English Version

সংস্কার সময়ের দাবী এ নিয়ম ভাংতে হবে

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

শফিউল আলম, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ): মাওলানা আব্দুল বাসিত সুনামগঞ্জী সরলভাবে যে কথাগুলো লিখনীর মাধ্যমে জাতীর সামনে তুলে ধরেছেন তা হুবহু পেশ করব ইনশা আল্লাহ তিনি স্পষ্টবাদী ছিলেন তা আমি জানি কেননা উনার সাথে সম্পর্ক হয় যখন আমরা একই সময়ে সুনামগঞ্জ শহরস্থ হাসন রাজার বাড়ি সংলগ্ন দারুল হাদিস জামেয়া তেঘরিয়ায় শিক্ষক ছিলাম। তিনি আমার শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ সমতুল্য। সেই সময়েও তার মুখ থেকে নিচের কথাগুলো অনেক বার শুনেছি। এ কথাগুলো লিখনীর দ্বারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পেশ করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

 ইউটিউব এ সাবস্ক্রাইব করুন

সারারাত ওয়াজ! এ নিয়ম পরিহার করুন।
আমাদের সিলেট অঞ্চলসহ দেশের অনেক স্থানে দুপুর থেকে সারারাতব্যাপী এমনকি পরদিন বেলা ৮টা পর্যন্ত একটানা সারা এলাকা মাইকের আওয়াজে গমগম করে। অথচ রাত ১০টার পরই বেশীর ভাগ পিন্ডাল খালি থাকে, কিন্তু মাইক বন্ধ হয় না! মাইকের আওয়াজে কেউ কষ্ট পাচ্ছে কি না তা ভেবে দেখারও যেন কারও সময় বা সাহস নেই। মাইক আনছি সারা রাতের জন্য, মাইকের টাকা কী হালাল করতে হবে না? তো চলুক! অসুস্থ হার্ডের রুগীসহ ব্যক্তিগত হাজারও কাজে নিমগ্ন মানুষের কানের কাছে মাইক বেঁধে দিয়ে রাতভর ওয়াজ শুনতে বাধ্য করা কতটুকু যৌক্তিক তা উদ্যোক্তাদের ভেবে দেখতে হবে। হজরত ওমর (রা.)-এর যুগে জনৈক ব্যক্তি মসজিদে-নববীতে এসে প্রতিদিন বিকট আওয়াজে ওয়াজ শুরু করে, এতে পাশেই হুজরায় অবস্থানরত হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাজে ব্যাঘাত হতো, তাই তিনি হজরত ওমর (রা.)-কে বিষয়টি অবহিত করলে ওমর (রা.) ওই লোককে নিষেধ করে দেন। লোকটি কিছুদিন পর আবার ওয়াজ শুরু করলে ওমর (রা.) এসে তাকে শাস্তি দেন। (আখবারু মাদিনা : ১/১৫)

মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হয়, এমন জোরে কোরআন তেলাওয়াতও অবৈধ (ফাতহুল কদির ১/২৯৮, কিন্তু আমরা গভীর রাত পর্যন্ত মনুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘঠিয়ে কত যে কষ্ট দিচ্ছি তার খবরই নাই। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাহফিল হয় দিনব্যাপী। এতে মানুষের ঘুম নষ্ট হয় না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় হুজুর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রহ.) নিয়ম জারি করে গেছেন, তার অঞ্চলে ১২টার পর কোনো মাহফিল থাকে না। গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ হলে সাধারণ মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হওয়াসহ পরদিন ফজরের নামাজে ব্যাঘাত হবে, তাই গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ না হওয়াই কাম্য।

আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার কুফল ও প্রতিকার

অন্যদিকে কিছু নাস্তিক-মুরতাদ ও ছদ্মবেশী বেঈমান বুদ্ধিজীবী এসব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিন মিন সুরে ইসলামবিরোধী কথা বলার সুযোগ নেয়। তারা বলে, মাইকে আজান বন্ধ করা হোক। ওয়াজ মাহফিল যেন এতো বেশি না হয়। আমাদের বুঝতে হবে, যদি ইসলামের পাবলিক অধিকার আমরা না দেই। যদি আমরা নাগরিকদের শান্তির দিকে খেয়াল না রেখে ধর্মের নামে যাচ্ছেতাই করে বেড়াই। যদি বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ না শুনে এলেমহীন লোকজন গায়ের জোরে মসজিদ-মাদরাসা-খানকা ও মাহফিল চালায়। তাহলে দুশমনরা তাদের শয়তানি দাবীর পক্ষে কিছু হলেও জনসমর্থন পেয়ে যাবে। যারা জাহেল উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফলে বিরক্ত তারা ওইসব ইসলাম বিদ্বেষীর কথায় সমর্থন দেবে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। বিডিটুডেস এএনবি/ ০৮.০১.১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × five =