস। একথা জানতে পেরে তার ভাই সেথ ক্ষিপ্ত হয়ে ওসিরিসকে হত্যা করেন। ওসিরিসকে হত্যা করে তার শরীর ৪২ টুকরা করে সমগ্র মিশরে ছড়িয়ে দেন। [প্রাচীন মিশর ৪২টি অঙ্গরাজ্যে বিভক্ত ছিলো]। তারপর সেথ সিংহাসন দখল করেন। মিশরে নেমে আসলো অশান্তি।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

অন্যদিকে দেবী আইসিস জানতেন যে, অন্ত্যষ্টিক্রিয়া ছাড়া তার স্বামীর আত্না স্বর্গে পৌছুবে না। তাই যে কোনো ভাবে তার স্বামীর লাশ তার দরকার। তাই ওসিরিস এর স্ত্রী আইসিস এবং তার বোন নেপথিস বাজ অথবা চিলের রূপ ধরে সারা মিশর তন্ন তন্ন করে খুজতে থাকেন। এবং সমগ্র মিশর তন্ন তন্ন করে ওসিরিসের শরীরের ৪২টি অংশ খুজে বের করেন । তারপর মন্ত্রবলে ওসিরি্সের শরীরের ৪২টি টুকরা এক হয়। এজন্য আইসিস সাহায্য নেন জ্ঞানদেবতা থোথের। আইসিস তখনো পাখির রূপেই ছিলেন এবং তার দৈব পাখা দিয়ে বাতাস করে ওসিরিসের শরীরে প্রান ফিরিয়ে তোলেন। এবং গর্ভে ধারন করেন ওসিরিসের পর মিশরের একমাত্র যোগ্য উত্তরাধিকারী হোরাস কে। তারপর মমিদেবতা আনুবিস তার পিতার লাশ সংরক্ষনের জন্য প্রথম মমি তৈরি করেন। এভাবেই মিশরের মাটিতে তৈরি হয় প্রথম মমি। বিডিটুডেস/আরএ/০৭ মার্চ, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × two =