English Version

সরকারী চাল ডিলারের খাটের নিচে!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

অমর ডি কস্তা, গুরুদাসপুর(নাটোর): জালালশাহ নামের এক ডিলারের বাড়ির শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচ থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১৬ বস্তা সরকারী চাউল উদ্ধার করা হযেছে। সোমবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে পুলিশ ওই চালউদ্ধারকরে থানায় নিয়ে যায়।এঘটনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউল আত্মসাতের অভিযোগে ওই ডিলার জালালশাহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ তার ডিলারশীপ বাতিল করে উপজেলা প্রশাসন। এঘটনায় গুরুদাসপুর উপজেলাখাদ্য নিয়ন্ত্রকবাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ডিলার জালালশাহ পলাতক রয়েছেন।

এদিকে চাউল নিতে এসে শতাধিক দুস্থ চাউলনা পেয়ে নাজিরপুর বাজারে বিক্ষোভ করেন। এসময় নাজিরপুরই উনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাওকত রানা লাবু দুস্থদের দ্রুত চাউল দেওয়ার জন্য আশ্বত করেন। দুস্থ আলেয়া বেগম, মন্তাজআলী, জরিনা বেগমসহ অন্তত বিশজন দুস্থ জানান- সপ্তাহের রোবি, সোম ও মঙ্গলবার চাউল বিক্রির কথা থাকলেও তিনি নিয়োমিত চাউল বিক্রি করেন নি। চাউল নিতে আসলে মাঝে মাঝে সুবিধা ভোগিদের নানা কারণ দেখিয়ে ফিরিয়ে দিতেন। সর্বশেষ সোমবার এসে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়া যায়। অবশেষে চাউল না পেয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরেন তারা। গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক নুরে-আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ডিলার জালাল শাহের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় রোববার গভীর রাতে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার বাড়ির খাটের বক্সের নিচে সাজানো সরকারী সিলযুক্ত চাউলের বস্তা পাওয়া যায়। এসময় ৫০ কেজি ওজনের ১৬ বস্তায় ৮শ কেজি চাউল জব্দ করা হয়। পর দিন সকালে পুলিশ তার বাড়ি থেকে চাউল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ডিলার জালাল শাহের পক্ষে তার প্রথম স্ত্রী জাহানারা জানান, শুক্রবার রাতে নাজিরপুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তার স্বামী জালালশাহ ওই চাউলগুলো ট্রলিতে করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। জালালশাহ পলাতক থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওযা যায় নি।

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর ৩১২ বস্তাচাল গুরুদাসপুর খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন ওই ডিলার। ৫শ ২০ জনেরমধ্যে ১০ টাকা কেজিতে ৩ নভেম্বর থেকে ওই চাউল বিক্রি শুরুর কথা। কিন্তু কোন এক রাতে ওই চাল গুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন ডিলার। ডিলার জালালশাহ বেড়গঙ্গারামপুরের আব্দুর রাজ্জাক শাহ’র ছেলে। উপজেলার নাজিরপুর বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখান থেকেই তিনি সরকারী চাল বিক্রি করতেন। উপজেলাখাদ্য নিয়ন্ত্রক মোখলেছ আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই উদ্ধারকৃত চাউল ডিলার আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার বাড়ীর খাটের নিচ রাখে। সরকারি চাউল আত্মসাতের অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।তাছাড়া তার ডিলারশীপও বাতিল করা হয়েছে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান,নাজিরপুর ইউনিয়নের বেরগঙ্গারামপুর গ্রামে ডিলার জালাল শাহ’র ডিলার শিফ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে মামলা জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়োগকৃত ডিলার। বিডিটুডেস/আরএ/০৫ নভেম্বর, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 4 =